Logo
Logo
×

সারাদেশ

জাবি ছাত্রী শারমীন হত্যার অভিযোগে স্বামীকে ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:০১ পিএম

জাবি ছাত্রী শারমীন হত্যার অভিযোগে স্বামীকে ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী শারমীন জাহান খাদিজা। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রী শারমীন জাহান খাদিজা (২৫) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন।  তিনি বলেন, ফাহিম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি হবে আগামী ২৪ মার্চ।  

এর আগে, রোববার (১৫ মার্চ) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার কাসেম আলীর বাসা থেকে ওই ছাত্রীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত শারমীন জাহান চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার তেতৈয়া গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের (২০২১-২২) শিক্ষাবর্ষের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন। তার স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে।

আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই নিহত শারমীন জাহানের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। 

পরে রোববার দিনগত রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত শারমীন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।  তার স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর শারমীন ও ফাহিম গত বছরের ২৪ জুন বিয়ে করে বিষয়টি পরিবারকে জানান। 

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে শারমীন ও ফাহিমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি শারমীন পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ মার্চ বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে ফাহিম মুঠোফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে শারমীন গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তাকে বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুল শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। 

এরপর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় শারমীনকে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

সুরতহালের তথ্য জানিয়ে এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শারমীনের কপালের ডান পাশে, মাথার উপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখতে পান।

শারমীন জাহানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। 

ঘটনাটিকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।

গতকাল রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্যের শোকবার্তা জানানো হয়। 

বিবৃতিতে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শারমীন জাহানের খুনের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত হয়েছে। ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা।

জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, শারমীনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা, সেই সঙ্গে বাসা থেকে ল্যাপটপ ও ফোন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অস্বাভাবিক ও নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম