বেসরকারি শিক্ষক বদলি
৬২ হাজার শূন্য পদে ১৩,৬৭৭ আবেদন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনের সময় শেষ হয়েছে। রোববার শেষ হওয়া সময়ে বদলির জন্য আবেদন করেছেন ১৩ হাজার ৬৭৭ জন। অথচ বদলির জন্য প্রায় ৬২ হাজার পদ শূন্য রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র জানায়, আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন যাচাই-বাছাইসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। বদলির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ, আবেদনে ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া শিক্ষক চাহিদা যাচাই এবং বদলির আদেশের পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়সহ পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মাউশির একজন কর্মকর্তা জানান, ফল প্রকাশের জন্য একটি বৈঠক ডাকা হবে। মহাপরিচালক সময় নির্ধারণ করলে টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হবে। বৈঠকে বদলি কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।
সূত্র জানায়, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুলভাবে শিক্ষক চাহিদা দেখিয়ে থাকলে সেই চাহিদা কর্তন করা হবে কি না, বৈঠকে সেটিও আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে আবেদন করা শিক্ষকদের তথ্যের কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য এডিট অপশন চালু করা হবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে।
বদলির আদেশের পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করার পর আদেশ পেয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বা অবস্থান সম্পর্কে জানার পর সেখানে যেতে অনিচ্ছুক হলে কী করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আদেশের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে, নাকি নির্দিষ্ট শর্তে বদলি গ্রহণ না করার সুযোগ থাকবে- বৈঠকে এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বদলিতে আবেদনের সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে একাধিক শর্তকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। একইভাবে একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি করার পর পরবর্তী বদলির আবেদন করা যাবে।
শিক্ষকদের একটি অংশের মতে, বদলির ক্ষেত্রে দূরত্ব, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং কর্মস্থলের বাস্তবতা বিবেচনায় আরও নমনীয়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক এবং পারিবারিক কারণে বদলি প্রয়োজন- এমন শিক্ষকদের জন্য সুযোগ বাড়ানো দরকার।
তবে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, বদলি প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই যোগ্যতা ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো এবং শূন্য পদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
