মানবিক বাংলাদেশের রূপকার
jugantor
মানবিক বাংলাদেশের রূপকার

  ড. মুহম্মদ মনিরুল হক  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২০:০৩:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী নেতৃত্বে মাথা উঁচু করে চলা বাংলাদেশ মানবিকতায় পরিপূর্ণ। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি ‘বয়স্ক ভাতা’, ‘বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ভাতা’, ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা’, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’, ‘গৃহায়ন’, ‘আদর্শ গ্রাম’, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ কর্মসূচিসহ অনেক মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বে কৃষক, ভূমিহীন ও দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

তার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়েছে, যা মানবিক চেতনার বাংলাদেশকে নতুন দিগন্ত দিয়েছে। এ চুক্তির ফলে ১৯৯৮ সালে তিনি অর্জন করেছেন ইউনেস্কোর ‘হুপে-বোয়ানি শান্তি’ পুরস্কার।

২০০৯ সালে এবং এর পরবর্তী সময়ে তৃতীয় ও চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনা মানবিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন এবং দেশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছেন। তার একটানা নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশের মঙ্গা, খরা, বন্যায় না খেয়ে থাকা মানুষের ইতিহাস মোচন হয়েছে।

অসহায়, এতিম, বৃদ্ধ, নারী, শিশু, কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিভিন্ন কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার নির্দেশে সরকারি খরচে ৯ লাখ ঘরহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী হলেও শেখ হাসিনা আসলে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র মানুষের কণ্ঠস্বর।’

বিশ্বের অন্যতম সৎ, দক্ষ ও সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতিসহ শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন পঞ্চাশের অধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও পদক। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০০ জন বুদ্ধিজীবী এবং ১০০ জন প্রভাবশালী নেতার অন্যতম। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ‘মাদার তেরেসা’ পদক, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার ‘সেরেস পদক’, ইউনেস্কোর ‘শান্তিবৃক্ষ পুরস্কার’, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ পুরস্কার’, ‘ডটার অব ডেমোক্রেসি’ পদকসহ তিনি অর্জন করেছেন অনেক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

তিনি পেয়েছেন The voice of the Vulnerable , ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘মানবতার চ্যাম্পিয়ন’, ‘বিশ্বমানবতার নেতৃত্ব’ ও ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক নেতা’র উপাধি। শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারপ্রধান ‘সততার টাইটেল’ বা ‘সৎ শাসকে’র স্বীকৃতি পাননি।

উপরন্তু, শেখ হাসিনার নিয়মানুবর্তিতা, জীবনদর্শন-আদর্শ ও ব্যক্তিগত সংস্পর্শে অনেক নেতাকর্মী ও আমলা সৎ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েছেন। শেখ হাসিনাই হচ্ছেন দেশের একমাত্র নেতা, যিনি বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে জয়ী হয়েছেন-প্রিয় বাংলাদেশকে জয়ী করেছেন।

শেখ হাসিনার মানবিক কর্মকাণ্ড বহির্বিশ্বে বেশি প্রচারিত হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন ইউনিভার্সিটি ২০১৭ সালে তাকে ‘মানবতার চ্যাম্পিয়ন’ হিসাবে বিবেচনা করেছে। পোপ ফ্রান্সিস এবং বিল গেটসকে পেছনে ফেলে ২০১৭ সালে বিশ্বের সেরা মানবিক নেতা মনোনীত হয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে ব্রিটিশ মিডিয়া ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামে আখ্যায়িত করেছে তাকে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ‘শেখ হাসিনা : দ্য মাদার অব হিউম্যানিটি’ শিরোনামে স্টোরি করেছে ইউরোপের ম্যাগাজিন ‘ডিপ্লোম্যাট’। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে ঢাকা সফরে এসে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মানবিক রাষ্ট্র। ... এমন মানবিক বাংলাদেশের পাশে সুইজারল্যান্ড সবসময় থাকতে চায়।’

শেখ হাসিনা ব্যক্তিজীবনেও মমতাময়ী, দয়াশীল, নীতিবান ও ধার্মিক। অনেক এতিম, অসহায়, দুর্গত, দুর্ঘটনায় পতিত এবং পথশিশুদের মায়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনি মানবিকতার মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, ‘দারিদ্র্য নিরসনে আমার সরকার নিজস্ব উদ্ভাবিত সমাধানের ওপর বিশ্বাসী।’ সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সর্বোচ্চ উপযোগ গ্রহণ নিশ্চিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনে শেখ হাসিনার সফলতা যুগান্তকারী।

১৭ অক্টোবর ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যবিমোচন দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের উন্নয়নের একটি মানবিক অবয়ব রয়েছে। দারিদ্র্য ও ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবন-মানের উন্নয়ন আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অন্যতম নিয়ামক হিসাবে ভূমিকা পালন করেছে।’

শেখ হাসিনার প্রদত্ত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাব জাতিসংঘের অধিবেশনে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহীত হয়েছে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

সরকার শুধু রাষ্ট্রের মুখপাত্রই নয়, রাষ্ট্রের রূপকারও। সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের নীতি-আদর্শ ও বৈশিষ্ট্যের কারণেও রাষ্ট্রের ধরন বা শ্রেণি-বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত হয়। শেখ হাসিনা এ সময়ের প্রধান কথক, প্রভাবশালী নিয়ামক, জীবন্ত এক কিংবদন্তি। বাংলাদেশের স্থপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হয়েও এবং নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েও সহজ-সাধারণ বাঙালি নারীর মতো বিলাসিতাহীন জীবনযাপন করেন শেখ হাসিনা।

তার শাসনামলে রাষ্ট্র ও সরকারের পরিধি ও কার্যাবলি বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সুবিধার্থে এবং সমাজজীবনের পূর্ণতার জন্য রাষ্ট্র স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এমন অনেক কার্যাবলি সম্পন্ন করেছে, যা দারিদ্র্যবিমোচনের পাশাপাশি একটি মানবিক রাষ্ট্রের ধারণাকে সমুন্নত করেছে। তার ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়ন তত্ত্ব বিশ্বকে নতুন দিগন্ত দিয়েছে। এ দিগন্তকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে বিশ্লেষণ করলে একটি মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা উজ্জ্বল হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং বাংলাদেশ হবে সেই রাষ্ট্র গঠনের মডেল, এ কামনা করে দেশমান্য শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাই।

ড. মুহম্মদ মনিরুল হক : শিক্ষা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ

মানবিক বাংলাদেশের রূপকার

 ড. মুহম্মদ মনিরুল হক 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার উদ্ভাবনী নেতৃত্বে মাথা উঁচু করে চলা বাংলাদেশ মানবিকতায় পরিপূর্ণ। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তিনি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। 

তিনি ‘বয়স্ক ভাতা’, ‘বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ভাতা’, ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা’, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’, ‘গৃহায়ন’, ‘আদর্শ গ্রাম’, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ কর্মসূচিসহ অনেক মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বে কৃষক, ভূমিহীন ও দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। 

তার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়েছে, যা মানবিক চেতনার বাংলাদেশকে নতুন দিগন্ত দিয়েছে। এ চুক্তির ফলে ১৯৯৮ সালে তিনি অর্জন করেছেন ইউনেস্কোর ‘হুপে-বোয়ানি শান্তি’ পুরস্কার।

২০০৯ সালে এবং এর পরবর্তী সময়ে তৃতীয় ও চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনা মানবিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন এবং দেশকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছেন। তার একটানা নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশের মঙ্গা, খরা, বন্যায় না খেয়ে থাকা মানুষের ইতিহাস মোচন হয়েছে। 

অসহায়, এতিম, বৃদ্ধ, নারী, শিশু, কবি-সাহিত্যিকদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিভিন্ন কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার নির্দেশে সরকারি খরচে ৯ লাখ ঘরহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। 

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী হলেও শেখ হাসিনা আসলে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র মানুষের কণ্ঠস্বর।’

বিশ্বের অন্যতম সৎ, দক্ষ ও সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতিসহ শেখ হাসিনা অর্জন করেছেন পঞ্চাশের অধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও পদক। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০০ জন বুদ্ধিজীবী এবং ১০০ জন প্রভাবশালী নেতার অন্যতম। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ‘মাদার তেরেসা’ পদক, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার ‘সেরেস পদক’, ইউনেস্কোর ‘শান্তিবৃক্ষ পুরস্কার’, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ পুরস্কার’, ‘ডটার অব ডেমোক্রেসি’ পদকসহ তিনি অর্জন করেছেন অনেক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। 

তিনি পেয়েছেন The voice of the Vulnerable , ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘মানবতার চ্যাম্পিয়ন’, ‘বিশ্বমানবতার নেতৃত্ব’ ও ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক নেতা’র উপাধি। শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারপ্রধান ‘সততার টাইটেল’ বা ‘সৎ শাসকে’র স্বীকৃতি পাননি। 

উপরন্তু, শেখ হাসিনার নিয়মানুবর্তিতা, জীবনদর্শন-আদর্শ ও ব্যক্তিগত সংস্পর্শে অনেক নেতাকর্মী ও আমলা সৎ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েছেন। শেখ হাসিনাই হচ্ছেন দেশের একমাত্র নেতা, যিনি বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করে জয়ী হয়েছেন-প্রিয় বাংলাদেশকে জয়ী করেছেন।

শেখ হাসিনার মানবিক কর্মকাণ্ড বহির্বিশ্বে বেশি প্রচারিত হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন ইউনিভার্সিটি ২০১৭ সালে তাকে ‘মানবতার চ্যাম্পিয়ন’ হিসাবে বিবেচনা করেছে। পোপ ফ্রান্সিস এবং বিল গেটসকে পেছনে ফেলে ২০১৭ সালে বিশ্বের সেরা মানবিক নেতা মনোনীত হয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে ব্রিটিশ মিডিয়া ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামে আখ্যায়িত করেছে তাকে। 
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ‘শেখ হাসিনা : দ্য মাদার অব হিউম্যানিটি’ শিরোনামে স্টোরি করেছে ইউরোপের ম্যাগাজিন ‘ডিপ্লোম্যাট’। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে ঢাকা সফরে এসে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মানবিক রাষ্ট্র। ... এমন মানবিক বাংলাদেশের পাশে সুইজারল্যান্ড সবসময় থাকতে চায়।’

শেখ হাসিনা ব্যক্তিজীবনেও মমতাময়ী, দয়াশীল, নীতিবান ও ধার্মিক। অনেক এতিম, অসহায়, দুর্গত, দুর্ঘটনায় পতিত এবং পথশিশুদের মায়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনি মানবিকতার মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, ‘দারিদ্র্য নিরসনে আমার সরকার নিজস্ব উদ্ভাবিত সমাধানের ওপর বিশ্বাসী।’ সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, সর্বোচ্চ উপযোগ গ্রহণ নিশ্চিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টনে শেখ হাসিনার সফলতা যুগান্তকারী। 

১৭ অক্টোবর ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যবিমোচন দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের উন্নয়নের একটি মানবিক অবয়ব রয়েছে। দারিদ্র্য ও ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবন-মানের উন্নয়ন আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অন্যতম নিয়ামক হিসাবে ভূমিকা পালন করেছে।’ 

শেখ হাসিনার প্রদত্ত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এবং ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাব জাতিসংঘের অধিবেশনে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহীত হয়েছে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

সরকার শুধু রাষ্ট্রের মুখপাত্রই নয়, রাষ্ট্রের রূপকারও। সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের নীতি-আদর্শ ও বৈশিষ্ট্যের কারণেও রাষ্ট্রের ধরন বা শ্রেণি-বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত হয়। শেখ হাসিনা এ সময়ের প্রধান কথক, প্রভাবশালী নিয়ামক, জীবন্ত এক কিংবদন্তি। বাংলাদেশের স্থপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হয়েও এবং নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েও সহজ-সাধারণ বাঙালি নারীর মতো বিলাসিতাহীন জীবনযাপন করেন শেখ হাসিনা। 

তার শাসনামলে রাষ্ট্র ও সরকারের পরিধি ও কার্যাবলি বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সুবিধার্থে এবং সমাজজীবনের পূর্ণতার জন্য রাষ্ট্র স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এমন অনেক কার্যাবলি সম্পন্ন করেছে, যা দারিদ্র্যবিমোচনের পাশাপাশি একটি মানবিক রাষ্ট্রের ধারণাকে সমুন্নত করেছে। তার ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উন্নয়ন তত্ত্ব বিশ্বকে নতুন দিগন্ত দিয়েছে। এ দিগন্তকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে বিশ্লেষণ করলে একটি মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা উজ্জ্বল হয়। 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং বাংলাদেশ হবে সেই রাষ্ট্র গঠনের মডেল, এ কামনা করে দেশমান্য শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শ্রদ্ধা জানাই।

ড. মুহম্মদ মনিরুল হক : শিক্ষা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন