বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

  অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ৩০ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল চিকিৎসক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার শাহবাগের আইপিজিএমআর-কে উন্নীত করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

এই প্রাপ্তি আমাদের দেশের জন্য একটি আলোকবর্তিকা। চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের মানুষকে উন্নত বিশ্বের মতো স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে ৩০ এপ্রিল। চলতি বছরে এমন এক সময় এই উদযাপন হচ্ছে, যখন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ ঘরবন্দি কিংবা লকডাউন হয়ে আছেন। একটি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ভাইরাসে প্রায় ২৪ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছেন প্রায় ১.৭৫ লাখ মানুষ ।

চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতকোত্তর কোর্স ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় শাহবাগ হোটেলের জায়গায় ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রির্সাচ (আইপিজিএমআর) প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণার দায়িত্ব প্রাপ্ত হলেও এই প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা ছিল না। ডিগ্রি প্রদান করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক পুনর্বাসন ও উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা প্রবর্তন করে দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে আইপিজিএমআর প্রতিষ্ঠিত হয়। এদেশের মানুষের রক্তের প্রয়োজনে নিরাপদ রক্ত সরবরাহ ও নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য বঙ্গবন্ধু তৎকালীন আইপিজিএমআর-এ প্রথম ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করেন।

বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে এই ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন করেন, আজও তার হাতের ছোঁয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগে বিদ্যমান। বঙ্গবন্ধুই প্রথম এ দেশের চিকিৎসকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে তাদের চাকরি দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের ছাত্র-যুবক, শিক্ষক-চিকিৎসক, কৃষক-শ্রমিক-জনতাসহ সব পেশার মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলদেশ স্বাধীন করেছিল।

স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি চক্রান্তে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে লক্ষ্যচ্যুত হয় বাংলাদেশ।

আবার এ দেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় অগণতান্ত্রিক সামরিক স্বৈরশাসন। অপশাসনের ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে থাকে, স্বাস্থ্য খাত তার মধ্যে অন্যতম। স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার, বঙ্গবন্ধু তা সংবিধানে সন্নিবেশিত করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে তৎকালীন দেশের ১৩টি সরকারি ও ৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং নিপসমসহ ৫টি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট প্রতিষ্ঠান দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রের শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান উন্নয়নের যথেষ্ট ভূমিকা পালনে সক্ষম হচ্ছিল না।

চিকিৎসা ক্ষেত্র বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন দেশে একটি স্বতন্ত্র ও গবেষণা সমৃদ্ধ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সব মেডিকেল কলেজের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছিল।

উল্লেখ্য, ৬৯ এর ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের দেয়া ১১দফার মধ্যেও চিকিৎসকদের দাবি কথা উল্লেখ ছিল। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মেডিকেল শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও আইপিজিএমআর শিক্ষক সমিতি একটি স্বতন্ত্র ও গবেষণা সমৃদ্ধ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রত্যেকটি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। বাঙালীর নয়নের মনি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর কোন সরকারই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চিকিৎসক সমাজ এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়নে তাদের সব প্রত্যাশা পূরণের ভরসাস্থলের সন্ধান পান।

সংবিধান স্বীকৃত জনগণের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এবং দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৮ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন আইপিজিএমআর-কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত করার মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম স্বতন্ত্র পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

তৎকালীন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক এম এ কাদেরীর সঙ্গে আমি তখন প্রথম প্রশাসনিক রেজিস্ট্রার হিসাবে কাজে সহায়তা করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের চিকিৎসক সমাজের দীর্ঘ দিনের ন্যায্য দাবি যেমন বাস্তবায়ন করছেন, তেমনি উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অগ্রযাত্রার সূচনা করেন।

বাংলাদেশের প্রথম স্বতন্ত্র পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অবদান চিকিৎসক সমাজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে চিরদিন স্মরণ করবে।

এছাড়াও তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ঘনিষ্ঠ সহযোগী মরহুম সালাহউদ্দিন ইউসুফ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম আমানুল্লাহ ও স্বাস্থ্য সচিব মোহাম্মদ আলীর অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের জন্য তৎকালীন বিএমএ মহাসচিব ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ডা. বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু, অধ্যাপক ডা কাজী শহিদুল আলম, ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, ডা. কামরুল হাসান খান, ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, ডা. আজীজ, ডা. জাহিদ হোসেন(শিশু কার্ডিওলজি), প্রয়াত ডা. জাকারিয়া স্বপনসহ আরো অনেকের অবদানও চিকিৎসক সমাজ কৃতজ্ঞচিত্তে মনে রাখবে।

প্রথম পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাজ আন্তর্জাতিক মান অর্জন করে জনসাধারণের চিকিৎসায় নিয়োজিত হবেন, এ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছিল, প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মাথায় ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর কেবল হীন রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে আবারো আইপিজিএমআর করার উদ্যোগ নেয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।

আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন করেছিলাম, তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ মামলা হামলা করেছিল তৎকালীন সরকারের লেজুড়ভিত্তিক চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব ও কর্মচারী গোষ্ঠী। এহেন ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দেশের সব পেশাজীবী ও জনসাধারণ তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

তীব্র আন্দোলনের ফলে বিএনপি-জামায়াত সরকার তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবুও ক্ষোভের বশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলে সংক্ষেপে বিএসএমএমইউ লিখে পরিচিতি দেয়।

এমনকি তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকা থেকে গাজীপুর, টুঙ্গিপাড়া বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়ার হীন উদ্যোগ গ্রহণ করে। জনসাধারণের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আবারও ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্সে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বারডেম সংলগ্ন বেতার ভবনের জমি ও হাসপাতালের উত্তর পাশের ১২ বিঘা জমির স্থায়ী বন্দোবস্ত করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ৫২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহায়তা ও দিকনিদের্শনায় খুব দ্রুত নতুন কেবিন ব্লক সম্প্রসারণ, অনকোলজি ভবন, নতুন বহির্বিভাগ, আধুনিক আইসিইউ, ওটি কমপ্লেক্স, মেডিকেল কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে শেখ হাসিনা ভাতা প্রদান ও চাকুরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা প্রবর্তনসহ নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

এরই অংশ হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেল গঠন করা হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আলাদা কেবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বর্তমানে রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে চান্স পাওয়া বেসরকারি ছাত্র/ছাত্রীদের মাসিক সম্মানি দশ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজর টাকায় উন্নীত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিরলস পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আধুনিক ও উন্নত মানের করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

ভাইস চ্যান্সেলর এম এ কাদরী এর আমলে রেসিডেন্সি কোর্স চালু হয়। এরপর দেশের সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সব ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোন বিষয়ে কতজন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন সে অনুসারে উচ্চশিক্ষার প্রসার দরকার।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে দেশের সব মেডিকেল কলেজসহ সব পোস্ট-গ্রাজুয়েট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসমুহকে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে সব উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ডিগ্রি ও কোর্স সমূহকে একই মানে উন্নীত করা হয়েছে।

ফলে দেশের উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়ন ও প্রসার ঘটেছে। একই সঙ্গে সেবার মান বেড়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠানিক বৈকালিক প্র্যাকটিস, ২৪ ঘণ্টা ল্যাবরেটরি সুবিধা চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্প অর্থ ব্যয় করে উন্নত বিশ্বের ন্যায় আধুনিক ও মান সম্পন্ন সেবা পাচ্ছে।

জরুরি বিভাগ চালু করা, শিক্ষক-চিকিৎসকদের ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করা, শুধু অপশন প্রদানকারী সব চিকিৎসকদের প্রণোদনা ভাতা প্রদান, শিক্ষকদের যানবাহন প্রদান করা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

বর্তমান প্রশাসনের প্রায় তিন বছর হতে চলল। এ সময়ের মধ্যে বেতার ভবনকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা উচিত ছিল। কনভেনশন সেন্টার চালু না হওয়ায় প্রায় ৫ কোটি টাকা লোকসান হল। ডরমিটরি চালু না হওয়ায় আসবাবসহ ভবন নির্মাণ ধ্বংসের পথে।

করিডোর সম্প্রসারণ হলেও জরুরি বিভাগ চালু হয়নি। এমনকি শিক্ষক চিকিৎসকের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হয়নি। নতুন নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের কেউই জয়বাংলা বলে কিনা; এ নিয়ে সংশয় আছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কর্ম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।

সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরী সহায়তার ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট কোরিয়া মৈত্রী বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা এ সরকারের আরও একটি সফল্য।

উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান, উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সংযুক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশা সবার।

সবাই মিলে যার যে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সফল হবেই।

বর্তমানে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অনেক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে শিক্ষক সমিতি নির্বাচন নেই, মেয়াদোত্তীর্ণ ডিন নির্বাচন নাই। বর্তমান ভিসির শেষ বছরেও এসব নির্বাচন দেখা যাবে কিনা সন্দেহ।

যেমন দেখা যাচ্ছে, করোনা নিয়ে গঠিত কমিটি, যেখানে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া কমিটির নেতৃবৃন্দই সামনে আছেন। সর্বক্ষেত্রে সচলতা ফিরিয়ে আনতে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই।

সারা বিশ্বে করোনার এই দুর্যোগে সবকিছু স্থবির হওয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকী, মহান স্বাধীনতা দিবস, মুজিবনগর দিবসসহ সব জাতীয় অনুষ্ঠান এখন জনসমাগম এড়ানোর উদ্দেশ্যে বন্ধ করা হয়েছে। সারা বিশ্বে সব জাতীয় অনুষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে।

আগামী বছর ৩০ এপ্রিল আমরা আশা করি করোনামুক্ত আবার এমন একটি সুন্দর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পাবো, যখন কবির ভাষায় বলতে হয়— ‘আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা, অঘ্রানে নবান্নের উৎসবে।’

মহান আল্লাহর এর কৃপায় আমরা করোনার ছোবল থেকে রক্ষা পাবো নিশ্চয়ই এবং এই দুর্যোগ কাটিয়ে আমরা করোনা বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আবার সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবো। সঙ্গে সঙ্গেদ এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে একত্রে কাজ করব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চিকিৎসা, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা ও উন্নত গবেষণার মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যখাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে সক্ষম হব বলে আশা করি। এটাই হোক এ বছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রত্যাশা।

লেখক: অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, চেয়ারম্যান কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ, সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সভাপতি ওএসবি, সাবেক মাহসচিব বিএমএ

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত