গাছ ৫০ বছর পুরোনো হলেই তাকে জনগণের সম্পদ ধরা উচিত

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  শায়লা সিমি

যশোর রোডের গাছ

প্রাসঙ্গিক যে গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী জীব। গাছ অক্সিজেন নির্গত না করলে আমরা স্বাভাবিক উপায়ে জীবন ধারণ করতে সক্ষম হবো না এবং গাছ সবচেয়ে প্রাচীন আধ্যাতিক প্রাণ তাতে দ্বিমত নেই। 

মেরাজের প্রাক্কালে 

মেরাজের প্রাক্কালে রাসূলে করিম (সা.)-এর সঙ্গে হযরত ইব্রাহিম (আ.) কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন- তুমি তোমার উম্মতের কাছে আমার সালাম পৌঁছে  দিও; আরও বলেন জান্নাতের মাটি উর্বর ও কল্যাণময় কিন্তু এতে কোনো গাছ নেই, এতে বীজ বুনার পদ্ধতি হচ্ছে- সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ হু আকবর বলা। আল্লাহর বান্দারা যখনই এই জিকের করেন নিয়ামত স্বরূপ জান্নাতে গাছ জন্মায়। গাছের গুরুত্ব বুঝতে এই ঘটনা বর্ণনার দাবি রাখে। 

সিদরাতুল মুনতাহা

আল্লাহর এক আশ্চর্য সৃষ্টি সিদরাতুল মুনতাহা। জানা যায় এই গাছের শেকড় ষষ্ঠ আসমান থেকে শুরু হয় এবং সপ্তম আসমানে ছড়িয়ে যায়। সিদরাতুল মুনতাহা সেই গাছ যার পরে আল্লাহর কোনো সৃষ্টি পাড়ি দেয়নি। নবী করিম (সা.) এই গাছের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন- এর রং এমন যা আমি আগে কখনো দেখিনি। রাসূলে করিম (সা.) বলছেন, আমাদের দেখা সাতটি রঙের বাইরে কোনো রং যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ঠিক যেমন কোনো জন্মান্ধ কে রঙের বিষয়ে সঠিক করে কিছু বুঝানো সম্ভব নয়!

এবং এই গাছটির রং সারাক্ষণই পরিবর্তন হচ্ছিলো। একে ঘিরে ছিল নানা রঙের বস্তু; যার মধ্যে ছিল ছোট ছোট অগণিত সোনালী প্রজাপতি।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়- নবী করিম (সা.) বলেন- দুনিয়া থেকে যা কিছু আসমানে যায়, তা সিদরাতুল মুনতাহাতে গিয়ে পৌঁছে, আর যা কিছু আল্লাহর কাছ থেকে দুনিয়াতে প্রেরিত হয় তা সিদরাতুল মুনতাহার মাধ্যমে  আসে। এবং এই গাছ থেকে বয়ে চলে চারটি নদী যার দুটি দুনিয়াতে আর দুটি আখেরাতে। দুনিয়াতে যে দুটো নদী সিদরাতুল মুনতাহা থেকে আরম্ভ হয় তার একটি হলো নীলনদ ও ইউফ্রেটিস নদী।এই নদীদ্বয় কিভাবে সংপৃক্ত তা হলো আলিমুল গায়েব  আমাদের জন্য অজানা। 

জান্নাতে যেমন গাছকে ঘিরে পার্থিব জীবন আদান প্রদান সম্পন্ন হয় ঠিক তেমনি পৃথিবীতেও প্রাণের হেতু গাছ। গাছ আধ্যাতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বহন করে। গাছকে ঘিরে হাট-বাজার; আসর-সভা ইত্যাদি গড়ে ও বিস্তার লাভ করে। গাছ আমাদের খাবার ও ঔষধ দেয়। বৃক্ষের শেকড় মাটির ভেতরে থাকে। মাটির ভেতর থেকেই বীজ থেকে অঙ্কুরোদ্গমণ করে কীভাবে মহিরুহ হয়ে ওঠে; ডালপালা বিস্তার করে আমাদের ছায়া দেয়, ফুল-ফল দেয়। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় সেটাও আমরা বৃক্ষ থেকে পাই। 

আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে 

এ যাবৎ কখনোই এভাবে স্কুলের পাঠ্য পুস্তকের মতো গাছের গুরুত্ব বর্ণনার প্রয়োজন হয়নি। যশোর রোডের গাছ কাঁটা প্রসঙ্গে এ সকল পদক্ষেপের প্রয়োজন অনুভব করলাম। প্রকৃতির সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করার অধিকার আমাদের সকলের আছে। গাছ ৫০ বছর পুরোনো হলেই তাকে জনগণের সম্পদ ধরা উচিত; তা উৎপাটনের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। এ বিষয়ক আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।