উপাচার্য নিয়ে অনড় অবস্থান, চুয়েট শিক্ষক সমিতির ৩ সিদ্ধান্ত
Advertisement
চুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে জরুরি সাধারণ সভা করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো—অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল করা, কেবল চুয়েটে কর্মরত প্রকৌশল শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং পূর্বঘোষিত পূর্ণ কর্মবিরতি (জরুরি সেবা ব্যতীত) অব্যাহত রাখা।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, জরুরি সাধারণ সভায় আমরা সবাই আমাদের দাবির বিষয়ে একমত হয়েছি। চুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে আমরা কোনোভাবেই উপাচার্য হিসেবে মেনে নেব না।
একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে দুর্গাপূজার ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে সংকটের সমাধান না হলে সেই সময় পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের অনেকে মধ্যপর্বের ছুটিতে থাকায় একাডেমিক ক্ষতি তুলনামূলক কম হচ্ছে। পরবর্তীতে যাদের ওই সময়ে ছুটি নেওয়ার কথা ছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ক্লাশ নিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে চলমান আন্দোলন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসছেন—এমন গুঞ্জনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিও অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় সাধারণ সভা শেষে সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন শিক্ষকরাও। দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের এ যৌথ অবস্থান কর্মসূচি চলে।
অন্যদিকে গত ২৪ তারিখ অনলাইনে যোগদান করলেও এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আসেননি নবনিযুক্ত উপাচার্য।
আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা সাড়া মেলেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
