পৃথিবী নামের গ্রহটিতে কী বেশি প্রয়োজন?
jugantor
পৃথিবী নামের গ্রহটিতে কী বেশি প্রয়োজন?

  রাজীব কুমার দাশ  

০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২১:২০:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রাণীর মূল কাজই হচ্ছে আহার ও মৈথুন। মানুষ প্রাণী হিসেবে বুদ্ধিমান বলে নিজেরা জাহির করেন, কিন্তু মানুষের চাইতেও অনেক অনেক সমঝদার বুদ্ধিমান প্রাণী পৃথিবীতে বসবাস করেন। চরম অহংকারী মনের মানুষ নামের প্রাণীটি এখনো পর্যন্ত যেখানে-ছোট একটি মৌমাছি নিয়ে অকাট্য নিরঙ্কুশ গবেষণা শেষ করতে পারেননি। সরীসৃপ প্রাণীর ধ্যান জ্ঞানে জানতে পারেননি; প্রকৃতির আগাম সতর্ক বার্তা বিপদ সংকেত। তবুও মানুষ নামের প্রাণীটি নিজেদের ভাবেন-অনেক অনেক মহান।

যে প্রাণীটি নিজের সঙ্গে প্রতিমুহূর্ত প্রতারণা বেইমানি করেন, নিজের স্বজাতি মেরে ফেলার নতুন নতুন ফন্দিফিকির করেন, চরম নিষ্ঠুরভাবে বজ্জাতি মনে নিজের স্বজাতি আপনজন মেরে সবকিছু কেড়ে নেন; একটু নিজেকে ভালো রাখতে নিজ নিজ ধর্মের সঙ্গে প্রতারণা বেঈমানি করে কিছু একটা নামের দোহাই দিয়ে লুটপাট চালিয়ে নিজেদের নিজেই মেরে ফেলেন; শ্মশান গোরস্থান লাশ দিয়ে ব্যবসা করে মুখে নীতিকথা আওড়ান, ভয়ে যেখানে নিজেদের স্বজাতি পালিয়ে বেড়ান, সে সর্বনাশা দুর্বোধ্য ইতর প্রজাতিভুক্ত প্রাণীটিই হচ্ছে-মানুষ।

তবুও এই প্রাণীটি চরম দাম্ভিক মনে নিজেদের ভাবেন- অনেক অনেক মহান। অনেক রকমভাবে যুক্তি দিয়ে বোঝান- তাদের ভোগের জন্যে এই পৃথিবীর সৃষ্টি; তারা তাদের খুশিমতো ইচ্ছে মতো সবকিছু ভোগ করবেন, কেড়ে নেবেন। তারা যা খুশি করবেন। তারা না হলে পৃথিবী নামের এই গ্রহটি সৃষ্টি হতো না, কেবলমাত্র ইচ্ছাশক্তির মুরোদ দেখিয়ে যখন তখন পৃথিবীর বারোটা বাজিয়ে অন্য প্রাণীর অধিকার কেড়ে নিবেন ইত্যাদি ইত্যাদি হাজার লক্ষ কোটি আষাঢ়ে গল্পজুড়ে ভোগে মাস্তি করবেন।

এই প্রাণীটি নিয়ে আশাহত পৃথিবী! চরম হতাশ স্বর্গ মর্ত্য পাতাল দখিনা বাতাস। অনেক আগেই মানুষ নামের প্রাণীটি পৃথিবীতে বেঁচে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।

গরু ছাগল দুম্বা উট প্রজাপতি মৌমাছি তিমি গিরগিটি পিঁপড়া নিজেদের কাজকাম বুঝে ঠিকঠাক মতো চালিয়ে গেলেও মানুষের আসল কাজকাম কী? সেটাই যখন এই মাথামোটা বর্বর প্রাণীটি বুঝতে পারেননি! মানুষরূপী ভয়ঙ্কর ইতর প্রাণীটি নিজের কাজকাম ছাড়া শুধু শুধু বেঁচে থাকা পৃথিবী নামের গ্রহটিতে কী বেশি প্রয়োজন?

লেখক: রাজীব কুমার দাশ, প্রাবন্ধিক ও কবি
পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।
মেইল: rajibkumarvandari800 @gmail.com.

পৃথিবী নামের গ্রহটিতে কী বেশি প্রয়োজন?

 রাজীব কুমার দাশ 
০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রাণীর মূল কাজই হচ্ছে আহার ও মৈথুন। মানুষ প্রাণী হিসেবে বুদ্ধিমান বলে নিজেরা জাহির করেন, কিন্তু মানুষের চাইতেও অনেক অনেক সমঝদার বুদ্ধিমান প্রাণী পৃথিবীতে বসবাস করেন। চরম অহংকারী মনের মানুষ নামের প্রাণীটি এখনো পর্যন্ত যেখানে-ছোট একটি মৌমাছি নিয়ে অকাট্য নিরঙ্কুশ গবেষণা শেষ করতে পারেননি। সরীসৃপ প্রাণীর ধ্যান জ্ঞানে জানতে পারেননি; প্রকৃতির আগাম সতর্ক বার্তা বিপদ সংকেত। তবুও মানুষ নামের প্রাণীটি নিজেদের ভাবেন-অনেক অনেক মহান।

যে প্রাণীটি নিজের সঙ্গে প্রতিমুহূর্ত প্রতারণা বেইমানি করেন, নিজের স্বজাতি মেরে ফেলার নতুন নতুন ফন্দিফিকির করেন, চরম নিষ্ঠুরভাবে বজ্জাতি মনে নিজের স্বজাতি আপনজন মেরে সবকিছু কেড়ে নেন; একটু নিজেকে ভালো রাখতে নিজ নিজ ধর্মের সঙ্গে প্রতারণা বেঈমানি করে কিছু একটা নামের দোহাই দিয়ে লুটপাট চালিয়ে নিজেদের নিজেই মেরে ফেলেন; শ্মশান গোরস্থান লাশ দিয়ে ব্যবসা করে মুখে নীতিকথা আওড়ান, ভয়ে যেখানে নিজেদের স্বজাতি পালিয়ে বেড়ান, সে সর্বনাশা দুর্বোধ্য ইতর প্রজাতিভুক্ত প্রাণীটিই হচ্ছে-মানুষ।

তবুও এই প্রাণীটি চরম দাম্ভিক মনে নিজেদের ভাবেন- অনেক অনেক মহান। অনেক রকমভাবে যুক্তি দিয়ে বোঝান- তাদের ভোগের জন্যে এই পৃথিবীর সৃষ্টি; তারা তাদের খুশিমতো ইচ্ছে মতো সবকিছু ভোগ করবেন, কেড়ে নেবেন। তারা যা খুশি করবেন। তারা না হলে পৃথিবী নামের এই গ্রহটি সৃষ্টি হতো না, কেবলমাত্র ইচ্ছাশক্তির মুরোদ দেখিয়ে যখন তখন পৃথিবীর বারোটা বাজিয়ে অন্য প্রাণীর অধিকার কেড়ে নিবেন ইত্যাদি ইত্যাদি হাজার লক্ষ কোটি আষাঢ়ে গল্পজুড়ে ভোগে মাস্তি করবেন।

এই প্রাণীটি নিয়ে আশাহত পৃথিবী! চরম হতাশ স্বর্গ মর্ত্য পাতাল দখিনা বাতাস। অনেক আগেই মানুষ নামের প্রাণীটি পৃথিবীতে বেঁচে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। 

গরু ছাগল দুম্বা উট প্রজাপতি মৌমাছি তিমি গিরগিটি পিঁপড়া নিজেদের কাজকাম বুঝে ঠিকঠাক মতো চালিয়ে গেলেও মানুষের আসল কাজকাম কী? সেটাই যখন এই মাথামোটা বর্বর প্রাণীটি বুঝতে পারেননি! মানুষরূপী ভয়ঙ্কর ইতর প্রাণীটি নিজের কাজকাম ছাড়া শুধু শুধু বেঁচে থাকা পৃথিবী নামের গ্রহটিতে কী বেশি প্রয়োজন?

লেখক: রাজীব কুমার দাশ, প্রাবন্ধিক ও কবি
পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।
মেইল: rajibkumarvandari800 @gmail.com.

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন