গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা

  এম শরীফ আহমেদ, ভোলা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

কম্পিউটারে গেমস খেলছে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইভান
কম্পিউটারে গেমস খেলছে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইভান

নগরায়নের কারণে উধাও হয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। ইট, বালু, পাথরের আড়ালে আটকা পড়েছে শিশুদের বর্ণিল শৈশব। গ্রামের শিশুরা খেলাধুলার কিছুটা সুযোগ পেলেও, শহুরে শিশুদের সে সুযোগ কম।

পাঠ্যপুস্তকের অধ্যয়নের পাশাপাশি খেলাধুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়, ‘আনন্দহীন শিক্ষা কোন শিক্ষাই নয়।’ তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিশু বয়স থেকেই ছেলেমেয়েদের জন্য আনন্দ দানের ব্যবস্থাও করতে হবে।

আর শিশুদের এ আনন্দ দানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে খেলাধুলা।

একটা সময় ছিল যখন শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠ ছিল।কিন্তু আজ গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই মাঠ কমে আসছে।

মাঠ নেই বললেই চলে।তাই বাধ্য হয়েই শিশুদের আনন্দ দানের জন্য ঘরের মধ্যেই বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। আর এ ক্ষেত্রে আধুনিক যুগের ডিজিটাল গেমসই বেশি পছন্দ শিশুদের।

তেমনই একটি গল্প ভোলার ওয়েস্টার্ন পাড়ার ফাহমিদা সুলতানার পরিবারের। তার তিন সন্তান।ইভানের বয়স নয় বছর। ইরিনের বয়স ছয়।ইয়ানের বয়স দেড় বছর।

ওরা দুই ভাই এক বোন। তিন বাচ্চাকে পালন পালন করতে ফাহমিদা সুলতানা হিমশিম খাচ্ছে। একজন খেতে চাইলে আর একজন টয়লেটে যায়। আর একজন কিছু ফেলে ভেঙ্গে দেয়।

এই অবস্থার মধ্যে পরিবারের গৃহকর্তা এলজিইডি কর্মচারী নুরুদ্দিন (টিপু) বড় দুই ভাই-বোনের জন্য ট্যাব ও ডেস্কটপ নিয়ে এসেছেন। এখন দুই ভাই-বোন সারাদিন তাতে গেমস খেলে।

নতুন নতুন গেমস নামায়। আবার খেলা শেষ হলে নিজেরা গেমসের মতো মারামারিও করে। সায়মা যেন স্বস্তি ফিরে এসেছে। এতে খাওয়া, ঘুম ও পড়াশুনা বিলম্বিত হলেও দুই ভাই তাকে আর আগের মতো যন্ত্রণা দেয় না।

আরেকটি গল্প একই পাড়ার রোজিনার। তিনি ও তার স্বামী আবদুর রহিম দুজনই শিক্ষক। তিন সন্তানের সন্তানের জননী তিনি। তার বড় ছেলে আফনানের বয়স দশ। মেঝো ছেলে আয়নানের বয়স ছয়।

ছোট ছেলের আদনানের বয়স তিন। সকাল বেলায় ছোট ছেলে আদনানকে নিয়ে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। আর বড় ছেলে আফনান তার বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় মেঝো ছেলে আয়নানকে নিয়ে তার বিদ্যালয়ে পৌছে দেয়।

বিদ্যালয় থেকে এসে দু' ভাই ট্যাব নিয়ে গেমস খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কারও বারণ তাদের কানে যায় না তাদের। এতে বেশি বাধা দিলেও ঘরের সব কিছু চুড়মাড় করে দেয়।

ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান বলেন, ডিজিটাল গেমস শিশুদের ওপর মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে মায়েরদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিশুদেরকে বেশি বেশি গল্প শোনাতে হবে। চিত্রকলা, গান, নাচ প্রভৃতির সাথে যুক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত সময় দেয়া এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হয় এমন খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখা গেলে, প্রযুক্তি আসক্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter