দেশের ম্যারাথনে যুক্ত হোক টুকুর নাম
jugantor
দেশের ম্যারাথনে যুক্ত হোক টুকুর নাম

  খন্দকার দেলোয়ার জালালী  

১০ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:২৮:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

ম্যারাথন মানেই এক দীর্ঘ দৌড়। প্রধাণত সড়কেই এই দৌড় অনুষ্ঠিত হয় বলে একে কখনো কখনো রোড রেস বা রাস্তার দৌড় বলে। ঐতিহাসিকভাবেই ম্যারাথন একটি বিশেষ বার্তা বহণ করে। দেশ, জাতি বা বিশ্বের জন্যও বিশেষ বার্তা দিতে ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। এ বিশেষ বার্তা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানান দিতে কিছু মানুষ নিবেদিত থাকেন। যেখানে পেশার চেয়ে নেশাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যারাথন নিয়ে লৌকিক উপাখ্যান আছে, আছে ভিন্ন মতামত। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো খ্রিস্টপূর্ব ৪৯০ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে ম্যারাথন যুদ্ধ সংগঠিত হয়। গ্রিক ও পারস্যের মধ্যে এই যুদ্ধে পারস্য পরাজয় বরণ করে। তখন গ্রিকদের যুদ্ধ জয়ের খবর এথেন্সে পৌঁছে দিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্রিক সৈনিক ফেইডিপ্পিডেসকে। ফেইডিপ্পিডেস দৌড়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এথেন্সে পৌঁছে গ্রিসের বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছে- গ্রিকো-পার্সিয়ান যুদ্ধে গ্রীক সৈনিক ফেইডিপ্পিডেসকে এথেন্স থেকে স্পার্টায় যুদ্ধে সহায়তার জন্য বার্তা নিয়ে গেছেন। তিনি দৌড়ে ২৪০ কিলোমিটার বা ১৫০ মাইল রাস্তা অতিক্রম করেন। সেই থেকে ম্যারাথন আর ফেইডিপ্পিডেস ইতিহাস হয়ে আছে।

বাংলাদেশেও ম্যারাথনে ইতিহাস হয়েছেন একজন। তার নাম গওহর জামিল হোসেন টুকু, সবাই তাকে টুকু জামিল নামেই চেনেন। সাগর পাড়ের জেলা পটুয়াখালীর টুকু জামিল গেলা ৭ জানুয়ারি চট্টগামের পতেঙ্গা থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে নিজ জেলা পটুয়াখালীর ব্যানার দুই হাতে তুলে ধরেই মাটিতে পড়ে যান। “টিম চট্টগ্রাম” নামের একটি সংগঠন এই ম্যারাথনের আয়োজন করে। ঐদিন সকাল ৬টায় পতেঙ্গা মেরিন ড্রাইভে থেকে হালিশহর বিচ পর্যন্ত ১০ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে পতেঙ্গা সি-বিচে শেষ হয়েছে হাফ ম্যারাথন। সাথে সাথেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয় কিন্তু বাঁচানো গেলো না টুকু জামিলকে।

পটুয়াখালীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান টুকু জামিল। প্রচণ্ড মেধাবী টুকু জামিল ১৯৯৩ সালের এসএসসি এবং ১৯৯৫ সালে এইএসসি পরিক্ষায় আটশোর উপর নম্বর পেয়েছিলেন। পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের প্যানেল থেকে বিপুল ভোটে এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন টুকু জামিল। পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে জিডি পাইলট হিসেবে যোগ দেন টুকু জামিল। কিন্তু বিমান চালানোর সময় বারবার বমি হওয়ায় তার পাইলট হিসেবেও চাকরি করা হয়নি। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি ব্যাংক এবং সর্বশেষ একটি অর্থিক প্রতিষ্ঠানে জিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রজীবনে বিতর্ক আর উপস্থিত বক্তৃতায় টুকু জামিল ছিলেন অনন্য। নিজ জেলা পটুয়াখালীর প্রতি ছিলো দারুণ অনুরাগ। দেশের যে প্রান্তেই ম্যারাথন হতো সেখানেই টিম পটুয়াখালী নিয়ে হাজির হতেন টুকু। টিম পটুয়াখালীর ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর টুকু জামিল শুধু বাংলা নয়, ইরেজি ভাষাতেও দারুণ পারদর্শী ছিলেন। স্পষ্টভাষী টুকু জামিল সংগঠক হিসেবেও দক্ষতা দেখিয়েছেন। নিজ জেলা পটুয়াখালীর স্বার্থে প্রতিটি আয়োজনে প্রথম সারির যোদ্ধা ছিলেন টুকু জামিল। সন্ত্রাস, মাদক, নদী দখল আর ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদে নানা আয়োজনে সংগঠক ছিলেন তিনি।

টুকু জামিলের বাবা মুরহুম অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন সুলতান মিয়া ছিলেন পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারীর প্রধান শিক্ষক। তিনি পটুয়াখালী নাইট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন সুলতান মিয়া। টুকু জামিলের বড় ভাই মো. জাকির হোসেন পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা আখুন্দ আ শ আলম বলেছেন, টুকু জামিল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ছাত্রজীবনে অসাধারণ জনপ্রিয়তা ছিল টুকুর। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং বিতর্ক ও উপস্থাপনায় টুকু জামিল ছিলেন অতুলনীয়।

একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত টুকুর বন্ধু মনির খান বলেন, টুকু সবাইকে এক অবিচ্ছেদ্য বাঁধনে আটকে রাখত। সবার খবর রাখতেন, বিপদে আপদে ছুটে যেতেন। টুকুর বন্ধু সরকারি কর্মকর্তা মাহাতাব আলী অপু বলেন, টুকু ছিলেন দেশের সম্পদ। অসাম্য প্রতিভার অধিকারী টুকু নতুন প্রজন্মের ম্যারাথন দৌড়বিদদের সামনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।

গ্রিক সৈনিক ফেইডিপ্পিডেসের মতোই দেশের ম্যারাথনে ইতিহাস হয়ে থাকবেন গওহর জামিল হোসেন টুকু। ফেইডিপ্পিডেসের মতোই টুকু জামিলও ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাই দেশের ম্যারাথনেও টুকু জামিলের নাম অক্ষয় করে রাখা হোক। দেশের ম্যারাথনে যুক্ত হোক টুকুর নাম।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী। সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি।

দেশের ম্যারাথনে যুক্ত হোক টুকুর নাম

 খন্দকার দেলোয়ার জালালী 
১০ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ম্যারাথন মানেই এক দীর্ঘ দৌড়। প্রধাণত সড়কেই এই দৌড় অনুষ্ঠিত হয় বলে একে কখনো কখনো রোড রেস বা রাস্তার দৌড় বলে। ঐতিহাসিকভাবেই ম্যারাথন একটি বিশেষ বার্তা বহণ করে। দেশ, জাতি বা বিশ্বের জন্যও বিশেষ বার্তা দিতে ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। এ বিশেষ বার্তা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানান দিতে কিছু মানুষ নিবেদিত থাকেন। যেখানে পেশার চেয়ে নেশাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যারাথন নিয়ে লৌকিক উপাখ্যান আছে, আছে ভিন্ন মতামত। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হলো খ্রিস্টপূর্ব ৪৯০ সালের আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে ম্যারাথন যুদ্ধ সংগঠিত হয়। গ্রিক ও পারস্যের মধ্যে এই যুদ্ধে পারস্য পরাজয় বরণ করে। তখন গ্রিকদের যুদ্ধ জয়ের খবর এথেন্সে পৌঁছে দিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্রিক সৈনিক ফেইডিপ্পিডেসকে। ফেইডিপ্পিডেস দৌড়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এথেন্সে পৌঁছে গ্রিসের বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছে- গ্রিকো-পার্সিয়ান যুদ্ধে গ্রীক সৈনিক ফেইডিপ্পিডেসকে এথেন্স থেকে স্পার্টায় যুদ্ধে সহায়তার জন্য বার্তা নিয়ে গেছেন। তিনি দৌড়ে ২৪০ কিলোমিটার বা ১৫০ মাইল রাস্তা অতিক্রম করেন। সেই থেকে ম্যারাথন আর ফেইডিপ্পিডেস ইতিহাস হয়ে আছে। 

