বন্ধু তুই চলেই গেলি!
jugantor
বন্ধু তুই চলেই গেলি!

  বায়াজিদ গালিব  

১২ অক্টোবর ২০২১, ০০:২২:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

সহপাঠী, প্রিয় বন্ধু ড. আফসার আহমেদ আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে- ভাবতেই পারছি না। তার অকাল প্রয়াণের ব্যথা ও দুঃখ বোঝানোর ক্ষমতা আমার নেই।

বন্ধু তুই চলে গেলি! রেখে গেলি তোর সাথে আমার ও আমাদের সহপাঠীদের অসংখ্য স্মৃতি। সেই স্মৃতি নিয়েই হয়তো আমাদের মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস পড়বে।

ছাত্রজীবনে আফসারের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করলাম তখন আফসারের সাথে ঘনিষ্ঠতা আরো বেড়ে গিয়েছিল। সে জাহাঙ্গীরনগরে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিল সেটাই জানতাম। হঠাৎ একদিন আমার শান্তিনগর অফিসে তার একদল ছাত্রছাত্রী নিয়ে উপস্থিত। আমরা পরস্পরকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে ছিলাম বেশ কিছুক্ষণ।

আমি বললাম, হঠাৎ কি মনে করে? বলল, বন্ধুরা সব শিল্পপতি হয়েছে, তাই ভাবলাম দেখা করে যাই। বললাম, বেশ কথা, কিন্তু সাঙ্গপাঙ্গ (ছাত্রছাত্রী) নিয়ে কেন? বলল, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে ভারত যাবে, ওদের জন্য কিছু কাজ ছিল, তাই এসেছিলাম। আমি বললাম, তুই তো বাংলার শিক্ষক, নাটক ও নাট্যতত্ত্বে তোর কি ভূমিকা? সে তার স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে একেবারে সাহিত্যের ভাষায় বলল, ও তুই জানিস না? তোর অবগতির জন্য জানাচ্ছি, রবীন্দ্রোত্তর কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ড. সেলিম আল দীন ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা তার সাথে কাজ করছি, আমি এখন এ বিভাগেই অধ্যাপনা করছি। বললাম, না বন্ধু জানতাম না, কারণ সে সময় আমি দেশে ছিলাম না, জাপান ছিলাম, তাই হয়তো জানা হয় নাই। এরপর থেকে ওর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা বেড়েই চলছিল। নিয়মিত জাহাঙ্গীরনগরে যেতাম, আফসার আর ঝর্ণার সংসারে (ঝর্ণাও আমাদের সহপাঠী) নিয়মিত যাতায়াত আমাদের, রাতে কিংবা দিনে খাবার সময় হলে নির্দ্বিধায় হাজির হতাম ওদের বাসায়। মাঝেমধ্যে ওদের বাসায় রাত্রিযাপন, আড্ডা চলতো। আফসার এবং তার সহধর্মিনী ঝর্ণার আন্তরিকতা ভুলবার নয়।

আফসারের সাথে আমাদের সহপাঠী জাহাঙ্গীর, ইব্রাহিম ও আমি সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। তারপর দীর্ঘদিন একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। সে সময়ের স্মৃতিগুলি এখনো মনে পড়ে। আফসার একাধারে কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিল।

মানুষের মৃত্যু কঠিন সত্য। সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। আফসার তার অগণিত ভক্ত, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে গভীর শোকে ভাসিয়ে অকস্মাৎ চলে গেল নীরবে। এ ব্যাথার ভার বইবার কষ্ট অনেক। বিশেষ করে তার সহধর্মিণী ঝর্ণা ও তার একমাত্র কন্যা হৃদির জন্যে। কাউকে শান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা নেই। শুধুই তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে পারি। মহান সর্বশক্তিমান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন। “আমরা তো আল্লাহরই, নিশ্চয়ই আমরা তারই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী”।

বন্ধু তুই চলেই গেলি!

 বায়াজিদ গালিব 
১২ অক্টোবর ২০২১, ১২:২২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সহপাঠী, প্রিয় বন্ধু ড. আফসার আহমেদ আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে- ভাবতেই পারছি না। তার অকাল প্রয়াণের ব্যথা ও দুঃখ বোঝানোর ক্ষমতা আমার নেই।

বন্ধু তুই চলে গেলি! রেখে গেলি তোর সাথে আমার ও আমাদের সহপাঠীদের অসংখ্য স্মৃতি। সেই স্মৃতি নিয়েই হয়তো আমাদের মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস পড়বে।

ছাত্রজীবনে আফসারের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করলাম তখন আফসারের সাথে ঘনিষ্ঠতা আরো বেড়ে গিয়েছিল। সে জাহাঙ্গীরনগরে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিল সেটাই জানতাম। হঠাৎ একদিন আমার শান্তিনগর অফিসে তার একদল ছাত্রছাত্রী নিয়ে উপস্থিত। আমরা পরস্পরকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে ছিলাম বেশ কিছুক্ষণ।

আমি বললাম, হঠাৎ কি মনে করে? বলল, বন্ধুরা সব শিল্পপতি হয়েছে, তাই ভাবলাম দেখা করে যাই। বললাম, বেশ কথা, কিন্তু সাঙ্গপাঙ্গ (ছাত্রছাত্রী) নিয়ে কেন? বলল, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে ভারত যাবে, ওদের জন্য কিছু কাজ ছিল, তাই এসেছিলাম। আমি বললাম, তুই তো বাংলার শিক্ষক, নাটক ও নাট্যতত্ত্বে তোর কি ভূমিকা? সে তার স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে একেবারে সাহিত্যের ভাষায় বলল, ও তুই জানিস না? তোর অবগতির জন্য জানাচ্ছি, রবীন্দ্রোত্তর কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ড. সেলিম আল দীন ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা তার সাথে কাজ করছি, আমি এখন এ বিভাগেই অধ্যাপনা করছি। বললাম, না বন্ধু জানতাম না, কারণ সে সময় আমি দেশে ছিলাম না, জাপান ছিলাম, তাই হয়তো জানা হয় নাই। এরপর থেকে ওর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা বেড়েই চলছিল। নিয়মিত জাহাঙ্গীরনগরে যেতাম, আফসার আর ঝর্ণার সংসারে (ঝর্ণাও আমাদের সহপাঠী) নিয়মিত যাতায়াত আমাদের, রাতে কিংবা দিনে খাবার সময় হলে নির্দ্বিধায় হাজির হতাম ওদের বাসায়। মাঝেমধ্যে ওদের বাসায় রাত্রিযাপন, আড্ডা চলতো। আফসার এবং তার সহধর্মিনী ঝর্ণার আন্তরিকতা ভুলবার নয়।

আফসারের সাথে আমাদের সহপাঠী জাহাঙ্গীর, ইব্রাহিম ও আমি সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। তারপর দীর্ঘদিন একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি। সে সময়ের স্মৃতিগুলি এখনো মনে পড়ে। আফসার একাধারে কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিল।

মানুষের মৃত্যু কঠিন সত্য। সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। আফসার তার অগণিত ভক্ত, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে গভীর শোকে ভাসিয়ে অকস্মাৎ চলে গেল নীরবে। এ ব্যাথার ভার বইবার কষ্ট অনেক। বিশেষ করে তার সহধর্মিণী ঝর্ণা ও তার একমাত্র কন্যা হৃদির জন্যে। কাউকে শান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা নেই। শুধুই তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে পারি। মহান সর্বশক্তিমান রাব্বুল আলামিন যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন। “আমরা তো আল্লাহরই, নিশ্চয়ই আমরা তারই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী”।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন