আমাকে ফাঁসি দিয়ে যাও: বুয়েট ভিসি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

আমাকে ফাঁসি দিয়ে যাও: বুয়েট ভিসি
বুয়েট শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ভিসি সাইফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দাও।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নিজ কার্যালয়ে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগ দাবি করলে তিনি এ কথা বলেন। তবে তিনি পদত্যাগ করবেন কি করবেন না এ বিষয়ে কিছুই বলেননি।

উপাচার্য কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় আবরার হত্যার বিচার দাবিতে আট দফা দাবির ঘোষণা চান শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে জানতে চান, রোববার রাতে আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার পর এত সময় ধরে তিনি কোথায় ছিলেন? একপর্যায়ে উপাচার্য মাইকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথা বলতে চান। কথার শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আবরারের মৃত্যু হয়েছে।’ তখন শিক্ষার্থীরা ‘মৃত্যু নয় খুন হয়েছে’ বলে চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে, খুনই হয়েছে।’

ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। পাঁচ-ছয়জনকে নিয়ে বসেছি। সব তো আমার হাতে নেই। যেগুলো আমার হাতে আছে, সেগুলো আমি করছি। নীতিগতভাবে তোমাদের পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। সারা দিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তোমরা অধৈর্য হবে না।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে সিন্ধান্ত না দিয়ে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস না ছাড়ার দাবি জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি তো কোনো অন্যায় করিনি।’

তখন শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দেয়।

উপাচার্য সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বারবার বলতে থাকেন, ‘এখানে কথা বলার জায়গা না। কথা বলতে দশজন প্রতিনিধি আমার সঙ্গে বসো।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।

পরে আবারো উপাচার্য বলেন, ‘আমি অসুস্থ। সরকারপ্রধান জানেন, আমি কী করেছি। আমি চেষ্টা করছি এর সুষ্ঠু সমাধান করার।’

কিন্তু আট দফা দাবির বিষয়ে অটল থাকে ছাত্রছাত্রীরা। পরে উপাচার্য বলেন, আমি তোমাদের সাত দফার সঙ্গে একমত পোষণ করছি। তোমরা প্রতিনিধি দাও। প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলব। আমি এক কথায় বললাম, তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত।’

এরপরও শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ঘিরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এর আগে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার ৩৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আসেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এরপর তিনি হল প্রভোস্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাঁর কক্ষে তালা মেরে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অবরোধ করতে থাকেন।

বাধ্য হয়ে বিকাল ৬টার দিকে শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন ভিসি সাইফুল ইসলাম। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের যে যে প্রশ্নের মুখোমুখি হন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল, তিনি কেন সন্তানের (আবরার) জানাজায় হাজির হননি।

জবাবে উপাচার্য বলেন, সেই সময় তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রশ্ন করেন, জানাজা পড়তে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় লাগে না। জবাবে তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাস থেকে পুলিশকে সরানোসহ নানা কাজে তাকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য বলেন, ‘তোমরা আলটিমেটাম দিও না, বাবা! আমি তো বলেছি, তোমাদের দাবির সঙ্গে ইন প্রিন্সিপল আমি একমত।’

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১০ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×