Logo
Logo
×
   

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ চার শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

Advertisement

Icon

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ পিএম

যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ চার শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

Advertisement

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) চার শিক্ষকের ১১টি গবেষণাপত্র এবং সাবেক উপাচার্যের ২টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল থেকে প্রত্যাহার হয়েছে। এর মধ্যে যবিপ্রবির ১১টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রের ৭টিতেই নাম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের।

গবেষণাপত্রে তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, চিত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা ডুপ্লিকেশন, অবৈজ্ঞানিক তথ্য, অবিশ্বস্ত ফলাফল বা উপসংহারসহ নানা অনিয়মের কারণে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজে সম্প্রতি অনুসন্ধান করলে এ তালিকা পাওয়া যায়। 

তালিকার তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যবিপ্রবির সাবকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদের হিন্দাউইয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়। তিনি এ দুটি গবেষণাপত্রের সহলেখক ছিলেন। প্রত্যাহার হওয়া দুটি গবেষণায় দেশে উৎপাদিত সজনে বীজের নির্যাসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং সেলুলোজভিত্তিক বিশেষ ন্যানোকম্পোজিট ব্যবহার করে ক্ষতিকর উপাদান দূর করা ও জৈব অণু সুরক্ষায় এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এছাড়া অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র, প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির জবাব না দেওয়াসহ নানা নানা কারণে ৭টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে নাম পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেনের। অন্যের নাম ব্যাবহার করে তথ্য পাঠানোর দায়ে তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার রয়েছেন। 

গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে ড. মো. আমজাদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

অন্য দিকে অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র, সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ও গবেষণায় লেখকদের অবদানের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে দুইটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে নাম রয়েছে  বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসানের। 

গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের অভিযোগগুলো সত্য কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান বলেন, আমার যে দুটি গবেষণাপত্র প্রত্যাখ্যান হয়েছে সেগুলো মূলত পর্যালোচনাপত্র বা রিভিউ পেপার ছিল। আর রিভিউ পেপার কখনো প্রত্যাখ্যান হয় না। গবেষণাপত্রে সব লেখকের অবদান সমান নয় বলে যে অভিযোগ রয়েছে সেক্ষেত্রে আমি বলব- কাজ না করলে তো কারো গবেষণাপত্র প্রকাশ পায় না। সবাই কাজ করেছিল বলেই গবেষণাপত্রগুলো প্রকাশ পেয়েছিল। কাজের ব্যাপারে আমার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রশাসন চাইলে আমার গবেষণাপত্র প্রশাসন বরাবর  প্রদর্শন করতে প্রস্তুত।   

এছাড়াও ১টি করে প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে নাম রয়েছে ফিসারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরোয়ার ই মাহফুজ এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক অঞ্জন কুমার রায়ের।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, আমরা এ বিষয়গুলো যাচাই বাছাই করব এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো ক্রুটি পেলে সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যবিপ্রবির চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম