নদী সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি
Advertisement
ড. মো. রফিকুল ইসলাম
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সমাজে প্রচলিত একটি কথা রয়েছে- আগুনে ধরলে শুধু ঘরের জিনিসগুলোই পুড়ে যায়, কিন্তু সর্বনাশা নদীভাঙনের কবলে পড়লে মানুষ হারায় বাপ-দাদার মূল্যবান জমিজমা ও স্থায়ী বসতভিটা। সেই সঙ্গে স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যায় পারিবারিক ঐতিহ্য, গ্রাম এবং শৈশব ও কৈশোরের রঙিন দিনগুলোর কথা।
১৭৮৭ সালের এক প্রবল ভূমিকম্পের ফলে যমুনা নদীর উৎপত্তির পর থেকে উত্তরবঙ্গে যমুনার করালগ্রাসে বিলুপ্ত হয়েছে হাজারও জনপদ এবং তছনছ করে দিয়েছে লাখ লাখ মানুষের জীবনব্যবস্থা। অতীতেও যেমন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মানবসমাজের একটি বিশাল অংশসহ শত শত শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, তেমনি বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতেও শতভাগ ঝুঁকিতে রয়েছে যমুনা নদীর উভয় পারের প্রায় ১০টি জেলার আতঙ্কিত মানুষ।
যমুনা পারের একজন আতঙ্কিত মানুষ হিসেবে এ লেখকসহ লাখো মানুষের মনে যে প্রশ্নটি বারবার দাগ কাটে সেটা হল- এ নদীর উভয় তীর শাসনের জন্য স্থায়ী সমাধানের কোনো পন্থা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গ্রহণ করতে পারছে না কেন? এর কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। অথচ অল্প খরচে এবং অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যমুনা নদীর উভয় তীর শুধু স্থায়ীভাবে শাসন করাই নয়, বরং সেই সঙ্গে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে উত্তরবঙ্গ তথা দেশের মধ্য অঞ্চলের মহাদুঃখ ও আতঙ্ক বলে পরিচিত এ নদীকে একটি মহাসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। চীনের হোয়াংহো নদীকে একসময় বলা হতো চীনের দুঃখ ও অভিশাপ। কিন্তু উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুবাদে হোয়াংহো নদী এখন চীনের জনগণের জন্য আশীর্বাদ।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে হয়, গত ২০.০৪.২০১৪ তারিখে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ নিজ বৈজ্ঞানিক গবেষণাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যে ২২ জন বিজ্ঞানীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গোল্ড-মেডেল ও সনদ প্রদান করেছিলেন, এ লেখক তাদের একজন। যতদূর মনে পড়ে, বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে যে কোনো টেকসই বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ও ব্যবহারিক দিক সরাসরি শেয়ার করার জন্য ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানেরই ধারাবাহিকতায় যমুনা নদীকেন্দ্রিক চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সর্বাধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনার জন্য আজকের এ প্রবন্ধের অবতারণা।
একটু পেছনের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, ১৯৫৪, ১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ১৯৫৭ সালে তদানীন্তন সরকার জাতিসংঘের সহায়তায় একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করেছিল, যা Krug Mission Report, 1957 নামে পরিচিত। ক্রুগ মিশন রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৬০-এর দশকে যমুনা নদীর পশ্চিম তীরের প্রায় ২৩০,০০০ হেক্টর আবাদি জমিসহ লাখ লাখ মানুষের বসতভিটাগুলোকে অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য তৎকালীন সরকার রংপুর জেলার কাউনিয়া থেকে পাবনা জেলার বেড়া পর্যন্ত ২৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে একটি মাটির বাঁধ নির্মাণ করেছিল, যা স্থানীয়ভাবে ‘ওয়াপদা বাঁধ’ নামেই বেশি পরিচিত। সে সময়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করে ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ সালের মধ্যে বাঁধটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। এ বাঁধটির নির্মাণ ডিজাইনে গড় উচ্চতা ছিল ৪.৫ মিটার, উপরের অংশের প্রস্থ ছিল ৬ মিটার এবং উভয় দিকের ঢালের অনুপাত ছিল ১:৩। ১৯৬৮ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত (২০১৮) বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে শুধু সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন অংশেই এ মাটির বাঁধটি ১৯৬৮ সালে নির্মিত মূল বাঁধের স্থান থেকে প্রায় ৩২ বার পশ্চিম দিকে পিছিয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে একজন প্রবীণ সাংবাদিকের কাছ থেকে জানা গেছে।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাঁধটি রক্ষার জন্য নদী শাসন করা সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া যে অবলম্বন করেনি সেটা বলব না। তবে সে চেষ্টাগুলো যথার্থ ও যুগোপযোগী বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিনির্ভর ছিল না। এর প্রমাণ হল বাঁধটি মূল নির্মাণের স্থান থেকে ৩২ বার পশ্চিম দিকে স্থানান্তরে বারবার ব্যর্থতা এবং নদীগর্ভে লাখ লাখ একর জমিজমা বিলীন হয়ে যাওয়ার চলমান ঘটনা। যমুনার ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৃহত্তর পাবনা (বর্তমানে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ), বগুড়া এবং বৃহত্তর রংপুরের (কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) মানুষ।
বাংলাদেশে একটি সাধারণ রীতি প্রচলিত রয়েছে যে, জেলাভিত্তিক টেকসই ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী সংসদে থাকতেই হয়। যমুনা নদীর উভয় তীরের প্রায় ১০টি জেলার কয়েক কোটি আতংকিত মানুষের জানমাল ও সহায় সম্পদ রক্ষার জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব এসব জেলা থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য ইতিপূর্বে পেয়েছিলেন বলে জানা যায়নি। যার ফলে যমুনা নদীর উভয় তীর শাসনের কোনো স্থায়ী সমাধান হওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা আজও সম্ভব হয়নি।
স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার যে দু’জন প্রভাবশালী মন্ত্রী মাঝে মাঝে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের একজন হলেন সাবেক যোগাযোগ এবং অর্থমন্ত্রী শহীদ এম মনসুর আলী এবং অন্যজন তার সুযোগ্য উত্তরসূরি মোহাম্মদ নাসিম, যিনি বিভিন্ন মেয়াদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।
পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলাসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষের বদ্ধমূল ধারণা, শহীদ এম মনসুর আলী যদি বেঁচে থাকতেন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে যমুনা নদীতীর শাসনের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ বহু আগেই সম্পন্ন হতো। এমতাবস্থায়, বর্তমান সরকারের আমলেই যমুনা নদীর ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী সমাধানের মহাসুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি। কারণ বিশ্বব্যাংকের প্রবল বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদ্মা সেতু নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফলে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ আজ বিশ্ববাসীর সামনে দৃশ্যমান। সমগ্র উত্তরবঙ্গ তথা বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে, যমুনা নদী স্থায়ীভাবে শাসনের জন্য একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার যুগোপযোগী ঘোষণা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বর্তমান সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গসহ দেশে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুটি বড় প্রত্যাশা নিয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষ প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন। একটি হল যমুনা নদীর ভাঙন রোধে দুই তীর বরাবর নদী শাসনব্যবস্থা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং অপরটি হল একটি ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা, যার অবস্থান হবে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলে খ্যাত ‘সিরাজগঞ্জ রোড’ এলাকার আশপাশে। এ লক্ষ্যে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে সক্ষম একজন সংসদ সদস্যকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন।
এ লেখক বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আলোকে যমুনা নদীতীর শাসনের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক সহায়তা প্রদান করতে পারবেন। ‘বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে যমুনা নদীর বহুমুখী সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ লেখকের একটি নিবন্ধ ০২.০৯.১৮ তারিখে যুগান্তরে প্রকাশিত হয়েছে।
দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার অধিকতর উন্নয়নে যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের অঙ্গীকারের কথা আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখে ১১তম সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে শুনেছি, যা বাস্তবায়ন হলে দেশের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তবে যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের আগে অবশ্যই নদীর উভয় তীরের ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী নদী শাসনব্যবস্থার পাশাপাশি উভয় তীর বরাবর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। উভয় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীর প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ যমুনা নদীবক্ষে বিদ্যমান রয়েছে।
বর্ষাকালে প্রায় ৬ থেকে ১৩ কিলোমিটার প্রশস্ত নদীটিকে ‘জিওটেক্সটাইল টিউবিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে শাসন করে এর প্রশস্থতা কমিয়ে ৪-৫ কিলোমিটারের মধ্যে আনার পরপরই উভয় তীর বরাবর টেকসই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব। যমুনার উভয় তীরের ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে নদী শাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পর নদীকেন্দ্রিক যেসব মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে, তার একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা ০২.০৯.১৮ তারিখে যুগান্তরে তুলে ধরা হয়েছে।
নদী শাসনের পর উভয় তীর বরাবর টেকসই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার ফলে বাহাদুরাবাদ-ফুলছড়ির মধ্যে একটি টানেল, যমুনা ব্রিজের উত্তরপার্শ্ব দিয়ে পশ্চিম-পূর্ব বরাবর আরেকটি টানেল এবং আরিচা ঘাটের উত্তর দিক থেকে একটি ওয়াই আকৃতির টানেল শুরু করে একাংশ দৌলতদিয়া ঘাটে এবং অপর অংশটি পুরাতন নটাখোলা-নগরবাড়ী রুটে সংযোগ দেয়া সম্ভব। উল্লেখ্য, যমুনা/পদ্মা ব্রিজ নির্মাণের জন্য যে খরচ হয়েছে/হবে, তার প্রায় অর্ধেক খরচে একটি করে টানেল নির্মাণ করা সম্ভব।
অত্যাধুনিক টানেল বোরিং মেশিনের (টিবিএম) সাহায্যে বড় বড় নদীর/মেগাসিটির তলদেশ দিয়ে টানেল খনন করার পাশাপাশি রিং লাইনিং সাপোর্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে মজবুত টানেল নির্মাণ করে যানবাহন চলাচল ও রেলপথ হিসেবে ব্যবহার বিশ্বে এখন অতি জনপ্রিয় একটি টেকনোলজি। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বড় বড় নদীসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরের নিচ দিয়ে ভূমিকম্প সহনীয় মজবুত টানেল নির্মাণ করা সম্ভব।
নির্মাণ কাজে বিদেশি বিশেষজ্ঞ টিমকে সার্বিক সহযোগিতা করার ব্যাপারে এ লেখক প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কারণ ভূগর্ভস্থ ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ খনি-টানেল নির্মাণকাজে সরাসরি তিন বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এ লেখকের রয়েছে টানেল নির্মাণ করার অত্যাধুনিক সিম্যুলেশন ল্যাবরেটরি, টানেল নির্মাণের ওপর নিজস্ব প্রকাশিত প্রবন্ধ এবং টানেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পাঠদানের অভিজ্ঞতা, কর্ম অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় বই ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ।
ড. মো. রফিকুল ইসলাম : বিজ্ঞানী; সহযোগী অধ্যাপক, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
