ইবির একই রুমে থাকা তিন বন্ধু হলেন জজ
Advertisement
আবির হোসেন, ইবি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ইবির একই রুমে থাকা তিন বন্ধু
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) আবাসিক হলের একই রুম থেকে জজ হলেন তিন বন্ধু। তারা হচ্ছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন, শাকির আলম ও আনোয়ার হোসেন।
তারা তিনজনেই সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২নং কক্ষে থাকতেন। তাদের মধ্যে আরিফ হোসাইন ১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হন। অন্যদিকে বাকি দুইজন এবার ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেই সাফল্যের ধারায় যুক্ত হয়েছেন।
তাদের এই যাত্রার শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকে। আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিন বন্ধুর লক্ষ্য ছিল বিচারক হবেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা একসঙ্গে ওঠেন সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে। ধীরে ধীরে কক্ষটি হয়ে ওঠে তাদের পড়াশোনা, পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও পরিশ্রমের কেন্দ্র।
প্রতিযোগিতার বদলে তারা হয়ে উঠেছিলেন একে অন্যের সহযাত্রী। পড়াশোনার কোনো বিষয় কারও বুঝতে সমস্যা হলে অন্যরা সহযোগিতা করতেন। তিনজনের কাছে সাফল্য ছিল ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি একটি সম্মিলিত স্বপ্ন পূরণের বিষয়। তিন বন্ধুর স্বপ্ন পূরণের বড় অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে আরিফ হোসাইনের সাফল্য।
১৬তম জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আরিফ বিচারক হওয়ার পরও শাকির ও আনোয়ার থেমে যাননি। বরং বন্ধুর সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। নতুন উদ্যমে তারা মনোযোগ দেন প্রস্তুতিতে। শেষপর্যন্ত ১৮তম বিজেএসে তারাও উত্তীর্ণ হন।
সদ্য ১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা প্রতিদিন সকালে নামাজ আদায় করে পড়াশোনা শুরু করতাম, খাবারের সময় একসঙ্গে খাওয়া এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রুপ স্টাডি করতাম। আরিফ ১৬তম জুডিশিয়ারিতে উত্তীর্ণ হলে আমরা আরও অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা কখনো একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করিনি, সবসময় পরস্পরকে সহযোগিতা করেছি।
সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারেই আমরা তিনজন মেধা তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিই। ওই বছরই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ভাই জজ হলে তাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মৌলিক প্রয়োজনটুকু বাদ দিয়ে সারাক্ষণ পড়াশোনা করেছি। আল্লাহর রহমতে আমরা তিনজনই সফল হয়েছি। এটা প্রমাণ করে যে সৎ সঙ্গ, সঠিক লক্ষ্য এবং ত্যাগ থাকলে যৌথ স্বপ্নের চূড়ান্ত জয় সুনিশ্চিত।
