সেই দিয়েছে সকল শূন্য করে

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০৫:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  এ টি এম নিজাম

জামাল উদ্দিন

"ছোট্ট যে জন ছিল রে সবচেয়ে,
সেই দিয়েছে সকল শূন্য করে"। 

আমাদের ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট, কোলে-পিঠে থেকে বড় হওয়া ভাই জামাল। সে স্নেহের বাঁধন ছিন্ন করে।

সোমবার রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর পর থেকে মনে পড়ছে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কালজয়ী ছিন্নমুকুল কবিতার পঙক্তি "ছোট্ট যে জন ছিল রে সবচেয়ে,সেই দিয়েছে সকল শূন্য করে"।

মনে পড়ছে মহামতি মাওসেতুঙ এর সেই অমরবাণী " কিছু কিছু মৃত্যু আছে পাখির পালকের মতো হালকা।আবার কিছু কিছু মৃত্যু পর্বতের চেয়েও ভারি।আর তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়,মানুষ মারা গেছে মানুষ"।

সমাজ-সংস্কৃতির এ দুই সফল রূপকারের অমোঘ সত্য কবিতা ও বাণী আজ আমাকে খুরে খুরে খাচ্ছে। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে ছোট্ট মারা গেছে, ছোট্ট। এ হিমালয় তুল্য মৃত্যুর বোঝা আমি যে বইতে পারছি না। আমি যে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না, জামাল মারা গেছে জামাল। শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে আর কোনোদিন কোনো বায়না নিয়ে হাজির হবে না সে? অথচ কতোইনা আত্মতৃপ্তিলাভ করতাম তার কোনো বায়না পূরণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে।

কতো বরষা কেটে গেছে আমাদের গর্ভধারিণী মমতাময়ী মা লুৎফুন্নেছা লতা জান্নাতবাসিনী হয়েছেন।কিন্তু ; চোখের জল আর বরষার জলে তিনি আজও শাপলা-শালুক হয়ে ফোটেন। আমাদের চোখের মণিতেই বসবাস করেন তিনি।

মা, তুমি নিশ্চয়ই দেখেছো তোমার আদেশ মতো জামালের বায়না ও মৌলিক চাহিদা পূরণে কখনও কোনো কার্পণ্য কিংবা অবহেলা ছিলনা। তবে কেনো এতো অবেলায় তাকে কাছে টানলে? তোমার ইচ্ছার বিচ্যুতি হলে ক্ষমা করো মা,শক্তি দিয়ো তোমার সান্নিধ্য লাভের। ভাল থাকিস ছোট্ট, ভাল থাকিস জামাল মায়ের আঁচল ধরে।

[ছোট ভাই জামাল উদ্দিন গত সোমবার রাতে পরপারে চলে গেছে। সবার কাছে তার জন্য আমি দোয়াপ্রার্থী]

লেখক: এটিএম নিজাম, দৈনিক যুগান্তরের কিশোরগঞ্জ ব্যুরো প্রধান