শাঁখারিবাজার ও আমাদের ঐতিহ্য
jugantor
শাঁখারিবাজার ও আমাদের ঐতিহ্য

  মনোজ সরকার  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:১৫:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

শত শত বছরের পুরাতন বাড়ি আর গোলকধাঁধার মতো সরু সরু গলির সমাহার। একবার ঢুকলেই মনে হবে যেন কলকাতা শহরের কোনো এক গলিতে চলে এসেছি। গলিতে ঢুকতেই ধুপ-সিঁদুরের ঘ্রাণ। থেমে থেমে কাসা আর করতালের ধ্বনি। দোকানগুলোতে সাজানো পসরা; সবসময় চারিদিকে বিচরণ করে যেন সাজসাজ রব। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পূজা-পার্বণে এই গলি যেন সেজে ওঠে পুরোপুরি ভিন্ন এক সাজে।

বলছি শাঁখারিবাজারের কথা। বুড়িগঙ্গা নদীর কাছে ইসলামপুর রোড ও নওয়াবপুর রোডের সংযোগস্থলে অবস্থিত শাঁখারিবাজার ঢাকা শহরের পুরনো ও ঐতিহাসিক এলাকা। শাঁখারিদের নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছে শাঁখারিবাজারে। এখানকার শাঁখারিরা বংশগতভাবে শাঁখা তৈরি করে আসছেন। আর শাঁখারিদের রয়েছে বিশাল ঐতিহ্য এবং এখানে আসার পেছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক কারণ। এখানে বসবাসকারী শাঁখারিদের রয়েছে নিজস্ব বাসস্থান, ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

অবশ্য কালের পরিক্রমায় শাঁখারিবাজারের সেই ঐতিহ্য সবই হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে শাঁখারিবাজার এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। তাদের সেই সংস্কৃতির সঙ্গে মিলে-মিশে এক হয়ে গেছে। এছাড়া আধুনিকতা আর প্রযুক্তি তাদের সেই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বড় একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে। শাঁখারিদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যান্য পেশাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এর ফলে প্রাচীন শাঁখা শিল্প আজ বিপন্নতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। শাঁখারিদের অনেকেই নিজেদের আদি পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন।

এক সময় শাঁখারিদের নিজস্ব সংস্কৃত ও ঐতিহ্য ছিল। তাদের সংস্কৃতির সব অংশই জুড়ে ছিল শাঁখারিবাজার কেন্দ্রিক। বিয়ে, পূজা, আনুষ্ঠানিতকা ছিল কোট-কাছারি হতে ইসলামপুর পর্যন্ত ওই গলিটুকুর মধ্যে। এমনকি শোনা যায়, সেখানকার মেয়েরা কখনো বাইরে বের হতো না। শাঁখারিবাজারের মেয়েরা ছিল খুবই সুন্দরী এবং পতিব্রতা। পূজা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে মেয়েদের বিচরণ ছিল গলিটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কথিত আছে, শাঁখারিবাজারের মেয়েদের বিয়ে করার অন্য এলাকার ছেলেদের অনেক আগ্রহ ছিল; কিন্তু তাদের সেই আশা কখনো পূরণ হতো না।

এই শাঁখারিবাজার শুধু তাদের নিজস্বতার মধ্যে নেই এখন আর। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস। শাঁখারিবাজারের কল্পনা বোর্ডিং ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে ও পরে এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তিনি প্রায়ই রাতে এখানে থাকতেন। রাজা তৈলক্ষ মহারাজ, সুবোধ মিত্র, আব্দুর রাজ্জাক, রণেশ দাস মৈত্রসহ বিভিন্ন নামিদামি লোকের যাতায়াত ছিল এখানে।

কল্পনা বোর্ডিংয়ের দোতালার এক ঘরে সেই সময় মুজিব বাহিনী গঠিত হয়। যুদ্ধের এখানে বিভিন্ন সভা ছিল নিয়মিত। ভারতের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি এখানে থেকে গেছেন। যুদ্ধের সময় ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা এখানে থাকতেন। সে সময় এখান থেকে ভারতের ভিসা দেওয়া হতো। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে পাক হানাদার বাহিনী বোর্ডিংটি পুড়িয়ে দেয়। ২৯ মার্চের পর এখানে কেউ ছিল না। ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এটি পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে কল্পনা বোর্ডিংয়ে থাকা-খাওয়ার আর ব্যবস্থা নেই। মালিক বদলও হয়েছে। কল্পনা বোর্ডিং এখন কমিউনিটি সেন্টার।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এখানকার শাঁখারিরা বংশানুক্রমিকভাবে শাঁখা তৈরি করে চলেছেন। এদের পূর্বপুরুষরা বল্লাল সেনের আমলে দক্ষিণ ভারত থেকে এসেছিলেন। প্রথমে তারা বসতি গড়ে তোলেন বিক্রমপুরে। জেমস ওয়াইজের ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের বর্ণনা অনুসারে, ওই সময় ৮৩৫ জন শাঁখারি বসবাস করতেন। তারপর ঢাকা এলাকার শাঁখারি পট্টি বা শাঁখারিবাজারে থাকা শুরু করেন।

সতেরো শতকে মোগল শাসনামলে খাজনাবিহীন লাখেরাজ জমি প্রদান করে শাঁখারিদেরকে ঢাকা শহরে নিয়ে আসা হয়। শাঁখারিরা ঢাকায় এসে যে অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছিল তা আমাদের কাছে বর্তমানে পরিচিত শাঁখারিবাজার নামে। সপ্তদশ শতকের মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁর সেনাপতি মির্জা নাথান এর লেখায় শাঁখারিবাজারের উল্লেখ রয়েছে।

জেমস ওয়াইজের মতে, শাঁখারিদের বাসগৃহ ও এর স্থাপত্য স্বতন্ত্র ধরনের। শাঁখারিদের যে লাখেরাজ জমি দেয়া হয়েছিল তা ছিল আয়তনে অনেক ক্ষুদ্র। সেই আয়তন মেনেই নির্মিত হতো বাসগৃহ। বাসগৃহের সামনের মূল ফটক হত ৬ ফুটের মতো। এরপর ২০-৩০ ফুটের মতো লম্বা করিডোর চলে যেত ভিতরে। এরপর দালানগুলো পেছনের দিকে ২০ গজ মতো প্রসারিত। দালানগুলো ছিল অধিকাংশই ৪ তলা বিশিষ্ট। একতলার উপরের মধ্যবর্তী স্থান ছোট প্রাঙ্গণের ন্যায় খোলা রাখা হতো। এখন অবশ্য তেমন আর নেই। বংশ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই ফাঁকা স্থানও ভরাট হয়ে গেছে। অনেকে পুরাতন ভবন ভেঙে নতুনত্ব এনেছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী শাঁখারিবাজার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর শাঁখারিরা আবার এসে বসবাস শুরু করে সেই জায়গায়। ২০০৪ সালে পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারে ভবন ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন কারিগরি জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। শুধু শাঁখারিবাজারেই ঐতিহ্যবাহী ও ঝুঁকিপূর্ণ ৯৫টি ভবন শনাক্ত হয়।

এরপর হাজার বছরেরও বেশি পুরনো স্থাপত্য নিদর্শন ও অঞ্চলগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাঁখারিবাজারসহ চারটি অঞ্চল ও মোট ৯৩টি স্থাপনাকে ঢাকার ঐতিহ্য বা হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এসব স্থাপনা ও এলাকায় অবস্থিত ইমারত, উন্মুক্ত জায়গা, রাস্তা ও গলির প্রকৃত অবস্থার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংস্কার, অপসারণ ও ধ্বংস করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো সংস্থার মালিকানাধীন কোনো স্থাপনা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে তা পরিবর্তন, সংস্কার ও অপসারণ করতে নগর উন্নয়ন কমিটির অনুমতি নেওয়া আবশ্যক করা হয়।

শাঁখারিবাজার ও আমাদের ঐতিহ্য

 মনোজ সরকার 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শত শত বছরের পুরাতন বাড়ি আর গোলকধাঁধার মতো সরু সরু গলির সমাহার। একবার ঢুকলেই মনে হবে যেন কলকাতা শহরের কোনো এক গলিতে চলে এসেছি। গলিতে ঢুকতেই ধুপ-সিঁদুরের ঘ্রাণ। থেমে থেমে কাসা আর করতালের ধ্বনি। দোকানগুলোতে সাজানো পসরা; সবসময় চারিদিকে বিচরণ করে যেন সাজসাজ রব। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পূজা-পার্বণে এই গলি যেন সেজে ওঠে পুরোপুরি ভিন্ন এক সাজে।

বলছি শাঁখারিবাজারের কথা। বুড়িগঙ্গা নদীর কাছে ইসলামপুর রোড ও নওয়াবপুর রোডের সংযোগস্থলে অবস্থিত শাঁখারিবাজার ঢাকা শহরের পুরনো ও ঐতিহাসিক এলাকা। শাঁখারিদের নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছে শাঁখারিবাজারে। এখানকার শাঁখারিরা বংশগতভাবে শাঁখা তৈরি করে আসছেন। আর শাঁখারিদের রয়েছে বিশাল ঐতিহ্য এবং এখানে আসার পেছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক কারণ। এখানে বসবাসকারী শাঁখারিদের রয়েছে নিজস্ব বাসস্থান, ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।

অবশ্য কালের পরিক্রমায় শাঁখারিবাজারের সেই ঐতিহ্য সবই হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে শাঁখারিবাজার এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। তাদের সেই সংস্কৃতির সঙ্গে মিলে-মিশে এক হয়ে গেছে। এছাড়া আধুনিকতা আর প্রযুক্তি তাদের সেই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বড় একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে। শাঁখারিদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যান্য পেশাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এর ফলে প্রাচীন শাঁখা শিল্প আজ বিপন্নতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। শাঁখারিদের অনেকেই নিজেদের আদি পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন।

এক সময় শাঁখারিদের নিজস্ব সংস্কৃত ও ঐতিহ্য ছিল। তাদের সংস্কৃতির সব অংশই জুড়ে ছিল শাঁখারিবাজার কেন্দ্রিক। বিয়ে, পূজা, আনুষ্ঠানিতকা ছিল কোট-কাছারি হতে ইসলামপুর পর্যন্ত ওই গলিটুকুর মধ্যে। এমনকি শোনা যায়, সেখানকার মেয়েরা কখনো বাইরে বের হতো না। শাঁখারিবাজারের মেয়েরা ছিল খুবই সুন্দরী এবং পতিব্রতা। পূজা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে মেয়েদের বিচরণ ছিল গলিটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কথিত আছে, শাঁখারিবাজারের মেয়েদের বিয়ে করার অন্য এলাকার ছেলেদের অনেক আগ্রহ ছিল; কিন্তু তাদের সেই আশা কখনো পূরণ হতো না।

এই শাঁখারিবাজার শুধু তাদের নিজস্বতার মধ্যে নেই এখন আর। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস। শাঁখারিবাজারের কল্পনা বোর্ডিং ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে ও পরে এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে তিনি প্রায়ই রাতে এখানে থাকতেন। রাজা তৈলক্ষ মহারাজ, সুবোধ মিত্র, আব্দুর রাজ্জাক, রণেশ দাস মৈত্রসহ বিভিন্ন নামিদামি লোকের যাতায়াত ছিল এখানে।

কল্পনা বোর্ডিংয়ের দোতালার এক ঘরে সেই সময় মুজিব বাহিনী গঠিত হয়। যুদ্ধের এখানে বিভিন্ন সভা ছিল নিয়মিত। ভারতের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি এখানে থেকে গেছেন। যুদ্ধের সময় ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা এখানে থাকতেন। সে সময় এখান থেকে ভারতের ভিসা দেওয়া হতো। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে পাক হানাদার বাহিনী বোর্ডিংটি পুড়িয়ে দেয়। ২৯ মার্চের পর এখানে কেউ ছিল না। ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এটি পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে কল্পনা বোর্ডিংয়ে থাকা-খাওয়ার আর ব্যবস্থা নেই। মালিক বদলও হয়েছে। কল্পনা বোর্ডিং এখন কমিউনিটি সেন্টার।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এখানকার শাঁখারিরা বংশানুক্রমিকভাবে শাঁখা তৈরি করে চলেছেন। এদের পূর্বপুরুষরা বল্লাল সেনের আমলে দক্ষিণ ভারত থেকে এসেছিলেন। প্রথমে তারা বসতি গড়ে তোলেন বিক্রমপুরে। জেমস ওয়াইজের ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের বর্ণনা অনুসারে, ওই সময় ৮৩৫ জন শাঁখারি বসবাস করতেন। তারপর ঢাকা এলাকার শাঁখারি পট্টি বা শাঁখারিবাজারে থাকা শুরু করেন।

সতেরো শতকে মোগল শাসনামলে খাজনাবিহীন লাখেরাজ জমি প্রদান করে শাঁখারিদেরকে ঢাকা শহরে নিয়ে আসা হয়। শাঁখারিরা ঢাকায় এসে যে অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছিল তা আমাদের কাছে বর্তমানে পরিচিত শাঁখারিবাজার নামে। সপ্তদশ শতকের মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁর সেনাপতি মির্জা নাথান এর লেখায় শাঁখারিবাজারের উল্লেখ রয়েছে।

জেমস ওয়াইজের মতে, শাঁখারিদের বাসগৃহ ও এর স্থাপত্য স্বতন্ত্র ধরনের। শাঁখারিদের যে লাখেরাজ জমি দেয়া হয়েছিল তা ছিল আয়তনে অনেক ক্ষুদ্র। সেই আয়তন মেনেই নির্মিত হতো বাসগৃহ। বাসগৃহের সামনের মূল ফটক হত ৬ ফুটের মতো। এরপর ২০-৩০ ফুটের মতো লম্বা করিডোর চলে যেত ভিতরে। এরপর দালানগুলো পেছনের দিকে ২০ গজ মতো প্রসারিত। দালানগুলো ছিল অধিকাংশই ৪ তলা বিশিষ্ট। একতলার উপরের মধ্যবর্তী স্থান ছোট প্রাঙ্গণের ন্যায় খোলা রাখা হতো। এখন অবশ্য তেমন আর নেই। বংশ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই ফাঁকা স্থানও ভরাট হয়ে গেছে। অনেকে পুরাতন ভবন ভেঙে নতুনত্ব এনেছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী শাঁখারিবাজার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর শাঁখারিরা আবার এসে বসবাস শুরু করে সেই জায়গায়। ২০০৪ সালে পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারে ভবন ধসে ১৭ জনের মৃত্যু হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন কারিগরি জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। শুধু শাঁখারিবাজারেই ঐতিহ্যবাহী ও ঝুঁকিপূর্ণ ৯৫টি ভবন শনাক্ত হয়।

এরপর হাজার বছরেরও বেশি পুরনো স্থাপত্য নিদর্শন ও অঞ্চলগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাঁখারিবাজারসহ চারটি অঞ্চল ও মোট ৯৩টি স্থাপনাকে ঢাকার ঐতিহ্য বা হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এসব স্থাপনা ও এলাকায় অবস্থিত ইমারত, উন্মুক্ত জায়গা, রাস্তা ও গলির প্রকৃত অবস্থার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংস্কার, অপসারণ ও ধ্বংস করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো সংস্থার মালিকানাধীন কোনো স্থাপনা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে তা পরিবর্তন, সংস্কার ও অপসারণ করতে নগর উন্নয়ন কমিটির অনুমতি নেওয়া আবশ্যক করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন