ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেকাব পরা ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী-সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ
Advertisement
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ক্লাসে নেকাব পরে আসায় এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ (মৌলবাদী) ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে।
নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে আক্রমণ করতে পারেন বলেও শিক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে নেকাব পরা ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের নেওয়া মাস্টার্সের ক্লাস পরিবর্তন করার আশ্বাস দিয়েছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসের শুরুতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন তিনি। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন।
এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এ কারণে তাকে পেছনে বসতে বাধ্য করা উচিত নয় বলে যুক্তি দেন তিনি। এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয়।
সুমি আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন—নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ করে গণমাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করার কথাও বলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে। নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে এর আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।
তিনি বলেন, ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। তাদের ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না। ফলে একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।
সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন এবং নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়েও তার মন্তব্যে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নেকাব পরা ওই ছাত্রীর বিষয়ে সুমি বলেন, তিনি চার বছর অনার্স শেষ করে বর্তমানে মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন। এর আগে একাধিক মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক তার ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়টি সম্মান করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ অবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে পোশাকের কারণে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সুমি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা মৌখিকভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শিক্ষার্থীরা তাদের কনসার্ন এবং ক্লাসে কী ঘটেছিল তা জানিয়েছে। আমরা আগামীকাল মিটিংয়ের মাধ্যমে অফিসিয়াল ডিসিশনে আসব।’
মাস্টার্সের ক্লাস নেওয়া থেকে তাকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ওই শিক্ষকের সঙ্গে তারা ইন্টারেক্ট করতে চাচ্ছে না। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি, তাদের ওই শিক্ষকের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।’
