Logo
Logo
×
   

এশিয়া

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের আবাসন ঠিকানা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে ফোমেমা

Icon

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের আবাসন ঠিকানা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে ফোমেমা

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের অবস্থান শনাক্তে এবার নিয়োগকর্তাদের ওপর কঠোর দায় চাপানো হল। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রত্যেক বিদেশি কর্মীর যাচাইকৃত আবাসন ঠিকানা ফোমেমা (Fomema) সিস্টেমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঠিকানা নিশ্চিত বা হালনাগাদ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধনই সম্পন্ন করা যাবে না।

ফোমেমার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মীর বর্তমান আবাসন ঠিকানা সঠিক কি না, তা নিয়োগকর্তা ও প্যানেল এজেন্সিকে যাচাই করতে হবে। কর্মী আগের ঠিকানা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে গেলে নতুন ঠিকানা আগে হালনাগাদ করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ‘সেভ’ করা যাবে।

অর্থাৎ, কাগজে-কলমে শ্রমিকের ঠিকানা দেখিয়ে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ আর থাকছে না। কর্মী বাস্তবে কোথায় বসবাস করছেন, সেই তথ্যও নিশ্চিত করতে হবে নিয়োগকর্তাকে। ভুল বা পুরোনো ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি হবে।

ফোমেমা বলছে, বিদেশি কর্মীদের হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত এবং প্রয়োজনে তাদের দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনেক শ্রমিক নিয়োগকর্তার নির্ধারিত আবাসনের বাইরে বসবাস করেন। কেউ কর্মস্থল পরিবর্তন করেন, কেউ সাবকন্ট্রাক্টরের অধীনে কাজ করেন। আবার বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকার পরও অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ঘটনাও বিভিন্ন অভিযানে সামনে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে কর্মীর প্রকৃত অবস্থান ও কর্মস্থল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তথ্য থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

নতুন নিয়মে সেই জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন বিদেশি শ্রমিক কোথায় থাকছেন তার সঠিক তথ্যের দায় এখন সরাসরি নিয়োগকর্তার ওপর।

ফোমেমা হল- মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান, যা বিদেশি কর্মীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করে। দেশটিতে প্রবেশের পর প্রত্যেক বিদেশি কর্মীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফোমেমায় নিবন্ধন করতে হয়। এরপর ফোমেমার অনুমোদিত প্যানেল ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।

৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেই নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেই আবাসন ঠিকানা যাচাই বাধ্যতামূলক হচ্ছে। ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পর তার বসবাসের স্থান পরিবর্তিত হলেও তা গোপন রাখা বা পুরোনো ঠিকানা ব্যবহার করার সুযোগ কমবে।

বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকায় নতুন নিয়মটি তাদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকের আবাসন পরিবর্তন হলে নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে দ্রুত তথ্য সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধন আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

ফোমেমা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আবাসন ঠিকানা নিশ্চিত বা হালনাগাদ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে না।

ফলে নতুন এ ব্যবস্থায় শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, বিদেশি শ্রমিকদের ‘কোথায় আছেন’—এই প্রশ্নেরও একটি ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হবে। আর সেই তথ্য সঠিক রাখার প্রধান দায়িত্ব বর্তাবে নিয়োগকর্তা ও প্যানেল এজেন্সির ওপর।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম