রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উদ্বেগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
এক সংবাদ বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংগঠনটি বলেছে, সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পেশাগত কাজে বাধা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র।
সংগঠনের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আসক বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, তাদের পেশাগত কাজে বাধা এবং পরে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সংগঠনটি বলছে, জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে বাধা দেওয়া, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন শুধু তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে না, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আসকের মতে, কোনো ঘটনা সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ বা তথ্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোতেও মতপ্রকাশ এবং তথ্য গ্রহণ, অনুসন্ধান ও প্রচারের অধিকার স্বীকৃত। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৯ অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৯ অনুচ্ছেদে এই অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আসক।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে হামলায় আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