বাংলাদেশেও ম্যারাথনে ইতিহাস হয়েছেন একজন। তার নাম গওহর জামিল হোসেন টুকু, সবাই তাকে টুকু জামিল নামেই চেনেন। সাগর পাড়ের জেলা পটুয়াখালীর টুকু জামিল গেলা ৭ জানুয়ারি চট্টগামের পতেঙ্গা থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে নিজ জেলা পটুয়াখালীর ব্যানার দুই হাতে তুলে ধরেই মাটিতে পড়ে যান। “টিম চট্টগ্রাম” নামের একটি সংগঠন এই ম্যারাথনের আয়োজন করে। ঐদিন সকাল ৬টায় পতেঙ্গা মেরিন ড্রাইভে থেকে হালিশহর বিচ পর্যন্ত ১০ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে পতেঙ্গা সি-বিচে শেষ হয়েছে হাফ ম্যারাথন। সাথে সাথেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয় কিন্তু বাঁচানো গেলো না টুকু জামিলকে। 

পটুয়াখালীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান টুকু জামিল। প্রচণ্ড মেধাবী টুকু জামিল ১৯৯৩ সালের এসএসসি এবং ১৯৯৫ সালে এইএসসি পরিক্ষায় আটশোর উপর নম্বর পেয়েছিলেন। পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের প্যানেল থেকে বিপুল ভোটে এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন টুকু জামিল। পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে জিডি পাইলট হিসেবে যোগ দেন টুকু জামিল। কিন্তু বিমান চালানোর সময় বারবার বমি হওয়ায় তার পাইলট হিসেবেও চাকরি করা হয়নি। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি ব্যাংক এবং সর্বশেষ একটি অর্থিক প্রতিষ্ঠানে জিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রজীবনে বিতর্ক আর উপস্থিত বক্তৃতায় টুকু জামিল ছিলেন অনন্য। নিজ জেলা পটুয়াখালীর প্রতি ছিলো দারুণ অনুরাগ। দেশের যে প্রান্তেই ম্যারাথন হতো সেখানেই টিম পটুয়াখালী নিয়ে হাজির হতেন টুকু। টিম পটুয়াখালীর ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর টুকু জামিল শুধু বাংলা নয়, ইরেজি ভাষাতেও দারুণ পারদর্শী ছিলেন। স্পষ্টভাষী টুকু জামিল সংগঠক হিসেবেও দক্ষতা দেখিয়েছেন। নিজ জেলা পটুয়াখালীর স্বার্থে প্রতিটি আয়োজনে প্রথম সারির যোদ্ধা ছিলেন টুকু জামিল। সন্ত্রাস, মাদক, নদী দখল আর ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদে নানা আয়োজনে সংগঠক ছিলেন তিনি।

টুকু জামিলের বাবা মুরহুম অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন সুলতান মিয়া ছিলেন পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারীর প্রধান শিক্ষক। তিনি পটুয়াখালী নাইট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন সুলতান মিয়া। টুকু জামিলের বড় ভাই মো. জাকির হোসেন পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি।
 
পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা আখুন্দ আ শ আলম বলেছেন, টুকু জামিল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ছাত্রজীবনে অসাধারণ জনপ্রিয়তা ছিল টুকুর। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং বিতর্ক ও উপস্থাপনায় টুকু জামিল ছিলেন অতুলনীয়। 

একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত টুকুর বন্ধু মনির খান বলেন, টুকু সবাইকে এক অবিচ্ছেদ্য বাঁধনে আটকে রাখত। সবার খবর রাখতেন, বিপদে আপদে ছুটে যেতেন। টুকুর বন্ধু সরকারি কর্মকর্তা মাহাতাব আলী অপু বলেন, টুকু ছিলেন দেশের সম্পদ। অসাম্য প্রতিভার অধিকারী টুকু নতুন প্রজন্মের ম্যারাথন দৌড়বিদদের সামনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। 

গ্রিক সৈনিক ফেইডিপ্পিডেসের মতোই দেশের ম্যারাথনে ইতিহাস হয়ে থাকবেন গওহর জামিল হোসেন টুকু। ফেইডিপ্পিডেসের মতোই টুকু জামিলও ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাই দেশের ম্যারাথনেও টুকু জামিলের নাম অক্ষয় করে রাখা হোক। দেশের ম্যারাথনে যুক্ত হোক টুকুর নাম।

লেখক: খন্দকার দেলোয়ার জালালী। সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন