দুর্নীতি উন্নয়নের পথে বাধা
jugantor
দুর্নীতি উন্নয়নের পথে বাধা

  মূল: মাওলানা ওহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ  

১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:১১:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

বোম্বে শহরে একবার এক বিশাল বিল্ডিং তৈরি করা হয়। তার নাম রাখা হয় ‘আকাশদীপ’। কিন্তু যখনই নির্মাণ কাজ শেষ হয়, বিল্ডিংটা আচমকা ধসে পড়ে। এর কারণ হিসেবে বলা হয় বিল্ডিংটা নির্মাণে যেই পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করা জরুরি ছিল তার চেয়ে কম ব্যবহার করা হয়েছিল।

এক টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর এই বিষয়ে বলেন, ‘আরসিসি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে নির্মাণ কাজ খুবই উন্নতমানের হয়, যতক্ষণ না এই কাজ কোনো যোগ্য ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে হয়। আর যদি এই কাজ অযোগ্য ইঞ্জিনিয়ার বা ঠিকাদারের হাতে হয়, তাহলে ওই সময় আরসিসি ভয়ানক পদ্ধতিতে পরিণত হয়।’ (টাইমস অব ইন্ডিয়া, ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩)

এমনিতে একথা সঠিক ও যথাযথ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তাতে একটা বড়মাপের ভুল লুকিয়ে আছে। অবশ্য আমরা ‘অযোগ্য’ শব্দের স্থলে যদি ‘দুর্নীতিবাজ’ শব্দ ব্যবহার করি, তাহলে এই ভুলটা শুধরে যায়।

সত্যি বলতে কী, আমাদের এই ধরনের বিল্ডিং ধসে পড়ার ঘটনা লোভ ও দুর্নীতির কারণে হয়, শ্রমিক বা ঠিকাদারের নির্মাণ দক্ষতার অভাবে হয় না।

১৯৬৩ সালে পাঞ্জাবের সাতলুজ নদীর ওপর নির্মিত ‘ভাকড়া ড্যাম’ তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে বড় সরকারি প্রকল্প ছিল। এর নির্মাণ কাজে দেশের বাছা বাছা দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এতে ফাটল দেখা যায়, ফলে আরও একবার কয়েক কোটি টাকা ঢালা হয়। এই ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই দেশের জায়গায় জায়গায় ঘটে, অথচ প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এই কাজগুলো দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের হাতে হয়।

দেশসেরা ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধানে হওয়ার পরও আমাদের রাস্তাঘাট কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের নির্মাণশ্রমিকরা যোগ্য বলেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়, কিন্তু ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ে তার ঠিক পরে। এই ধরনের সমস্ত ঘটনার মূল কারণ হলো দুর্নীতি, নির্মাণ কাজে অদক্ষতা বা অযোগ্যতা নয়।

দুর্নীতি একটি চরিত্রগত সমস্যা আর নির্মাণ কাজে অযোগ্যতা টেকনিক্যাল সমস্যা। চরিত্রগত সমস্যা টেকনিক্যাল সমাধান দিয়ে কখনো দূর করা সম্ভব নয়।

যদি আমরা আমাদের সমাজব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই, তাহলে আমাদের চরিত্রে পরিবর্তন আনতে হবে, আত্মশুদ্ধি করতে হবে। শুধুমাত্র টেকনিক্যাল সমাধানের কোর্স করে কখনোই মূল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

দুর্নীতি উন্নয়নের পথে বাধা

 মূল: মাওলানা ওহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ 
১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:১১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বোম্বে শহরে একবার এক বিশাল বিল্ডিং তৈরি করা হয়। তার নাম রাখা হয় ‘আকাশদীপ’। কিন্তু যখনই নির্মাণ কাজ শেষ হয়, বিল্ডিংটা আচমকা ধসে পড়ে। এর কারণ হিসেবে বলা হয় বিল্ডিংটা নির্মাণে যেই পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করা জরুরি ছিল তার চেয়ে কম ব্যবহার করা হয়েছিল। 

এক টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর এই বিষয়ে বলেন, ‘আরসিসি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে নির্মাণ কাজ খুবই উন্নতমানের হয়, যতক্ষণ না এই কাজ কোনো যোগ্য ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে হয়। আর যদি এই কাজ অযোগ্য ইঞ্জিনিয়ার বা ঠিকাদারের হাতে হয়, তাহলে ওই সময় আরসিসি ভয়ানক পদ্ধতিতে পরিণত হয়।’ (টাইমস অব ইন্ডিয়া, ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩)

এমনিতে একথা সঠিক ও যথাযথ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তাতে একটা বড়মাপের ভুল লুকিয়ে আছে। অবশ্য আমরা ‘অযোগ্য’ শব্দের স্থলে যদি ‘দুর্নীতিবাজ’ শব্দ ব্যবহার করি, তাহলে এই ভুলটা শুধরে যায়। 

সত্যি বলতে কী, আমাদের এই ধরনের বিল্ডিং ধসে পড়ার ঘটনা লোভ ও দুর্নীতির কারণে হয়, শ্রমিক বা ঠিকাদারের নির্মাণ দক্ষতার অভাবে হয় না। 

১৯৬৩ সালে পাঞ্জাবের সাতলুজ নদীর ওপর নির্মিত ‘ভাকড়া ড্যাম’ তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে বড় সরকারি প্রকল্প ছিল। এর নির্মাণ কাজে দেশের বাছা বাছা দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এতে ফাটল দেখা যায়, ফলে আরও একবার কয়েক কোটি টাকা ঢালা হয়। এই ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই দেশের জায়গায় জায়গায় ঘটে, অথচ প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এই কাজগুলো দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের হাতে হয়। 

দেশসেরা ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধানে হওয়ার পরও আমাদের রাস্তাঘাট কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের নির্মাণশ্রমিকরা যোগ্য বলেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়, কিন্তু ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ে তার ঠিক পরে। এই ধরনের সমস্ত ঘটনার মূল কারণ হলো দুর্নীতি, নির্মাণ কাজে অদক্ষতা বা অযোগ্যতা নয়। 

দুর্নীতি একটি চরিত্রগত সমস্যা আর নির্মাণ কাজে অযোগ্যতা টেকনিক্যাল সমস্যা। চরিত্রগত সমস্যা টেকনিক্যাল সমাধান দিয়ে কখনো দূর করা সম্ভব নয়। 

যদি আমরা আমাদের সমাজব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই, তাহলে আমাদের চরিত্রে পরিবর্তন আনতে হবে, আত্মশুদ্ধি করতে হবে। শুধুমাত্র টেকনিক্যাল সমাধানের কোর্স করে কখনোই মূল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর