শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকেই সবসময় প্রাধান্য দেব: ছাত্রবন্ধু নুর
jugantor
শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকেই সবসময় প্রাধান্য দেব: ছাত্রবন্ধু নুর

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৩ মার্চ ২০১৯, ১৭:৪৪:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকেই সবসময় প্রাধান্য দেব: ছাত্রবন্ধু নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, শপথ না নেয়া বা দায়িত্ব না নেয়া সেটা পরের বিষয়, আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকেই প্রাধান্য দেব। তারা যদি মনে করেন, তাদের জন্য কাজ করতে আমার দায়িত্ব নেয়া উচিত, তাহলে আমি শপথ নেব। আর তারা যদি মনে করেন, দায়িত্ব না নিয়ে আমি তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করা উচিত, তবে আমি সেটাই করব।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে বুধবার বিকালে যুগান্তর লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চেয়েছিলাম। সেক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে কারচুপি, ভোটচুরি ও ভোট জালিয়াতির একটি নির্বাচন পেয়েছি। ফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও আমরা নানা নাটকীয়তা দেখেছি। ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা করার পরেও রাত ১০টা কিংবা ৯টা নাগাদ যেখানে ফল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং অপকৌশল করে রাত তিনটায় ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখান থেকে আমাদের ধারণা হয়েছে, নির্বাচনের ফল পাল্টে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কিন্তু তারপরেও আমি ও আমাদের প্যানেলের আখতার হোসেন এত ভোট পেয়েছি যে কারচুপি করেও সেটা পরিবর্তন করতে পারেনি। আমি মনে করি আমি ও আখতার হোসেন ছাড়া বাকি পদগুলোতে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা ছাত্রদের সরাসরি ভোটে হননি, কারচুপির মাধ্যমে হয়েছেন। সে কারণে আমরা মূলত হতাশ।

ছাত্রবন্ধু নুর বলেন, ৯টি প্যানেলই যেহেতু এ নির্বাচন বর্জন করেছে। তারা এ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের ফল বাতিল করে ফের নির্বাচন চেয়েছে। ভিপি নির্বাচিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল যিনি তাকে বলেছি, যারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জড়িত তাদের পদত্যাগ করে পুনর্নির্বাচন দেন। আর সে নির্বাচন ৩১ মার্চের মধ্যে চেয়েছি।

ছাত্রবন্ধু উপাধি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের একটা ভালোবাসা। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে কেবল আমি নই, আমার পাশের দুজন (রাশেদ ও ফারুক) এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্যবার রক্তাক্ত হয়েছেন, সেই জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা আমাদের ভালোবেসে বিভিন্ন নামে ডাকেন, এটাই হচ্ছে আমাদের সামনে চলার অনুপ্রেরণা। তাদের এই ভালোবাসার শক্তি ও সমর্থন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

‘ডাকসু নির্বাচনে আমাদের স্লোগান ছিল, ‘অধিকার আদায়ে ডাকসু’। শিক্ষার্থীদের সব ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক দাবি-দাওয়া ও অধিকার আমরা আদায় করতে চাই। সেই জায়গা থেকে আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের সমর্থন চাই।’

তিনি বলেন, ৯০ দশকের পর হলগুলোর অবস্থা এমন যে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলো এগুলোর ইজারা নেয়। যে কারণে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলে হলে সিট পাওয়া যায়, নাহলে পাওয়া যায় না। রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে গেলে হলে থাকা যায়, নাহলে থাকা যায় না, এই অপরাজনীতি উচ্ছেদ করার জন্য আমরা আপনাদের নিয়ে আন্দোলন করব।

‘প্রতিটা শিক্ষার্থী যেমন মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পেয়েছেন, আমরা চাই, একইভাবে তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে তারা হলে আসন পাবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের কৃপায় না। যদি আপনারা আমাদের পাশে থাকেন, তবে আমরা এ অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করব।’

শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকেই সবসময় প্রাধান্য দেব: ছাত্রবন্ধু নুর

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৩ মার্চ ২০১৯, ০৫:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকেই সবসময় প্রাধান্য দেব: ছাত্রবন্ধু নুর
ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, শপথ না নেয়া বা দায়িত্ব না নেয়া সেটা পরের বিষয়, আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকেই প্রাধান্য দেব। তারা যদি মনে করেন, তাদের জন্য কাজ করতে আমার দায়িত্ব নেয়া উচিত, তাহলে আমি শপথ নেব। আর তারা যদি মনে করেন, দায়িত্ব না নিয়ে আমি তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করা উচিত, তবে আমি সেটাই করব।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে বুধবার বিকালে যুগান্তর লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চেয়েছিলাম। সেক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে কারচুপি, ভোটচুরি ও ভোট জালিয়াতির একটি নির্বাচন পেয়েছি। ফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও আমরা নানা নাটকীয়তা দেখেছি। ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা করার পরেও রাত ১০টা কিংবা ৯টা নাগাদ যেখানে ফল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং অপকৌশল করে রাত তিনটায় ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখান থেকে আমাদের ধারণা হয়েছে, নির্বাচনের ফল পাল্টে দেয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, কিন্তু তারপরেও আমি ও আমাদের প্যানেলের আখতার হোসেন এত ভোট পেয়েছি যে কারচুপি করেও সেটা পরিবর্তন করতে পারেনি। আমি মনে করি আমি ও আখতার হোসেন ছাড়া বাকি পদগুলোতে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা ছাত্রদের সরাসরি ভোটে হননি, কারচুপির মাধ্যমে হয়েছেন। সে কারণে আমরা মূলত হতাশ।

ছাত্রবন্ধু নুর বলেন, ৯টি প্যানেলই যেহেতু এ নির্বাচন বর্জন করেছে। তারা এ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের ফল বাতিল করে ফের নির্বাচন চেয়েছে। ভিপি নির্বাচিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল যিনি তাকে বলেছি, যারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে জড়িত তাদের পদত্যাগ করে পুনর্নির্বাচন দেন। আর সে নির্বাচন ৩১ মার্চের মধ্যে চেয়েছি। 

ছাত্রবন্ধু উপাধি সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের একটা ভালোবাসা। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে কেবল আমি নই, আমার পাশের দুজন (রাশেদ ও ফারুক) এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্যবার রক্তাক্ত হয়েছেন, সেই জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা আমাদের ভালোবেসে বিভিন্ন নামে ডাকেন, এটাই হচ্ছে আমাদের সামনে চলার অনুপ্রেরণা। তাদের এই ভালোবাসার শক্তি ও সমর্থন নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। 

‘ডাকসু নির্বাচনে আমাদের স্লোগান ছিল, ‘অধিকার আদায়ে ডাকসু’। শিক্ষার্থীদের সব ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক দাবি-দাওয়া ও অধিকার আমরা আদায় করতে চাই। সেই জায়গা থেকে আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের সমর্থন চাই।’

তিনি বলেন, ৯০ দশকের পর হলগুলোর অবস্থা এমন যে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলো এগুলোর ইজারা নেয়। যে কারণে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলে হলে সিট পাওয়া যায়, নাহলে পাওয়া যায় না। রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে গেলে হলে থাকা যায়, নাহলে থাকা যায় না, এই অপরাজনীতি উচ্ছেদ করার জন্য আমরা আপনাদের নিয়ে আন্দোলন করব।

‘প্রতিটা শিক্ষার্থী যেমন মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পেয়েছেন, আমরা চাই, একইভাবে তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে তারা হলে আসন পাবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের কৃপায় না। যদি আপনারা আমাদের পাশে থাকেন, তবে আমরা এ অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করব।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন