রনি তালুকদারের ব্যাটে সমুচিত জবাব দিচ্ছে ঢাকা

  স্পোর্টস ডেস্ক ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

রনি,

ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দিচ্ছে ঢাকা ডায়নামাইটস। ফিল্ডিংয়ে কেঁদেছিলেন সাকিবরা। এবার ইমরুলদের কাঁদাচ্ছেন তারা। নেপথ্য নায়ক রনি তালুকদার। ব্যাট বইয়ে দিচ্ছেন রানের নহর। এর আগে তুফান বইয়েছেন থারাঙ্গা। শেষ খবর পর্যন্ত ১২ ওভারে ৩ উইকেটে ১২০ রান করেছে ডায়নামাইটসরা। ঝড়ো ফিফটি তুলে রনি ৬৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। শূন্য রানেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অসাধারণ থ্রোতে রানআউটে ফিনিশ হন সুনিল নারাইন। দ্বিতীয় উইকেটে রনি তালুকদারকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠেন উপুল থারাঙ্গা। ক্রিজে সেট হওয়া মাত্রই ঘোরাতে শুরু করেন ছড়ি। একের পর এক বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে সাইফ-পেরেরা-মেহেদীদের ঘাম ঝরান তারা। এতে দুরন্ত গতিতে ছোটে ডায়নামাইটসরা। তবে আচমকা থেমে যান দুর্দান্ত খেলতে থাকা থারাঙ্গা। থিসারা পেরেরার বলে দ্বাদশ খেলোয়াড় আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর আগে তালুকদারের সঙ্গে গড়েন শতরানের উড়ন্ত জুটি। পরে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ওয়াহাব রিয়াজের বলে তামিমকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি।

ফাইনালের জন্য যেন সেরাটা তুলে রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রানের ফোয়ারা ছোটান তিনি। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে সাকিব-রাসেল-রুবেলদের করেন কচুকাটা। তাদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে তুলে নেন ঝড়ো সেঞ্চুরি। তার টর্নেডো ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ঢাকা ডায়নামাইাটসকে ২০০ রানের টার্গেট দেয় ইমরুল বাহিনী।

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের মেগা ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। তবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুটা শুভ করতে পারেনি ইমরুলরা। সূচনালগ্নেই টুর্নামেন্টজুড়ে বল হাতে আগুন ঝরানো রুবেল হোসেনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন ইনফর্ম এভিন লুইস।

পরে আনামুল হককে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন। ক্রিজে সেট হয়ে রীতিমতো তোপ দাগাতে শুরু করেন তারা। তবে হঠাৎই পথচ্যুত হন এনামুল। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩০ বলে ২ চারে ২৪ রান করেন তিনি। এর রেশ না কাটতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন ফর্মে থাকা শামসুর রহমান।

তবে একপ্রান্তে তামিম শো চলেছেই। একের পর এক চার-ছক্কায় সাকিবদের চোখের পানি, নাকের জল এক করে ছাড়েন তিনি। মাত্র ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ড্যাশিং ওপেনার। এরপর আরো রূদ্রমূর্তি ধারণ করেন। হয়ে ওঠেন আরো বিধ্বংসী। পরের পঞ্চাশ করেন মাত্র ১৯ বলে। সব মিলিয়ে মাত্র ৫০ বলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। সেঞ্চুরি তুলে নিয়েও থামেননি, টর্নেডো চলেছেই। তার সাইক্লোনে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা। তার ব্যাট থেকেই আসে দলের ৭০.৮% রান!

৬১ বলে ১৪১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তামিম। ১০ চারের বিপরীতে ১১ ছক্কায় এ হার না মানা ইনিংস খেলেন তিনি। এটি বিপিএলে তার প্রথম সেঞ্চুরি। আর চলতি আসরে ষষ্ঠ। সবমিলিয়ে এটি বিপিএলের ১৮তম। এটি বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের স্কোর। এর আগে আছেন শুধু ক্রিস গেইল। গেল আসরে ১৪৬ রান করেন এ ক্যারিবীয় দানব। তার বিস্ফোরক ইনিংসে ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে রংপুর রাইডার্স।

তামিমকে সঙ্গ দিয়ে ২১ বলে ১৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন ইমরুল কায়েস। তবে দেশসেরা ওপেনারের সঙ্গে তার ১০০ রানের জুটিই কুমিল্লাকে বিশাল সংগ্রহ এনে দিতে মূল ভূমিকা রাখে। বল হাতে ঢাকার বোলারদের অবস্থা ছিল করুন। ১টি উইকেট পেতে সাকিব-রুবেল যথাক্রমে খরচ করেন ৪৫ ও ৪৮ রান। ১ উইকেট নিয়েই বিপিএল ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েছেন সাকিব। তামিম ঝড়ের মধ্যে দৃঢ় ছিলেন সুনীল নারাইন। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে উইকেট না পেলেও মাত্র ১৮ রান খরচ করেন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা ডায়নামাইটস: বিপিএল ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×