উত্তরপত্র হারানোর জের
অনুমতি ছাড়া প্রতিবাদ দেওয়ায় ইবির জনসংযোগ পরিচালককে শোকজ
Advertisement
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছ থেকে পরীক্ষার খাতা হারানোর ঘটনায় দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদলিপি পাঠানো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিবাদ পাঠানোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ অফিসের পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে প্রশাসন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন। এছাড়া বুধবার উপাচার্য সরাসরি ডেকে বিষয়টির কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে ‘পরীক্ষার খাতা হারিয়ে ফেলেছেন উপ-উপাচার্য’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্যাডে তথ্য ও জনসংযোগ অফিসের পরিচালক সাহেদ হাসান স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি যুগান্তরে পাঠানো হয়।
ওই প্রতিবাদে সংবাদটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ঘটনার চরম বিকৃতি’ বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি সম্পর্কে উপাচার্য অবগত না থাকায় এবং কোনো অনুমোদন না নেওয়ায় জনসংযোগের ওই কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়।
এদিকে খাতা হারানোর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির তদন্তকাজ প্রায় শেষপর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
মূল্যায়নের খাতা হারিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে শিক্ষার্থীদের ওই সেমিস্টারের চূড়ান্ত ফলাফল আটকে রয়েছে। ফলে বিভাগটি পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষাও নিতে পারছে না, যার কারণে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য সেশনজট নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনসংযোগ অফিসের পরিচালক সাহেদ হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপ-উপাচার্যের সঙ্গে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
তবে এ ব্যাপারে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, আমার কোনো ধরনের অনুমতি ও সম্মতি ছাড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছিল। তিনি তার লিখিত জবাব দিয়েছেন। এছাড়া তাকে সরাসরি ডেকে কিসের ভিত্তিতে এবং কার নির্দেশে এ প্রতিবাদ দেওয়া হয়েছিল তা জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন।
