এরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, এদের সম্মানিত করুন
jugantor
এরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, এদের সম্মানিত করুন

  মো. মাহমুদ হাসান, কানাডা থেকে  

২৪ জুলাই ২০২১, ০১:৩১:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

চীনের উহান থেকে যাত্রা শুরু করে আজও পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে থেমে থেমে হানা দিয়ে চলেছে কোভিড-১৯। আপনজন হারানোর বেদনায় আহাজারি করছে মানব সমাজ।

অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় দিকভ্রান্ত শাসককুল। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞান আশার আলো হিসেবে আবির্ভূত হয়। আবিষ্কৃত হয় প্রতিরোধী ভ্যাকসিন। স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ অনুসরণ আর ভ্যাকসিন গ্রহণই স্বাভাবিক জীবনের আপাত উপায়- এটিই আজ পরীক্ষিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে আজ আলোর পথে। তবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা আর সামর্থ্যের তুলনায় সক্ষমতা নিতান্তই অপ্রতুল হওয়ায় এখনো পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারেনি।

সুসম্পর্কের সূত্রে ভারতে উৎপাদিত সেরামের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ওপরই ভরসা করে বাংলাদেশ। অনেক উন্নত দেশকে পেছনে ফেলে নানা সামাজিক রাজনৈতিক অপপ্রচারকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতেই ভ্যাক্সিনেশন শুরু করেছিল শেখ হাসিনার সরকার কিন্তু বিধি বাম। দিল্লিতে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় আর সারা ভারতে দ্রুত বর্ধমান আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে আটকে যায় কোভিড টিকার চালান।

ভ্যাকসিন বঞ্চিত বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিনেশন নিশ্চিত করতে হন্যে হয়ে নামে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার। সমন্বয়হীনতার বেড়াজালে মাঝে মাঝে দিকভ্রান্ত হলেও চেষ্টা থেমে থাকেনি। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাও চলতে থাকে সমগতিতে। এরই মাঝে আবার দায়িত্বশীলদের হতাশাও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাইতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলে বসলেন 'উন্নত দেশগুলো আমাদের ভ্যাকসিনের নামে মুলা দেখাচ্ছে।' এমন হতাশাজনক পরিস্থিতিতে চার দেশপ্রেমিক প্রবাসী বাংলাদেশি ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কার্ডিওলজির অধ্যাপক সিনেটর ক্যাথরিনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হাফিজের নেতৃত্বে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে জায়গা করে নেন অধ্যাপক ডা. মাসুদুল হাসান, অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আর সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী। আর এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে প্রফেসর ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, প্রফেসর আহমেদুল কবীর, কানাডিয়ান চিকিৎসক আরিফুর রহমান।

শৈশবের পাঠশালায় অনেক মহতী মানুষের জীবনী পড়েছি। বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি এসব জীবনী থেকে দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করে মহত্তম মানুষ সৃষ্টিই এর লক্ষ্য। আজ কেন যেন রাজনৈতিক অঙ্গনের মহতীদের ছাড়া অন্য কাউকে তুলে ধরতে আমরা বড়ই লজ্জিত হই। সম্মান জানাতে বড়ই কুণ্ঠা বোধ করি। এক সময় যাদের স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস বলা হতো তাদের আড়াল করে স্বাধীনতার ইতিহাস কি গৌরবান্বিত হয়? যারা জাতির পিতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে বাংলার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করেছিল, তাদের দূরে সরিয়ে ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস কি পূর্ণতা পায়? দেশপ্রেমিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে এমন প্রবণতা কতটুকু মানানসই?

যাদের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটির মাধ্যমে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই চার কৃতি বাঙালি তো দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যারা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে চরম দুঃসময়ে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থের বিনিময়ে সরকার ভ্যাকসিন ক্রয় করছে- এমন তথ্য প্রচার হলে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডিওলজির স্বনামধন্য অধ্যাপক ডা. হাফিজের নেতৃত্বে তিন সহযোগীসহ চার কীর্তিমান বাঙালিকে কি সম্মানিত করা হয়? এমন কর্মকাণ্ড কি কোনোভাবেই দেশপ্রেমিক প্রজন্ম তৈরির সহায়ক?

জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার দায়িত্ব আর দায়ভার বাংলার কোন নাগরিকের সাথেই তুলনীয় নয়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে একটি মূল্যবোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে তিনিই আশা আকাঙ্ক্ষার শেষ ভরসাস্থল। প্রবাসে থেকে প্রবাসের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেও যারা একাত্তর পরবর্তীতে সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে- এরা নির্ভেজাল দেশপ্রেমিক, শেখ হাসিনার সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী, এরাই বঙ্গবন্ধুর সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলার দর্শনের অগ্রনায়ক। তৈলবাজ, আদর্শহীন বাকপটুদের পরিহার করে এসব দেশপ্রেমিক সন্তানদের সম্মানিত করলে জাতি যেমন বহির্বিশ্বে সম্মানিত হবে তেমনি ভবিষ্যৎ দেশপ্রেমিক প্রজন্ম তৈরিতেও এটি হবে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, এদের সম্মানিত করুন

 মো. মাহমুদ হাসান, কানাডা থেকে 
২৪ জুলাই ২০২১, ০১:৩১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চীনের উহান থেকে যাত্রা শুরু করে আজও পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে থেমে থেমে হানা দিয়ে চলেছে কোভিড-১৯। আপনজন হারানোর বেদনায় আহাজারি করছে মানব সমাজ।

অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় দিকভ্রান্ত শাসককুল। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞান আশার আলো হিসেবে আবির্ভূত হয়। আবিষ্কৃত হয় প্রতিরোধী ভ্যাকসিন। স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ অনুসরণ আর ভ্যাকসিন গ্রহণই স্বাভাবিক জীবনের আপাত উপায়- এটিই আজ পরীক্ষিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে আজ আলোর পথে। তবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা আর সামর্থ্যের তুলনায় সক্ষমতা নিতান্তই অপ্রতুল হওয়ায় এখনো পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। 

সুসম্পর্কের সূত্রে ভারতে উৎপাদিত সেরামের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ওপরই ভরসা করে বাংলাদেশ। অনেক উন্নত দেশকে পেছনে ফেলে নানা সামাজিক রাজনৈতিক অপপ্রচারকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতেই ভ্যাক্সিনেশন শুরু করেছিল শেখ হাসিনার সরকার কিন্তু বিধি বাম। দিল্লিতে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় আর সারা ভারতে দ্রুত বর্ধমান আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে আটকে যায় কোভিড টিকার চালান। 

ভ্যাকসিন বঞ্চিত বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিনেশন নিশ্চিত করতে হন্যে হয়ে নামে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার। সমন্বয়হীনতার বেড়াজালে মাঝে মাঝে দিকভ্রান্ত হলেও চেষ্টা থেমে থাকেনি। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাও চলতে থাকে সমগতিতে।  এরই মাঝে আবার দায়িত্বশীলদের হতাশাও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাইতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলে বসলেন 'উন্নত দেশগুলো আমাদের ভ্যাকসিনের নামে মুলা দেখাচ্ছে।' এমন হতাশাজনক পরিস্থিতিতে চার দেশপ্রেমিক প্রবাসী বাংলাদেশি ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কার্ডিওলজির অধ্যাপক সিনেটর ক্যাথরিনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হাফিজের নেতৃত্বে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে জায়গা করে নেন অধ্যাপক ডা. মাসুদুল হাসান, অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আর সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী। আর এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে প্রফেসর ডা. এবিএম আবদুল্লাহ, প্রফেসর আহমেদুল কবীর, কানাডিয়ান চিকিৎসক আরিফুর রহমান।

শৈশবের পাঠশালায় অনেক মহতী মানুষের জীবনী পড়েছি। বড় হয়ে বুঝতে পেরেছি এসব জীবনী থেকে দৃষ্টান্তকে অনুসরণ করে মহত্তম মানুষ সৃষ্টিই এর লক্ষ্য। আজ কেন যেন রাজনৈতিক অঙ্গনের মহতীদের ছাড়া অন্য কাউকে তুলে ধরতে আমরা বড়ই লজ্জিত হই। সম্মান জানাতে বড়ই কুণ্ঠা বোধ করি। এক সময় যাদের স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস বলা হতো তাদের আড়াল করে স্বাধীনতার ইতিহাস কি গৌরবান্বিত হয়? যারা জাতির পিতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে বাংলার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করেছিল, তাদের দূরে সরিয়ে ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস কি পূর্ণতা পায়? দেশপ্রেমিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে এমন প্রবণতা কতটুকু মানানসই? 

যাদের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটির মাধ্যমে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেই চার কৃতি বাঙালি তো দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যারা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে চরম দুঃসময়ে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থের বিনিময়ে সরকার ভ্যাকসিন ক্রয় করছে- এমন তথ্য প্রচার হলে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডিওলজির স্বনামধন্য অধ্যাপক ডা. হাফিজের নেতৃত্বে তিন সহযোগীসহ চার কীর্তিমান বাঙালিকে কি সম্মানিত করা হয়? এমন কর্মকাণ্ড কি কোনোভাবেই দেশপ্রেমিক প্রজন্ম তৈরির সহায়ক? 

জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার দায়িত্ব আর দায়ভার বাংলার কোন নাগরিকের সাথেই তুলনীয় নয়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে একটি মূল্যবোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে তিনিই আশা আকাঙ্ক্ষার শেষ ভরসাস্থল। প্রবাসে থেকে প্রবাসের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেও যারা একাত্তর পরবর্তীতে সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে- এরা নির্ভেজাল দেশপ্রেমিক, শেখ হাসিনার সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী, এরাই বঙ্গবন্ধুর সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলার দর্শনের অগ্রনায়ক। তৈলবাজ, আদর্শহীন বাকপটুদের পরিহার করে এসব দেশপ্রেমিক সন্তানদের সম্মানিত করলে জাতি যেমন বহির্বিশ্বে সম্মানিত হবে তেমনি ভবিষ্যৎ দেশপ্রেমিক প্রজন্ম তৈরিতেও এটি হবে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন