¦
বীরপ্রতীক উপাধির স্বীকৃতি চান কাকন বিবি

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি | প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

মুহম্মদ তাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে
কাকন বিবি মুক্তিযুদ্ধে জয়ী এক সংগ্রামী পাহাড়ি খাসিয়া নারী। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও দুবেলা অন্ন আর ন্যূনতম জীবনযাপনটুকু জুটেনি তার ভাগ্যে। অর্ধাহারে-অনাহারে বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে বিভিন্ন রোগশোকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন একাত্তরের বীরাঙ্গনা কাকন বিবি। একমাত্র মেয়েকে নিয়েও শান্তিতে নেই তিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের রোষানলে পড়ে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে রাতদিন আতংকে কাটছে তার। জীবনের শেষ সান্নিধ্যে এসে ধন সম্পদ কিছুই নয়, জীবনের নিরাপত্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বীরপ্রতীক উপাধির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে স্বস্তিতে মরতে চান মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি। বীরাঙ্গনা কাকন বিবির মূল বাড়ি ছিল ভারতের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে। ১৯৭০ সালে তার বিয়ে হয় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শহীদ আলীর সঙ্গে। তখন তার নাম রাখা হয় নুরজাহান বেগম। ৭১ এর ১৬ মার্চ এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন কাকন বিবি। আর ওই কন্যা সন্তান জন্ম দেয়াটাই তাদের সংসারে কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য তীব্র হয়ে ওঠে। শেষমেশ তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এপ্রিল মাসে সিলেট ক্যাম্পে চাকরিরত ইপিআর মজিদ খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সিলেটে স্বামীর সঙ্গে ২ মাস কাটানোর পর কাকন বিবি তার মেয়ে সখিনাকে আনতে দিরাই ছুটে যান। মেয়েকে নিয়ে সিলেট আসার পর স্বামী মজিদ খানকে খোঁজে পাননি। দোয়ারাবাজার সীমান্তের একটি ক্যাম্পে তাকে বদলি করা হয়েছে বলে খবর পান তিনি। স্বামীর খোঁজে ছুটে যান দোয়ারাবাজার সীমান্তে। তখন ছিল জুন মাস। দেশজুড়ে যুদ্ধ চলছিল। তখন শিশুকন্যা সখিনাকে সীমান্তবর্তী ঝিরাগাঁও নিবাসী শাহীদ আলীর আশ্রয়ে রেখে স্বামীর খোঁজে টেংরাটিলা ক্যাম্পে যান। তখন পাক হানাদাররা তাকে আটক করে ব্যাঙ্কারে রেখে কিছুদিন নির্যাতনের পর তাকে ছেড়ে দেয়। নির্যাতিতা কাকন বিবি তখন নিখোঁজ স্বামীর আশা বাদ দিয়ে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ওঠেন। জুলাই মাসে তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রহমত আলী তাকে লেফট্যানেন্ট কর্নেল মীর শওকতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মীর শওকত তাকে গুপ্তচরের দায়িত্ব দেন। কাকন বিবি সাহসিকতার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। একদা পশ্চিম বাংলাবাজারে তিনি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তারা তাকে একনাগাড়ে ৭ দিন পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। সাতদিন পর তার জ্ঞান ফিরে এলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ভারতের বালাট নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসা শেষে পুনরায় তিনি বাংলাবাজারে আসেন। সেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর কাছে অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ নেন। রহমত আলীর দলে সদস্য হয়ে অস্ত্রসহকারে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে টেংরাটিলায় পাকসেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ করেন। সেই যুদ্ধে কয়েকটি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। উরুতে কয়েকটি গুলির ক্ষতের দাগ এখনও আছে।
বাংলার মুখ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close