শিক্ষক কি সর্বংসহা!
jugantor
শিক্ষক কি সর্বংসহা!

  অধ্যাপক মো. আবদুল হাই  

৩০ জুন ২০২২, ২২:২৮:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র যখন জ্ঞান-বুদ্ধি ও মর্যাদায় শিক্ষককে ছাপিয়ে যায় তখন সেটি হয় একজন শিক্ষকের জন্য সবচেয়ে গর্বের বিষয়। আবার ছাত্র যখন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে, সেটি একজন শিক্ষকের জন্য সবচেয়ে হতাশার, অপমানের এবং লজ্জার বিষয়।

প্রাচ্যদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক সবসময়ই গুরু-শিষ্যের মতো ছিল। প্রাচীন ভারতের নালন্দা থেকে শুরু করে সোমপুর বৌদ্ধবিহার, ও শালবন বৌদ্ধবিহার এবং নিকট অতীতের পণ্ডিত সমাজ থেকে শুরু করে মাদ্রাসাভিত্তিক মৌলভী-ছাত্রের সম্পর্ক ও গুরু-শিষ্যের পরম্পরাকে মনে করিয়ে দেয়। যেখানে একজন শিক্ষক তার ছাত্রকে একাডেমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে নীতি-আদর্শ, শিষ্টাচারসহ ব্যবহারিক জীবনের সব ধরনের দিকনির্দেশনায় দীক্ষিত করেন এবং ছাত্র তার গুরুর সেই শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করে ভবিষ্যৎ জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ছাত্রজীবনে তাই পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অ্যারিস্টটল, প্লেটো থেকে শুরু করে সম্রাট আলমগীরের পুত্রের সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক, স্কটিশ চার্চ কলেজের শিক্ষক ড. সিদ্ধেশ্বর সাঁই ও তার ছাত্র পার্থপ্রতিম পাঠকের সম্পর্ক ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের সেই স্বর্ণালী অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সরদার ফজলুল করিম, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. আ ফ ম কামাল উদ্দিন, আবদুল্লাহ আবু সাঈদ প্রমুখ সেই পরম্পরার এক একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি।

সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-শিক্ষকের সেই চিরায়ত সম্পর্কে যেন চিড় ধরেছে। এখন শিক্ষক কোনো আদর্শ ব্যক্তিত্ব নন, ছাত্র ও অনুগত শিষ্য নয়। ছাত্র-শিক্ষক যেন বর্তমানে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। অবশ্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শিক্ষকের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়। ছাত্র এখানে সক্রিয় বলদর্পী। চাইলেই এখন শিক্ষককে অপদস্থ করা যায়, লাঞ্ছিত করা যায়, এমনকি প্রাণসংহার ও করা যায়। শিক্ষকের ভবিতব্যই যেন ধনে-মানে নিগৃহীত হওয়া।

নওগাঁর শিক্ষক আমোদিনী পাল থেকে হৃদয় মণ্ডল, উৎপল কুমার সরকার, স্বপন কুমার বিশ্বাস, জাকিরুল ইসলাম এবং গফরগাঁও কলেজের অধ্যক্ষের অবরুদ্ধ হওয়া এসবের নিকৃষ্ট উদাহরণ। শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজ থেকে শুরু করে বেসরকারি কলেজ পর্যন্ত সবই যেন উন্মুক্ত ভেন্যু এবং নিগ্রহের এই প্রতিযোগিতায় ছাত্র থেকে শুরু করে পুলিশ, আমলা, ব্যবসায়ী সবাই যেন অংশগ্রহণ করতে পারেন! এতে রাষ্ট্রের মর্যাদার তেমন কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হয় না!

এখন শিক্ষককে ছাত্রের দিকে বড় চোখে তাকাতে নেই, ক্লাসে অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে নেই, টিউটোরিয়াল-অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করতে নেই, পরীক্ষার সময় নকল ধরতে নেই, ব্যবহারিক- মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করতে নেই, ক্লাসে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে ধমক দিতে নেই, চুলের ফ্যাশন নিয়ে কথা বলতে নেই, পোশাকের ধরন নিয়ে মন্তব্য করতে নেই, শিষ্টাচার শেখাতে নেই, সর্বোপরি কোনো হিতোপদেশও দিতে নেই। আতঙ্ক সিনেমার ন্যায়নিষ্ঠ অধ্যাপক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো এখানে একটি বাণী অবলীলায় মেনে চলতে হয়- ‘মাস্টার মশাই আপনি কিন্তু কিছুই দেখেননি।'

শিক্ষকদের অফিসে বসার আলাদা কক্ষ থাকতে নেই, অধ্যক্ষের অফিশিয়াল গাড়ির কোনো প্রয়োজন নেই, সরকারি অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মর্যাদার উল্লেখ থাকতে নেই, ভালো পোশাক পরতে নেই, প্রাণ খুলে হাসতে নেই, কল্পিত ব্যক্তিত্ব হারানোর ভয়ে ফুটপাতে চায়ের দোকানে দাঁড়াতে নেই, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নেই, গলায় জুতার মালা দিলে উপহার ভেবে নিতে হয়, কান ধরে উঠবস করালে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিদান বলে মেনে নিতে হয়। শিক্ষক যেন সর্বংসহা!

শিক্ষকদের সময়মতো এমপিও হতে নেই, মরে গেলেও অবসর-উত্তর ভাতা সময় মতো পেতে নেই (দ্র: ২০১৯ সালে দাখিলকৃত আবেদন ২০২২ এ নিষ্পত্তির কাজ শুরু করেছে অবসর সুবিধা বোর্ড), সময়মতো পদোন্নতি পেতে নেই, বেতন গ্রেডের পরিবর্তন হতে নেই (সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত সবাই চতুর্থ গ্রেডে)। এ রকম অসংখ্য নাই, নেই এবং না- এর মধ্যে শিক্ষকদের বসবাস। শিক্ষকদের অবস্থান ঠিক যেন পণ্ডিতমশাই কথিত কুকুরের তিন ঠ্যাঙের এক ঠ্যাঙের সমান!

পণ্ডিতদের ধর্মে জড়শীলতার প্রতি বিদ্রূপ করে রবীন্দ্রনাথ নাকি বলেছিলেন, যার সবকিছু পণ্ড হয়ে গিয়েছে, সেই পণ্ডিত (পাদটীকা -সৈয়দ মুজতবা আলী)। পণ্ডিত সমাজের আধুনিক উত্তরসূরি আজকের শিক্ষক সমাজ। আজকের শিক্ষকদের সর্বস্ব পণ্ডের ধারাবাহিক কারণ আজ ভেবে দেখার সময় এসেছে। বর্তমানের ভোগবাদী ও অস্থির সময়ে মূল্যবোধের অবক্ষয় যদি কিছু হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে সমাজের সর্বক্ষেত্রে। তাহলে আর শুধু শুধু শিক্ষককে টার্গেট করা কেন? সমাজের যাবতীয় অনাসৃষ্টির জন্য শিক্ষককে দায়ী করা হবে কেন? শিক্ষক ক্ষমতাবলয়ের অংশ নয় বলে? শিক্ষকের শিং নেই, নখ নেই বলে? শিক্ষকদের এই নাজুক অবস্থানকে ইঙ্গিত করেই হয়তো ‘সমারুঢ়' কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন:

‘অজর, অক্ষর, অধ্যাপক
দাঁত নেই-চোখে তার অক্ষম পিচুটি।’

কিন্তু এই তথাকথিত দুর্বল, ভীরু, গেঁয়ো, নখ-দন্তবিহীন শিক্ষক সমাজকে সঙ্গে নিয়েই আমরা মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে চাই। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই। মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করতে চাই। সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই। সর্বোপরি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। ভবিষ্যতের এই কর্মযজ্ঞে শিক্ষককে অবহেলা করে, তাচ্ছিল্য করে, লাঞ্ছিত করে, সমাজের প্রান্তে ঠেলে দিয়ে সেটি সম্ভব নয়। এই সত্য যত দ্রুত আমরা উপলব্ধি করতে পারবো ততই মঙ্গল।

লেখক: অধ্যাপক মো. আবদুল হাই, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।
ahaigeo@gmail.com

শিক্ষক কি সর্বংসহা!

 অধ্যাপক মো. আবদুল হাই 
৩০ জুন ২০২২, ১০:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র যখন জ্ঞান-বুদ্ধি ও মর্যাদায় শিক্ষককে ছাপিয়ে যায় তখন সেটি হয় একজন শিক্ষকের জন্য সবচেয়ে গর্বের বিষয়। আবার ছাত্র যখন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে, সেটি একজন শিক্ষকের জন্য সবচেয়ে হতাশার, অপমানের এবং লজ্জার বিষয়।

প্রাচ্যদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক সবসময়ই গুরু-শিষ্যের মতো ছিল। প্রাচীন ভারতের নালন্দা থেকে শুরু করে সোমপুর বৌদ্ধবিহার, ও শালবন বৌদ্ধবিহার এবং নিকট অতীতের পণ্ডিত সমাজ থেকে শুরু করে মাদ্রাসাভিত্তিক মৌলভী-ছাত্রের সম্পর্ক ও গুরু-শিষ্যের পরম্পরাকে মনে করিয়ে দেয়। যেখানে একজন শিক্ষক তার ছাত্রকে একাডেমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে নীতি-আদর্শ, শিষ্টাচারসহ ব্যবহারিক জীবনের সব ধরনের দিকনির্দেশনায় দীক্ষিত করেন এবং ছাত্র তার গুরুর সেই শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করে ভবিষ্যৎ জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ছাত্রজীবনে তাই পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অ্যারিস্টটল, প্লেটো থেকে শুরু করে সম্রাট আলমগীরের পুত্রের সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক, স্কটিশ চার্চ কলেজের শিক্ষক ড. সিদ্ধেশ্বর সাঁই ও তার ছাত্র পার্থপ্রতিম পাঠকের সম্পর্ক ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের সেই স্বর্ণালী অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সরদার ফজলুল করিম, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. আ ফ ম কামাল উদ্দিন, আবদুল্লাহ আবু সাঈদ প্রমুখ সেই পরম্পরার এক একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি।

সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-শিক্ষকের সেই চিরায়ত সম্পর্কে যেন চিড় ধরেছে। এখন শিক্ষক কোনো আদর্শ ব্যক্তিত্ব নন, ছাত্র ও অনুগত শিষ্য নয়। ছাত্র-শিক্ষক যেন বর্তমানে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। অবশ্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শিক্ষকের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়। ছাত্র এখানে সক্রিয় বলদর্পী। চাইলেই এখন শিক্ষককে অপদস্থ করা যায়, লাঞ্ছিত করা যায়, এমনকি প্রাণসংহার ও করা যায়। শিক্ষকের ভবিতব্যই যেন ধনে-মানে নিগৃহীত হওয়া।

নওগাঁর শিক্ষক আমোদিনী পাল থেকে হৃদয় মণ্ডল, উৎপল কুমার সরকার, স্বপন কুমার বিশ্বাস, জাকিরুল ইসলাম এবং গফরগাঁও কলেজের অধ্যক্ষের অবরুদ্ধ হওয়া এসবের নিকৃষ্ট উদাহরণ। শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজ থেকে শুরু করে বেসরকারি কলেজ পর্যন্ত সবই যেন উন্মুক্ত ভেন্যু এবং নিগ্রহের এই প্রতিযোগিতায় ছাত্র থেকে শুরু করে পুলিশ, আমলা, ব্যবসায়ী সবাই যেন অংশগ্রহণ করতে পারেন! এতে রাষ্ট্রের মর্যাদার তেমন কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হয় না!

এখন শিক্ষককে ছাত্রের দিকে বড় চোখে তাকাতে নেই, ক্লাসে অনুপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে নেই, টিউটোরিয়াল-অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করতে নেই, পরীক্ষার সময় নকল ধরতে নেই, ব্যবহারিক- মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করতে নেই, ক্লাসে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে ধমক দিতে নেই, চুলের ফ্যাশন নিয়ে কথা বলতে নেই, পোশাকের ধরন নিয়ে মন্তব্য করতে নেই, শিষ্টাচার শেখাতে নেই, সর্বোপরি কোনো হিতোপদেশও দিতে নেই। আতঙ্ক সিনেমার ন্যায়নিষ্ঠ অধ্যাপক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো এখানে একটি বাণী অবলীলায় মেনে চলতে হয়- ‘মাস্টার মশাই আপনি কিন্তু কিছুই দেখেননি।'

শিক্ষকদের অফিসে বসার আলাদা কক্ষ থাকতে নেই, অধ্যক্ষের অফিশিয়াল গাড়ির কোনো প্রয়োজন নেই, সরকারি অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মর্যাদার উল্লেখ থাকতে নেই, ভালো পোশাক পরতে নেই, প্রাণ খুলে হাসতে নেই, কল্পিত ব্যক্তিত্ব হারানোর ভয়ে ফুটপাতে চায়ের দোকানে দাঁড়াতে নেই, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নেই, গলায় জুতার মালা দিলে উপহার ভেবে নিতে হয়, কান ধরে উঠবস করালে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিদান বলে মেনে নিতে হয়। শিক্ষক যেন সর্বংসহা!

শিক্ষকদের সময়মতো এমপিও হতে নেই, মরে গেলেও অবসর-উত্তর ভাতা সময় মতো পেতে নেই (দ্র: ২০১৯ সালে দাখিলকৃত আবেদন ২০২২ এ নিষ্পত্তির কাজ শুরু করেছে অবসর সুবিধা বোর্ড),  সময়মতো পদোন্নতি পেতে নেই, বেতন গ্রেডের পরিবর্তন হতে নেই (সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত সবাই চতুর্থ গ্রেডে)। এ রকম অসংখ্য নাই, নেই এবং না- এর মধ্যে শিক্ষকদের বসবাস। শিক্ষকদের অবস্থান ঠিক যেন পণ্ডিতমশাই কথিত কুকুরের তিন ঠ্যাঙের এক ঠ্যাঙের সমান!

পণ্ডিতদের ধর্মে জড়শীলতার প্রতি বিদ্রূপ করে রবীন্দ্রনাথ নাকি বলেছিলেন, যার সবকিছু পণ্ড হয়ে গিয়েছে, সেই পণ্ডিত (পাদটীকা -সৈয়দ মুজতবা আলী)। পণ্ডিত সমাজের আধুনিক উত্তরসূরি আজকের শিক্ষক সমাজ। আজকের শিক্ষকদের সর্বস্ব পণ্ডের ধারাবাহিক কারণ আজ ভেবে দেখার সময় এসেছে। বর্তমানের ভোগবাদী ও অস্থির সময়ে মূল্যবোধের অবক্ষয় যদি কিছু হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে সমাজের সর্বক্ষেত্রে। তাহলে আর শুধু শুধু শিক্ষককে টার্গেট করা কেন? সমাজের যাবতীয় অনাসৃষ্টির জন্য শিক্ষককে দায়ী করা হবে কেন? শিক্ষক ক্ষমতাবলয়ের অংশ নয় বলে? শিক্ষকের শিং নেই, নখ নেই বলে? শিক্ষকদের এই নাজুক অবস্থানকে ইঙ্গিত করেই হয়তো ‘সমারুঢ়' কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন:

‘অজর, অক্ষর, অধ্যাপক
দাঁত নেই-চোখে তার অক্ষম পিচুটি।’

কিন্তু এই তথাকথিত দুর্বল, ভীরু, গেঁয়ো, নখ-দন্তবিহীন শিক্ষক সমাজকে সঙ্গে নিয়েই আমরা মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে চাই। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই। মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করতে চাই। সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই। সর্বোপরি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। ভবিষ্যতের এই কর্মযজ্ঞে শিক্ষককে অবহেলা করে, তাচ্ছিল্য করে, লাঞ্ছিত করে,  সমাজের প্রান্তে ঠেলে দিয়ে সেটি সম্ভব নয়। এই সত্য যত দ্রুত আমরা উপলব্ধি করতে পারবো ততই মঙ্গল।

লেখক: অধ্যাপক মো. আবদুল হাই, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।
ahaigeo@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন