Logo
Logo
×
   

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

অধীর ফাউন্ডেশনের গোল টেবিল বৈঠক

ভ্রমণের সঙ্গে প্রকৃতি রক্ষার বার্তা, বীজ ছড়ানোর আহ্বান

Advertisement

Icon

ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ এএম

ভ্রমণের সঙ্গে প্রকৃতি রক্ষার বার্তা, বীজ ছড়ানোর আহ্বান

Advertisement

পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে গিয়ে বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ‘প্রকৃতির দাবি’ আন্দোলনের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, পর্যটন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে যুক্ত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখা যেতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের সভাকক্ষে অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ থ্রু রিসার্চ (অধীর) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রকৃতির দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্যুর ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় ‘প্রকৃতির দাবি’ সামাজিক আন্দোলনের মূল বিষয়বস্তু ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

উপস্থাপনায় ‘প্রকৃতির দাবি’ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা সবুজ আহমেদ বলেন, আমরা প্রকৃতি থেকে প্রতিনিয়ত নানা সুবিধা নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিনিময়ে প্রকৃতিকে কী দিচ্ছি –এ প্রশ্নটি এখন আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা মসজিদের দানবাক্সে টাকা দিই, মন্দিরের প্রণামির বাক্সে টাকা দিই। প্রকৃতির কোনো দানবাক্স নেই বলে কি আমরা তাকে কিছুই দেব না? এখনই সময় প্রকৃতির ঋণ পরিশোধের। আর এই পরিশোধের মাধ্যম হতে পারে শুধুই এক মুঠো বীজ।

সবুজ আহমেদ বলেন, ‘প্রকৃতির দাবি’ মূলত প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনার একটি সামাজিক আন্দোলনের ধারণা। পর্যটন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে হারিয়ে যাওয়া বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এ আন্দোলনের মূল স্লোগান—‘একমুঠো বীজের বিপ্লব ও অরণ্য ফেরানোর গল্প’।

এ সময় ভ্রমণের আগে বাসায় খাওয়া কাঁঠাল, পেয়ারা, আমসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার ও শুকিয়ে ভ্রমণের সময় সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পরে উপযুক্ত বনাঞ্চল বা এলাকায় এসব বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সবুজ আহমেদ বলেন, দেশীয় ফলদ গাছ বাড়লে বন্যপ্রাণীর জন্য বনে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস তৈরি হবে। এতে খাবারের সন্ধানে বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে বনের স্বাভাবিক বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি ‘প্রকৃতির দাবি’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে পর্যটকদের বীজ ছড়িয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #SeedSelfie ও #NatureDemand হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে অন্যরাও পরিবেশ রক্ষার কাজে উৎসাহিত হবেন।

অধীর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাচ্ছেন। তবে পর্যটনের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ওপরও চাপ বাড়ছে।

তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণকারীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতি করছে। পানি, সড়কের পাশ ও বাজারের আশপাশে এসব বর্জ্য পড়ে থাকছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি প্রকৃতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পর্যটনের কারণে প্রকৃতির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কমানো বা ক্ষতিপূরণের লক্ষ্যেই ‘প্রকৃতি’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতি রক্ষার ধারণাটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে বাস্তবভিত্তিকভাবে তা কার্যকর করতে হবে।

বৈঠকে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বীজের স্টল স্থাপন এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর (CSR) তহবিলের মাধ্যমে বীজ সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পর্যটক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, জননেতা, এনজিও ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

আলোচনায় শেপ ফাউন্ডেশনের পরিচালক সুইট মাহমুদ বলেন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। স্কুল পর্যায় থেকে চারা গাছ রোপণ ও পরিচর্যার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আগামীতে আরও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার ব্যাক্তিবর্গ নিয়ে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করব। আগামী প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষার কাজে উদ্বুদ্ধ করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, বৈঠকে ‘প্রকৃতির দাবি’ আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্লাইড প্রদর্শন করা হয়। আন্দোলনটি কীভাবে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে একটি পুস্তিকাও বিতরণ করা হয়। এতে পর্যটন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম