jugantor
সিলেটে বেপরোয়া ছাত্রলীগ ধরাছোঁয়ার বাইরে রাজন

  সিলেট ব্যুরো  

২৩ মে ২০১৩, ০০:০০:০০  | 

সিলেটে ক্ষমতার জোরে প্রশাসনকে অন্ধ বানিয়ে একের পর এক তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে শাসক দলের ক্যাডাররা। এহেন কোন অপকর্ম নেই, যা ছাত্রলীগের ব্যানারে হচ্ছে না। পান থেকে চুন খসলেই তারা অস্ত্র হাতে বেরিয়ে পড়ে প্রকাশ্য রাজপথে। ক্ষমতাধরদের পোষা এসব দুবর্ৃৃত্তের থাবায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। পুড়ে ছাই হয়েছে এমসি কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাস ছাড়াও বাড়িঘর ও দোকানপাট। লুট হয়েছে দোকানের ক্যাশ, কোটি কোটি টাকার অসংখ্য টেন্ডার। তারপরও তারা থেমে নেই। এসব অপকর্মের দায় যাদের ওপর বর্তায় তারা অত্যন্ত ক্ষমতাধর, অঘোষিত ‘শহর কুতুব’। তাদের নির্দেশনা ছাড়া প্রশাসনের টনক নড়ে না। ছাত্রলীগের এসব দুর্বৃত্তের অপকর্মের ধারাবাহিকতায় গত রোববার নিজেরাই এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সামনেই তারা গুলি ছোঁড়ে। এমন দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সাংবাদিককে মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে। তাৎক্ষণিক সিলেট তামাবিল সড়ক অবরোধ করে সাংবাদিকরা আলটিমেটাম দিলেও ‘শহর কুতুব’দের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা ক্যাডারদের হাতকড়া পরানো যায়নি। পুলিশ এক ক্যাডারকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পথে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে আরও ১০ ক্যাডার। পুলিশকে মারধর করে সেই ক্যাডারকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ। ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করেই নিয়মতান্ত্রিক কাজের সমাপ্তি টানে পুলিশ। ফলে নানা অপরাধে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তরা এখনো প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে যাচ্ছে সিলেট নগরীতে। অথচ এসব অপরাধী অতীতের বহুল আলোচিত একাধিক অপকর্মের মূল হোতা। নানা অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে পংকজ পুরকায়স্থকে বহিষ্কারের পর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হিরন মাহমুদ নিপু। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে বিরোধ এখন তুঙ্গে। গত রোববার তাদের সমর্থকরা এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। তাদের সশস্ত্র ছবি ছাপা হয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। প্রচারিত হয় টেলিভিশনেও। এক পর্যায়ে অস্ত্রধারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসে। উঠে আসে বহুল আলোচিত অস্ত্রধারী ক্যাডার রাজনের নাম। এমসি কলেজ হোস্টেল পোড়ানোর সময়ও রাজন ছিল সক্রিয়। এমসি কলেজে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্র“পের সংঘর্ষের দিন সাংবাদিকদের নির্যাতন ও পরে আসামি ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায়ও জড়িত এই রাজন। পুলিশ রাজনকে আটক করে নেয়ার পথে সহযোগীদের নিয়ে পাল্টা পুলিশের ওপর হামলা চালায় রাজন ও তার সহযোগীরা। এ ব্যাপারে শাহপরান থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয় অস্ত্রধারী রাজন, মেজরটিলার হান্নান, টিলাগড়ের কনক, আকাশ, মানিক মিয়া, কানন, দেলোয়ার হোসেন ও আবু তাহের শিপুকে। এতে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কিন্তু আসামিদের কাউকেই বুধবার পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। যদিও তারা তাদের ঘাঁটি টিলাগড় এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার এবং কাউন্সিলর প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ তাদের প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু পুলিশের কাছ থেকে এবং এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বন্দুকযুদ্ধ নয়, আরও অনেক অভিযোগের মামলা রয়েছে এসব ক্যাডারের বিরুদ্ধে। তারপর আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ক্ষমতার জোরে অন্ধ বানিয়ে প্রকাশ্য মহড়া অব্যাহত রেখেছে দুর্বৃত্তরা। এসএমপি কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি যুগান্তরকে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্দেশ দেয়া হয়েছে ফোর্স বাড়ানোর জন্য। তিনি আশাবাদী দুই-একদিনের মধ্যে আসামিরা গ্রেফতার হবে।

সাবমিট

সিলেটে বেপরোয়া ছাত্রলীগ ধরাছোঁয়ার বাইরে রাজন

 সিলেট ব্যুরো 
২৩ মে ২০১৩, ১২:০০ এএম  | 

সিলেটে ক্ষমতার জোরে প্রশাসনকে অন্ধ বানিয়ে একের পর এক তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে শাসক দলের ক্যাডাররা। এহেন কোন অপকর্ম নেই, যা ছাত্রলীগের ব্যানারে হচ্ছে না। পান থেকে চুন খসলেই তারা অস্ত্র হাতে বেরিয়ে পড়ে প্রকাশ্য রাজপথে। ক্ষমতাধরদের পোষা এসব দুবর্ৃৃত্তের থাবায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। পুড়ে ছাই হয়েছে এমসি কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাস ছাড়াও বাড়িঘর ও দোকানপাট। লুট হয়েছে দোকানের ক্যাশ, কোটি কোটি টাকার অসংখ্য টেন্ডার। তারপরও তারা থেমে নেই। এসব অপকর্মের দায় যাদের ওপর বর্তায় তারা অত্যন্ত ক্ষমতাধর, অঘোষিত ‘শহর কুতুব’। তাদের নির্দেশনা ছাড়া প্রশাসনের টনক নড়ে না। ছাত্রলীগের এসব দুর্বৃত্তের অপকর্মের ধারাবাহিকতায় গত রোববার নিজেরাই এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সামনেই তারা গুলি ছোঁড়ে। এমন দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সাংবাদিককে মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে। তাৎক্ষণিক সিলেট তামাবিল সড়ক অবরোধ করে সাংবাদিকরা আলটিমেটাম দিলেও ‘শহর কুতুব’দের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা ক্যাডারদের হাতকড়া পরানো যায়নি। পুলিশ এক ক্যাডারকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পথে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে আরও ১০ ক্যাডার। পুলিশকে মারধর করে সেই ক্যাডারকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ। ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করেই নিয়মতান্ত্রিক কাজের সমাপ্তি টানে পুলিশ। ফলে নানা অপরাধে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তরা এখনো প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে যাচ্ছে সিলেট নগরীতে। অথচ এসব অপরাধী অতীতের বহুল আলোচিত একাধিক অপকর্মের মূল হোতা। নানা অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে পংকজ পুরকায়স্থকে বহিষ্কারের পর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হিরন মাহমুদ নিপু। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে বিরোধ এখন তুঙ্গে। গত রোববার তাদের সমর্থকরা এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। তাদের সশস্ত্র ছবি ছাপা হয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। প্রচারিত হয় টেলিভিশনেও। এক পর্যায়ে অস্ত্রধারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসে। উঠে আসে বহুল আলোচিত অস্ত্রধারী ক্যাডার রাজনের নাম। এমসি কলেজ হোস্টেল পোড়ানোর সময়ও রাজন ছিল সক্রিয়। এমসি কলেজে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্র“পের সংঘর্ষের দিন সাংবাদিকদের নির্যাতন ও পরে আসামি ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায়ও জড়িত এই রাজন। পুলিশ রাজনকে আটক করে নেয়ার পথে সহযোগীদের নিয়ে পাল্টা পুলিশের ওপর হামলা চালায় রাজন ও তার সহযোগীরা। এ ব্যাপারে শাহপরান থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয় অস্ত্রধারী রাজন, মেজরটিলার হান্নান, টিলাগড়ের কনক, আকাশ, মানিক মিয়া, কানন, দেলোয়ার হোসেন ও আবু তাহের শিপুকে। এতে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কিন্তু আসামিদের কাউকেই বুধবার পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। যদিও তারা তাদের ঘাঁটি টিলাগড় এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার এবং কাউন্সিলর প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ তাদের প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু পুলিশের কাছ থেকে এবং এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বন্দুকযুদ্ধ নয়, আরও অনেক অভিযোগের মামলা রয়েছে এসব ক্যাডারের বিরুদ্ধে। তারপর আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ক্ষমতার জোরে অন্ধ বানিয়ে প্রকাশ্য মহড়া অব্যাহত রেখেছে দুর্বৃত্তরা। এসএমপি কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি যুগান্তরকে জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্দেশ দেয়া হয়েছে ফোর্স বাড়ানোর জন্য। তিনি আশাবাদী দুই-একদিনের মধ্যে আসামিরা গ্রেফতার হবে।

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র