করোনার মধ্যেই টিএসসিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলে হাহাহাতি
jugantor
করোনার মধ্যেই টিএসসিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলে হাহাহাতি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০২ জুলাই ২০২০, ১৬:৫১:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনার মধ্যেই টিএসসিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষেই হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


বুধবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে ছাত্রদলের এক নেতার অবস্থান করা কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।


উভয়পক্ষেই তিনজন করে মোট ছয়জন আহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে ছাত্র সংগঠন দুটি।


জানা যায়, বুধবার রাতে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহফুজ চৌধুরী ও তার বান্ধবী মানছুরা একটি প্রাইভেটকারে করে টিএসসিতে আসেন। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদদীন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ইমাম হাসান তাকে সেখানে বসতে নিষেধ করেন। এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই টিএসসি এলাকায় মানুষ যেন অনর্থক ভিড় না করেন, তা নিশ্চিতে প্রতিদিন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের অনুরোধে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক (সদ্য সাবেক ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী) ভিড় করা মানুষকে চলে যেতে অনুরোধ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সন্ধ্যায় ডাকসুর নেতা সৈকতের সঙ্গে জসীমউদ্দীন হলের জিএস ইমাম হোসেন মাইকে টিএসসি এলাকায় ভিড় না করতে অনুরোধ করেন। তখন টিএসসিতে থাকা শাখা ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান চৌধুরী ও বান্ধবীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন ইমাম হোসেন। এ সময় ইমামের সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আলম ঘটনাটিতে সদ্যসাবেক ডাকসু সদস্য তানভীর হাসানকে অভিযুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন– ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টিএসসিতে মাহফুজকে টেনে গাড়ি থেকে নামাচ্ছিলেন কবি জসীমউদ্দীন হলের জিএস ইমাম হাসান ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছেলে। আমি দৌড়ে যেতে যেতে মাহফুজের ওপর ওরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলে পড়ল। ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেও একদফা মার খেলাম। এরই মধ্যে অনেক লোক জড়ো হয়ে গেল, যাদের ৮০ শতাংশ ছাত্রলীগ কর্মী। হামলা চলাকালীন তানভীর ও আমাদের ছাত্রদলের কিছু সিনিয়র এলেন। আমাদের সিনিয়ররা ফেরানোর চেষ্টা করলেও তানভীর তার লোকজনকে নির্দেশ দিলেন যে ওই ধর এইটারে। শুধু তাই নয়, ইমাম ছেলেটা দুবার আমার দিকে তেড়ে এলো মারতে। উপস্থিত লোকজন তাকে আটকান কোনোমতে। এর পর মাহফুজকে নিয়ে আমরা ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে ওকে চিকিৎসা দিতে দিতেই সাংবাদিকদের ফোন পাই যে আমরা নাকি তানভীর ও তার লোকজনের ওপর হামলা করেছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্যসাবেক ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘আমি একশ দিনের মতো টিএসসিতে সাধারণ ছিন্নমূল মানুষকে খাবার দিয়ে আসছি। দলমত নির্বিশেষে সবারই প্রশংসা কুড়িয়েছি। কিন্তু গতকাল যা ঘটেছে, এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন ছাত্রদলের নেতারা। আপনি জেনে দেখুন, বিগত একশ দিন আমি এখানে খাবার দিয়ে আসছি। আমি কিংবা আমার সহযোগীরা কারও সঙ্গে এতটুকু খারাপ আচরণ করছে কিনা। যখন সফলতার সঙ্গে একশ দিন পূর্ণ করলাম, তখনই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের, আমাকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে এমনটি করেছে।’

করোনার মধ্যেই টিএসসিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলে হাহাহাতি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০২ জুলাই ২০২০, ০৪:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
করোনার মধ্যেই টিএসসিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষেই হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


বুধবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে ছাত্রদলের এক নেতার অবস্থান করা কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।


উভয়পক্ষেই তিনজন করে মোট ছয়জন আহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে ছাত্র সংগঠন দুটি।


জানা যায়, বুধবার রাতে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহফুজ চৌধুরী ও তার বান্ধবী মানছুরা একটি প্রাইভেটকারে করে টিএসসিতে আসেন। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদদীন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ইমাম হাসান তাকে সেখানে বসতে নিষেধ করেন। এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই টিএসসি এলাকায় মানুষ যেন অনর্থক ভিড় না করেন, তা নিশ্চিতে প্রতিদিন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের অনুরোধে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক (সদ্য সাবেক ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী) ভিড় করা মানুষকে চলে যেতে অনুরোধ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সন্ধ্যায় ডাকসুর নেতা সৈকতের সঙ্গে জসীমউদ্দীন হলের জিএস ইমাম হোসেন মাইকে টিএসসি এলাকায় ভিড় না করতে অনুরোধ করেন। তখন টিএসসিতে থাকা শাখা ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান চৌধুরী ও বান্ধবীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন ইমাম হোসেন। এ সময় ইমামের সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আলম ঘটনাটিতে সদ্যসাবেক ডাকসু সদস্য তানভীর হাসানকে অভিযুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন– ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টিএসসিতে মাহফুজকে টেনে গাড়ি থেকে নামাচ্ছিলেন কবি জসীমউদ্দীন হলের জিএস ইমাম হাসান ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছেলে। আমি দৌড়ে যেতে যেতে মাহফুজের ওপর ওরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলে পড়ল। ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেও একদফা মার খেলাম। এরই মধ্যে অনেক লোক জড়ো হয়ে গেল, যাদের ৮০ শতাংশ ছাত্রলীগ কর্মী। হামলা চলাকালীন তানভীর ও আমাদের ছাত্রদলের কিছু সিনিয়র এলেন। আমাদের সিনিয়ররা ফেরানোর চেষ্টা করলেও তানভীর তার লোকজনকে নির্দেশ দিলেন যে ওই ধর এইটারে। শুধু তাই নয়, ইমাম ছেলেটা দুবার আমার দিকে তেড়ে এলো মারতে। উপস্থিত লোকজন তাকে আটকান কোনোমতে। এর পর মাহফুজকে নিয়ে আমরা ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে ওকে চিকিৎসা দিতে দিতেই সাংবাদিকদের ফোন পাই যে আমরা নাকি তানভীর ও তার লোকজনের ওপর হামলা করেছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে সদ্যসাবেক ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘আমি একশ দিনের মতো টিএসসিতে সাধারণ ছিন্নমূল মানুষকে খাবার দিয়ে আসছি। দলমত নির্বিশেষে সবারই প্রশংসা কুড়িয়েছি। কিন্তু গতকাল যা ঘটেছে, এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন ছাত্রদলের নেতারা। আপনি জেনে দেখুন, বিগত একশ দিন আমি এখানে খাবার দিয়ে আসছি। আমি কিংবা আমার সহযোগীরা কারও সঙ্গে এতটুকু খারাপ আচরণ করছে কিনা। যখন সফলতার সঙ্গে একশ দিন পূর্ণ করলাম, তখনই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের, আমাকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে এমনটি করেছে।’