বাড়ছে গাড়িচাপায় অবলা প্রাণীর মৃত্যু
jugantor
বাড়ছে গাড়িচাপায় অবলা প্রাণীর মৃত্যু

  হাসিবুর রহমান, ভারত থেকে  

০১ জুলাই ২০২২, ২৩:৪৩:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

অবলা প্রাণীগুলো আজ খুব অসহায়, এ সমাজে তাদের ওপর নিষ্ঠুর ব্যবহার করা হয়। সময়ের সাথে সাথে আমাদের চিন্তা, ভাবনা ও জীবনের অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু এর মাঝেও এমন কিছু বিষয়ের পরিবর্তন আসা খুব বেশি প্রয়োজন; যা আমরা হয়তো মাথায় নেই না।

মৃত্যু শব্দটা একটা বিষাদ, কষ্টের, বেদনার। কারো মৃত্যুর খবর শুনলে আমরা অনেক বেশি ব্যথিত হই। কিন্তু যখন আমাদের দ্বারা কোন অবলা প্রাণীর মৃত্যু হয় তখন আমাদের কাছে বিষয়টা খুব স্বাভাবিক এবং সহজ মনে হয়। অথচ আমাদের চারপাশের অবলা প্রাণীদের সুস্থতা, নিরাপত্তা আর ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আমরা এতটাই অসচেতন যে, গাড়ির সামনে কোন কুকুর কিংবা যেকোন প্রাণী আসলে আমাদের মাঝে কোন সর্তকা নেই আছে শুধু উদাসীনতা। যার প্রমাণ প্রতিনিয়ত গাড়িচাপায় অসংখ্য প্রাণীর মৃত্যু।

“প্রাণী এমন একমত বন্ধু-তারা কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে না; তারা কোন সমালোচনা করে না।” - জর্জ এলিয়ট

ভালোবাসার বিশালতা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। বলা হয়, মানুষ জন্ম নেয় অসীম ভালোবাসার ক্ষমতা নিয়ে। তাদের সেই ভালোবাসা, যত্ন আর মায়ায় ভালোভাবে বেঁচে থাকে অসহায় ও অবহেলিত অনেক পশু-পাখিও।

পশু-পাখি প্রকৃতির অন্যতম উপাদান এদের প্রতি ভালোবাসা রাখা এবং অধিকার রক্ষা করা দায়িত্ব। আমাদের প্রিয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন পশুপাখি। ভালোবাসতেন তরুলতা ও প্রকৃতি। কেবল মানবজাতি নয়, জীবজন্তুর অধিকার রক্ষায়ও তিনি ছিলেন সোচ্চার।

পশুর প্রতি মানুষের আচরণ হওয়া উচিত – একজন মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ যেমন, ঠিক তেমন৷ প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ আপনি যদি পশু-পাখির প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে পারেন, তাহলে আপনি মানুষের প্রতিও সহানুভূতি দেখাতে পারবেন না৷ পশু-পাখি এত নিষ্পাপ, যা আপনি মানুষের মধ্যেও পাবেন না৷ পশু-পাখি তো কোনো পাপ করতে পারে না৷ এত নিষ্পাপ প্রাণীর প্রতি যদি আমরা মমতা দেখাতে না পারি, তাহলে মানুষের প্রতি মমত্ব দেখানোর কোনো বিষয় তৈরি হয় না৷ সারা বিশ্বে স্বীকৃত যে, মানুষের প্রতি মানুষের সহিংসতার সূত্রপাত হয় পশু-পাখির প্রতি ‘ভায়োলেন্স' থেকে৷ যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই একটা রিপোর্ট করেছিল যে, তাদের দেশের অধিকাংশ সিরিয়াল কিলারদের ‘অ্যানিমেল অ্যাবিউজ' করার ‘ব্যাকগ্রাউন্ড' আছে৷ প্রাণীর প্রতি আমাদের সম্পর্ক থাকা উচিত অনেক বেশি গভীর এবং ভালোবাসার।

আসুন, সব ধরনের প্রাণীর প্রতি সদয় ও স্নেহশীল হই। তাদের জন্য ভালোবাসা ও মমতা লালন করি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষায় মনোযোগী হই।

বাড়ছে গাড়িচাপায় অবলা প্রাণীর মৃত্যু

 হাসিবুর রহমান, ভারত থেকে 
০১ জুলাই ২০২২, ১১:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অবলা প্রাণীগুলো আজ খুব অসহায়, এ সমাজে তাদের ওপর নিষ্ঠুর ব্যবহার করা হয়। সময়ের সাথে সাথে আমাদের চিন্তা, ভাবনা ও জীবনের অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু এর মাঝেও এমন কিছু বিষয়ের পরিবর্তন আসা খুব বেশি প্রয়োজন; যা আমরা হয়তো মাথায় নেই না।

মৃত্যু শব্দটা একটা বিষাদ, কষ্টের, বেদনার। কারো মৃত্যুর খবর শুনলে আমরা অনেক বেশি ব্যথিত হই। কিন্তু যখন আমাদের দ্বারা কোন অবলা প্রাণীর মৃত্যু হয় তখন আমাদের কাছে বিষয়টা খুব স্বাভাবিক এবং সহজ মনে হয়। অথচ আমাদের চারপাশের অবলা প্রাণীদের সুস্থতা, নিরাপত্তা আর ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আমরা এতটাই অসচেতন যে, গাড়ির সামনে কোন কুকুর কিংবা যেকোন প্রাণী আসলে আমাদের মাঝে কোন সর্তকা নেই আছে শুধু উদাসীনতা। যার প্রমাণ প্রতিনিয়ত গাড়িচাপায় অসংখ্য প্রাণীর মৃত্যু।

“প্রাণী এমন একমত বন্ধু-তারা কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে না; তারা কোন সমালোচনা করে না।” - জর্জ এলিয়ট

ভালোবাসার বিশালতা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। বলা হয়, মানুষ জন্ম নেয় অসীম ভালোবাসার ক্ষমতা নিয়ে। তাদের সেই ভালোবাসা, যত্ন আর মায়ায় ভালোভাবে বেঁচে থাকে অসহায় ও অবহেলিত অনেক পশু-পাখিও।

পশু-পাখি প্রকৃতির অন্যতম উপাদান এদের প্রতি ভালোবাসা রাখা এবং অধিকার রক্ষা করা দায়িত্ব। আমাদের প্রিয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন পশুপাখি। ভালোবাসতেন তরুলতা ও প্রকৃতি। কেবল মানবজাতি নয়, জীবজন্তুর অধিকার রক্ষায়ও তিনি ছিলেন সোচ্চার।

পশুর প্রতি মানুষের আচরণ হওয়া উচিত – একজন মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ যেমন, ঠিক তেমন৷ প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ আপনি যদি পশু-পাখির প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে পারেন, তাহলে আপনি মানুষের প্রতিও সহানুভূতি দেখাতে পারবেন না৷ পশু-পাখি এত নিষ্পাপ, যা আপনি মানুষের মধ্যেও পাবেন না৷ পশু-পাখি তো কোনো পাপ করতে পারে না৷ এত নিষ্পাপ প্রাণীর প্রতি যদি আমরা মমতা দেখাতে না পারি, তাহলে মানুষের প্রতি মমত্ব দেখানোর কোনো বিষয় তৈরি হয় না৷ সারা বিশ্বে স্বীকৃত যে, মানুষের প্রতি মানুষের সহিংসতার সূত্রপাত হয় পশু-পাখির প্রতি ‘ভায়োলেন্স' থেকে৷ যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই একটা রিপোর্ট করেছিল যে, তাদের দেশের অধিকাংশ সিরিয়াল কিলারদের ‘অ্যানিমেল অ্যাবিউজ' করার ‘ব্যাকগ্রাউন্ড' আছে৷ প্রাণীর প্রতি আমাদের সম্পর্ক থাকা উচিত অনেক বেশি গভীর এবং ভালোবাসার।

আসুন, সব ধরনের প্রাণীর প্রতি সদয় ও স্নেহশীল হই। তাদের জন্য ভালোবাসা ও মমতা লালন করি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষায় মনোযোগী হই।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন