বুয়েটের ১৬তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অধ্যাপক ড. একরামুল হক
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
অধ্যাপক ড. একরামুল হক।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. একরামুল হক।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১১(১) ও ১১(২) ধারা মোতাবেক তাকে আগামী ৪ (চার) বছরের জন্য বুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. একরামুল হক বুয়েটের ১৬তম উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন।
অধ্যাপক ড. একরামুল হক দেশের উচ্চশিক্ষা ও প্রকৌশল গবেষণার অঙ্গনে সুপরিচিত এক নাম। তিনি ১৯৮৯ সালে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন এবং অনার্স মার্কসসহ মেধাতালিকায় ৩য় স্থান অধিকার করেন। একই বছর তিনি বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৯৭ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৫ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি বুয়েটে যোগদানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশে তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত। ১৯৯৬ সালে তিনি জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তার ৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
কুমিল্লা শহরে জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক ড. একরামুল হক ছাত্রজীবনেও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ১৯৮১ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১৭তম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ৫ম স্থান অর্জন করেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও গবেষণাভিত্তিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও গতিশীল অগ্রযাত্রার সূচনা করবে। তার নেতৃত্বে বুয়েট বিশ্বমানের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে নতুন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হবে বলেও সকলের প্রত্যাশা।

