নিপীড়নের প্রতিবাদে খুবিতে মশাল প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী গণসংগীত
Advertisement
খুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
গণসংগীতের আসরে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত কণ্ঠে বিভিন্ন প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনেও ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। এ উপলক্ষ্যে মশাল প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী গণসংগীতের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিবাদী গানের মাধ্যমে তারা নিরাপদ ক্যাম্পাস, ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলে।
সম্প্রতি দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ’২৪ হলের এক ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে রোববার সকালে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গণসংগীতের আসরে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত কণ্ঠে বিভিন্ন প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা; যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা; এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাবটি গঠনের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ খান বলেন, আজকের গণসংগীত কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলমান যৌন হয়রানি, বিচারহীনতা ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠ উচ্চারণ করা। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া এবং যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আগামী দিনগুলোতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দীন বলেন, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দুই কর্মদিবস শেষ হয়েছে এবং তদন্তকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে। তদন্ত শেষ হলেই যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করবে।
