ফনেটিক ইউনিজয়
সার্চ
¦

এইমাত্র পাওয়া

  • গার্মেন্ট শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরে সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা
একের পর এক মামলার চাপে ড. ইউনূস

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আবারও বিচারের মুখোমুখি নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে কর ফাঁকির। যেন তার বিরুদ্ধে বিচার শেষই হচ্ছে না। ভারতের বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি নিবন্ধে বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করা হয়েছে।
দ্য নেভার-এন্ডিং ট্রায়াল অব মুহাম্মদ ইউনূস নামে এ নিবন্ধটি লিখেছেন টিওআই কন্ট্রিবিউটর রাশিদুল বারি। তিনি লিখেছেন, শেখ হাসিনার ইচ্ছাতেই দ্বিতীয়বারের মতো বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এ নোবেল বিজয়ী। ইউনূসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতিবাচক আচরণের তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন তিনি। তা হল নোবেল পুরস্কার, হিংসা ও রাজনীতি।
নিবন্ধে বলা হয়, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসই হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি নোবেল পুরস্কার, মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল, মার্কিন কংগ্রেসনাল মেডেলের মতো ট্রিফেক্টা লাভ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ঠিকই দ্বিতীয়বারের মতো বিচারের মুখোমুখি করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ড. ইউনূস সরকারের যথাযথ অনুমতি ছাড়া তিনি বিভিন্ন আয় করেছেন। আবার তিনি যে আয় করেছেন তা থেকে যথাযথ কর দেননি। এর মধ্যে নোবেল পুরস্কার এবং তার বই বিক্রি করে উপার্জিত আয়ও রয়েছে। কিন্তু নতুন করে এ বিচারের কথা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৩ লাখ দরিদ্র নারী থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে কে সঠিক। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রথম বিচারের বিষয়টির দিকে তাকাতে হবে।
ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রথম বিচার শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর নরওয়ের টেলিভিশন টম হেনিম্যান নামে এক ব্যক্তির তৈরি ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রচার করেছিল। এর এক মাস পরই শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে বিচারের মুখোমুখি করান। ওই প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়েছিল, ড. ইউনূস ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে স্থানান্তর করেছিলেন। শেখ হাসিনা এ অস্ত্রটিই ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন এবং তিনি তাকে রক্তচোষা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এরপর শেখ হাসিনা তাকে চাকরিবিধি অনুযায়ী ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক বলে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত করেন।
এর পর থেকে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো ইউনূসের বিরুদ্ধে অ্যাকশন এখানেই শেষ। কিন্তু শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধেও তার আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ওপরও চাপ অব্যাহত রাখেন এবং এর ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা চালিয়ে আসেন। আর ব্যাংকটি ভেঙে ১৯ টুকরা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ বছরের সেপ্টেম্বরে এসে দেখা গেল শেখ হাসিনার মিশন ইউনূসকেই ধ্বংস করা।
ড. ইউনূসও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেন এবং দাবি করেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওবামা প্রশাসনও প্রধানমন্ত্রীকে ইউনূসের ব্যাপারে ন্যায় ও স্বচ্ছ আচরণের আহ্বান জানায়।
নিবন্ধে বলা হয়, এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার মধ্য দিয়ে সেই বিখ্যাত আর্কিমিডিস-জেনারেল মারসিলাস দ্বন্দ্বই আধুনিক যুগে উপস্থাপিত হয়েছে। রোমান সৈনিকরা গণিতবিদ আর্কিমিডিসকে হত্যা করেছিল। কারণ তার অপরাধ ছিল, তিনি জেনারেল মারসিলাসের সঙ্গে বৈঠক করতে অস্বীকার জানিয়েছিলেন। রাশিদুল বারি প্রশ্ন তোলেন, রোমান সৈনিকরা গণিতের জনককে হত্যা করেছিল, কারণ তারা মূর্খ ছিল। তারা ভেবেছিল, একটি জ্যামিতির সমস্যার সমাধানের চেয়ে জেনারেল মারসিলাসের সঙ্গে বৈঠক করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আচরণ কি সেই অজ্ঞতারই প্রতিচ্ছবি?
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
FEnatunbartaSangbadBengalinewsnewstodayPratidinSunJJDINittefaqsamakaljobsinbdJugantororangebdbanglamail
....