অর্থনীতির ওপর জ্ঞান অর্জন করে শেখ হাসিনার কর্মী হতে হবে
jugantor
অর্থনীতির ওপর জ্ঞান অর্জন করে শেখ হাসিনার কর্মী হতে হবে

  আদম তমিজী হক  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:৩৫:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

অতিমারি কোভিড-১৯ মোকাবিলা করার মর্ম বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে কিনা সন্দেহ আছে। অনেক উন্নত দেশগুলো যখন হিমশিম খেয়েছে, সেখানে একজন শেখ হাসিনা যেভাবে এই অতিমারিকে রুখে দিয়েছেন, তখন তাকে শুধুমাত্র ধন্যবাদ জানানোর মধ্যে থাকলেও প্রকৃত কৃতিত্ব ঘোষিত হয় না।

যেখানে সারাবিশ্বের মানুষের জীবন ব্যবস্থাই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল, সেই বিশ্ব ও আজকের বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে চলছে তো। অথচ, এক শ্রেণির মানুষ বৈশ্বিক সংকটের বাস্তবতা কে না দেখার ভান করে নিত্য পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়া নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছে। তাঁদের এমন কাজগুলোই হলো মুর্খতা।

বাংলাদেশে চার দলীয় ঐক্যজোটের সরকারের মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কি হাল ছিল, তা ভুলে যায় কেন মানুষ? ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপি সরকারের মেয়াদে বিদ্যুৎ চুরি ও বিদ্যুৎ না দিতে পারার ঐতিহাসিক কালো দিকগুলো নিয়ে আমরা কেন কলম ধরতে পারছি না, সেটিও একটি প্রশ্ন। অথচ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপ্লব করার জন্য শুরুতে ঝুঁকি নিয়ে কুইক রেন্টাল এবং আরও পরে শেখ হাসিনার অদম্য ইচ্ছায় মানুষ সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেয়েছিল, তা কী অস্বীকার করার সুযোগ আছে?

অতিমারি কোভিড-১৯ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সাময়িক অপর্যাপ্ত সরবরাহ দেখে আঁতকে ওঠার কিছু নেই-তো।

বাংলাদেশ গেল এক যুগে নিজেদের অর্থনীতিকে অতি উচ্চতায় নিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা অতি উন্মোচনে আগ্রহী হলে, আজ যে পাউরুটি ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে সেটির দাম হয়ে দাঁড়াত ১১০ টাকা। উদাহরণ হিসাবে তা বলছি। যখনই কোনো উন্নয়নশীল দেশ নিজেদেরকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঘোষণা করত, তখন তো সব কিছুর দাম বেড়ে যেত। কিন্তু, খুবই কৌশলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী- অর্থমন্ত্রী তা ঘোষণা না করে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। খুব সম্ভবত ২০৩০ সালের দিকে তেমন ঘোষণা রাখবে বাংলাদেশ। কিন্তু মধ্যম থেকে উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে আমরা ২০২৬ সালেই পৌঁছে যাব বলে মনে করার সুযোগ আছে।

কোনো সন্দেহ নেই যে এই পৃথিবী অতিমারি করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যে জীবনের জন্য মানব সভ্যতা-সেই জীবন যখন হুমকির মধ্যে পড়েছিল, এই উপলব্ধিতার মানসে জনশ্রেণিকে চিন্তার উদ্রেকে ভাসতে হবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে ঘুরে দাঁড়াতেও যে সময় লাগে, তা কতিপয় মহল বুঝেও অপরাজনীতি করতে উদ্যত ছিল। তখনও একটি পক্ষ জাতির জনকের পেছনে কুতর্ক করে কু-উদ্যোক্তা হয়ে এমন একটি রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করে, যার পরিণতিতে ১৫ আগস্টের মত নির্মম ও পৈশাচিক ঘটনা সামনে চলে আসে।

অথচ বঙ্গবন্ধু নিজেদের উপযোগী শাসন ব্যবস্থা কায়েমে ফলত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ পরিচালনা করছিলেন। আজকের বাস্তবতায় একজন বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পেছনেও একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি রাজনীতির পেছনের রাস্তায় কাজ করে যাচ্ছে। যা প্রতিহত করতে হবে।

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শাসক হিসেবে আমরা শেখ হাসিনাকে পেয়েছি। তাঁর মতো করে উন্নত নেতৃত্বের গুন নিয়ে নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি করতে হবে। ১৯৭১ সালেই বিপ্লব সাধিত হয়েছিল। শোষকের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলাম। আওয়ামী লীগই ছিল মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি। আজ তার কন্যার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। কোনো রাজনৈতিক অপশক্তির কাছে দেশের শাসনভার তুলে দেওয়া যাবে না। দরকার তাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করা। অপশক্তিদের কথিত বিপ্লবকে রুখে দেওয়া। এর জন্য রাজনৈতিক লেখাপড়া বাড়িয়ে অর্থনৈতিক জ্ঞানমনস্ক চরিত্র হতে হবে। তখন দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে।

মানবিক হয়ে প্রতিটি হৃদয় যেন বাংলাদেশের হয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি ও অর্থনীতির রঙ বুঝে লাল সবুজের বাংলায় স্থান করে নিতে পারে। সমস্বরে যেন বলতে পারি, জয় বাংলা!

লেখক: রাজনীতিক ও সমাজকর্মী

অর্থনীতির ওপর জ্ঞান অর্জন করে শেখ হাসিনার কর্মী হতে হবে

 আদম তমিজী হক 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অতিমারি কোভিড-১৯ মোকাবিলা করার মর্ম বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে কিনা সন্দেহ আছে। অনেক উন্নত দেশগুলো যখন হিমশিম খেয়েছে, সেখানে একজন শেখ হাসিনা যেভাবে এই অতিমারিকে রুখে দিয়েছেন, তখন তাকে শুধুমাত্র ধন্যবাদ জানানোর মধ্যে থাকলেও প্রকৃত কৃতিত্ব ঘোষিত হয় না। 

যেখানে সারাবিশ্বের মানুষের জীবন ব্যবস্থাই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল, সেই বিশ্ব ও আজকের বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে চলছে তো। অথচ, এক শ্রেণির মানুষ বৈশ্বিক সংকটের বাস্তবতা কে না দেখার ভান করে নিত্য পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়া নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছে। তাঁদের এমন কাজগুলোই হলো মুর্খতা।  

বাংলাদেশে চার দলীয় ঐক্যজোটের সরকারের মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কি হাল ছিল, তা ভুলে যায় কেন মানুষ? ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত জামায়াত-বিএনপি সরকারের মেয়াদে বিদ্যুৎ চুরি ও বিদ্যুৎ না দিতে পারার ঐতিহাসিক কালো দিকগুলো নিয়ে আমরা কেন কলম ধরতে পারছি না, সেটিও একটি প্রশ্ন। অথচ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপ্লব করার জন্য শুরুতে ঝুঁকি নিয়ে কুইক রেন্টাল এবং আরও পরে শেখ হাসিনার অদম্য ইচ্ছায় মানুষ সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেয়েছিল, তা কী অস্বীকার করার সুযোগ আছে? 

অতিমারি কোভিড-১৯ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সাময়িক অপর্যাপ্ত সরবরাহ দেখে আঁতকে ওঠার কিছু নেই-তো।

বাংলাদেশ  গেল এক যুগে নিজেদের অর্থনীতিকে অতি উচ্চতায় নিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা অতি উন্মোচনে আগ্রহী হলে, আজ যে পাউরুটি ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে সেটির দাম হয়ে দাঁড়াত ১১০ টাকা। উদাহরণ হিসাবে তা বলছি। যখনই কোনো উন্নয়নশীল দেশ নিজেদেরকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বৈশ্বিক পর্যায়ে  ঘোষণা করত, তখন তো সব কিছুর দাম বেড়ে যেত। কিন্তু, খুবই কৌশলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী- অর্থমন্ত্রী তা ঘোষণা না করে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। খুব সম্ভবত ২০৩০ সালের দিকে তেমন ঘোষণা রাখবে বাংলাদেশ। কিন্তু মধ্যম থেকে উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে আমরা ২০২৬ সালেই পৌঁছে যাব বলে মনে করার সুযোগ আছে।

কোনো সন্দেহ নেই যে এই পৃথিবী অতিমারি করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যে জীবনের জন্য মানব সভ্যতা-সেই জীবন যখন হুমকির মধ্যে পড়েছিল, এই উপলব্ধিতার মানসে জনশ্রেণিকে চিন্তার উদ্রেকে ভাসতে হবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে ঘুরে দাঁড়াতেও যে সময় লাগে, তা কতিপয় মহল বুঝেও অপরাজনীতি করতে উদ্যত ছিল।  তখনও একটি পক্ষ জাতির জনকের পেছনে কুতর্ক করে কু-উদ্যোক্তা হয়ে এমন একটি রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করে, যার পরিণতিতে ১৫ আগস্টের মত নির্মম ও পৈশাচিক ঘটনা সামনে চলে আসে। 

অথচ বঙ্গবন্ধু নিজেদের উপযোগী শাসন ব্যবস্থা কায়েমে ফলত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশ পরিচালনা করছিলেন। আজকের বাস্তবতায় একজন বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পেছনেও একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তি রাজনীতির পেছনের রাস্তায় কাজ করে যাচ্ছে। যা প্রতিহত করতে হবে।

বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শাসক হিসেবে আমরা শেখ হাসিনাকে পেয়েছি। তাঁর মতো করে উন্নত নেতৃত্বের গুন নিয়ে নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি করতে হবে। ১৯৭১ সালেই বিপ্লব সাধিত হয়েছিল। শোষকের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলাম। আওয়ামী লীগই ছিল মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল। 

বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি। আজ তার কন্যার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। কোনো রাজনৈতিক অপশক্তির কাছে দেশের শাসনভার তুলে দেওয়া যাবে না। দরকার তাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করা। অপশক্তিদের কথিত বিপ্লবকে রুখে দেওয়া। এর জন্য রাজনৈতিক লেখাপড়া বাড়িয়ে অর্থনৈতিক জ্ঞানমনস্ক চরিত্র হতে হবে। তখন দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে। 

মানবিক হয়ে প্রতিটি হৃদয় যেন বাংলাদেশের হয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতি ও অর্থনীতির রঙ বুঝে লাল সবুজের বাংলায় স্থান করে নিতে পারে। সমস্বরে যেন বলতে পারি, জয় বাংলা!

লেখক: রাজনীতিক ও সমাজকর্মী

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন