মরণোত্তর পদ্ম ধর্মেন্দ্রকে, বলিউডে আর কে কে পেলেন এই সম্মান?
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছর পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এবার পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পদক পাচ্ছেন ১৩১ জন। তাদের মধ্যে ১১ জন বাংলা থেকে। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য বলিউড থেকে এ তালিকায় রয়েছেন তিনজন। মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। সংগীতে গায়িকা অলকা ইয়াগনিক পাচ্ছেন পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অভিনেতা আর মাধবন।
গত বছর ২৪ নভেম্বর প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র। ছয় দশক ধরে দাপটের সঙ্গে রুপালি জগৎ শাসন করেছেন এ কিংবদন্তি অভিনেতা। ৩০০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তার ঝুলিতে রয়েছে বহু সফল হিন্দি সিনেমা।
১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ সিনেমার মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। ১৯৬৫ সালের মধ্যেই ২০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো সিনেমাই বক্সঅফিসে সাড়া ফেলেনি কিংবা সফল হয়নি। এরপর ১৯৬৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল তার ‘ফুল অউর পত্থর’। ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে এ সিনেমায় ছিলেন অভিনেত্রী মীনা কুমারী। এ সিনেমা বক্সঅফিসে ভালো উপার্জন করেছিল।
এরপর থেকে ধর্মেন্দ্রকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে ‘সত্যকাম’, ‘শোলে’, ‘আঁখে’, ‘কর্তব্য’-এর মতো হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি। অভিনেতার শেষ সিনেমা ছিল ‘ইক্কিস’। যদিও নিজের শেষ সিনেমা দেখে যেতে পারেননি এ কিংবদন্তি অভিনেতা।
অন্যদিকে একসময়ের বলিউড মাতানো সংগীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিক পেয়েছেন পদ্মভূষণ। প্রায় ২০ হাজার গান গেয়েছেন তিনি। অধিকাংশ গানই সুপার হিট। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মায়ানগরীতে যাত্রা শুরু তার। দুই হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। গান গেয়েছেন অন্তত ১৬টি ভাষায়। ‘তেজাব’ সিনেমায় ‘এক দো তিন’ গানের মাধ্যমে হিট গায়িকার তকমা পান অলকা ইয়াগনিক। তারপর নব্বইয়ের দশকে কুমার শানু ও উদিত নারায়ণের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রচুর হিট গান উপহার দেন এ কিংবদন্তি গায়িকা।
প্লেব্যাক থেকে মঞ্চ সমান তালে জনপ্রিয় তিনি। বর্তমানে ডিজিটাল মিডিয়ার যুগেও তার গানের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ইউটিউবে গায়িকার গান বেজেছে প্রায় এক হাজার ৫৩০ কোটি বার। ফলে ২০২২ সালের ‘মোস্ট স্ট্রিমড আর্টিস্ট অন ইউটিউব’ খেতাব পেয়েছেন তিনি।
এদিকে যারা নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছেন, তারা জানেন— আর মাধবনকে ঘিরে নারী ভক্তদের পাগলামি কোন জায়গায় পৌঁছেছিল। গড়পড়তা প্রেমের সিনেমায় আত্মপ্রকাশ। নায়কোচিত চেহারাও নয়। শ্যামলা রঙ, মাঝারি উচ্চতা, তবে চোখে-মুখে একটা সাদামাঠা সৌন্দর্য ও হাসিতেই মাত করে দিয়েছেন বহু সিনেমায়। তাতেই ভারতীয় তরুণীরা মজেছিলেন। বলিউডে পা দেওয়ার আগে দক্ষিণী সিনেমা নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করে নেন মাধবন। তবে দিয়া মির্জার সঙ্গে ‘রহনা হ্যায় তেরে দিল ম্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে পুরো দেশে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যান।
প্রেমিকসুলভ চরিত্র থেকে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার ফারহান হোক কিংবা সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় অজয় স্যান্যালের চরিত্র— সব চরিত্রেই সমান সপ্রতিভ তিনি। এবার পদ্মশ্রী সম্মান তাকে সেই স্বীকতিই দিল।
