‘সিলেটের ঘটনা শিরোনামে, ঢাবিরটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে কেন’
jugantor
‘সিলেটের ঘটনা শিরোনামে, ঢাবিরটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে কেন’

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩৯:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

সিলেট এমসি কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের নিউজ কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসুর সাবেক এজিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, সিলেট এমসি কলেজের ঘটনা পত্রিকার লিড রিপোর্ট হবে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা নিম্নমানের কাভারেজ পাবে, তা কেন? গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ সব ঘটনা যেন সমান গুরুত্ব পায়।

রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ প্রশ্ন তুলেন সাদ্দাম হোসেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভ সমাবেশটি আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

সেখানে ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের এবং সিলেটের এমসি কলেজ, খাগড়াছড়ি ও সাভারে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সবার গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড চাই- শুধু এটুকু বলেই আত্মতৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং নারীর ওপর অপরাধের শর্ত তৈরি করে যে সমাজ, সেই সমাজকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে হবে।

এ সময় অনতিবিলম্বে সব ধর্ষণ ঘটনার দ্রুততম সময়ে বিচার দাবি করেন সাদ্দাম হোসেন।

গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে ডাকসু নেতা সাদ্দাম বলেন, গণমাধ্যমের বন্ধুদের বলব, আপনারা সিলেকটিভ নৈতিকতা না দেখিয়ে নৈর্ব্যক্তিক নৈতিকতা দেখান। সবার ব্যাপারেই যেন আপনাদের সমান চোখ থাকে। সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনা পত্রিকায় লিড হবে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হবে, তা হতে পারে না। বিশেষ করে ডাকসুর সাবেক নাট্যকারের বক্তব্য-কর্মসূচিগুলোর ডেবিট-ক্রেডিট মিলছে না, ব্যালেন্সশিট সমান থাকছে না, গণমাধ্যমের বন্ধুরা বিষয়টি উপস্থাপন করুন।

ধর্ষণবিরোধী এ বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস।

তিনি বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যান, তখনই ধর্ষণের মেগা সিরিয়াল দেখা যায়। আমি হতবাক-পরপর কীভাবে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটে? আমার তো ধারণা হয়, নুরুরা বাঁচতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগকে দায়ী করতে চায়।

ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরকে উদ্দেশ করে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘পাগল ও বিকারগ্রস্ত’ ভিপি নুরুল হক নুর, আপনাকে বলতে চাই- বোনদের সহানুভূতি নিয়েই কিন্তু আপনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। কাজেই সবার আগে ঢাবির নিপীড়নের শিকার এই বোনটির পাশে আপনার দাঁড়ানোর কথা। তা না করে আপনি বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন, আমি নাকি আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি। আমি স্পষ্ট করে বলছি, এটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বোনটির পক্ষে মামলা করতে পারলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতাম। আমরা ধর্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই, কোনো সংগঠনের নয়।

সমাবেশে আইনজীবী কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষণগুলোর বিচার না হলে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের হুশিয়ারিও দেন তিনি।

‘সিলেটের ঘটনা শিরোনামে, ঢাবিরটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে কেন’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

সিলেট এমসি কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের নিউজ কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসুর সাবেক এজিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, সিলেট এমসি কলেজের ঘটনা পত্রিকার লিড রিপোর্ট হবে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা নিম্নমানের কাভারেজ পাবে, তা কেন? গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ সব ঘটনা যেন সমান গুরুত্ব পায়।

রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ প্রশ্ন তুলেন সাদ্দাম হোসেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভ সমাবেশটি আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

সেখানে ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধীদের এবং সিলেটের এমসি কলেজ, খাগড়াছড়ি ও সাভারে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সবার গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড চাই- শুধু এটুকু বলেই আত্মতৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং নারীর ওপর অপরাধের শর্ত তৈরি করে যে সমাজ, সেই সমাজকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে হবে।

এ সময় অনতিবিলম্বে সব ধর্ষণ ঘটনার দ্রুততম সময়ে বিচার দাবি করেন সাদ্দাম হোসেন।

গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে ডাকসু নেতা সাদ্দাম বলেন, গণমাধ্যমের বন্ধুদের বলব, আপনারা সিলেকটিভ নৈতিকতা না দেখিয়ে নৈর্ব্যক্তিক নৈতিকতা দেখান। সবার ব্যাপারেই যেন আপনাদের সমান চোখ থাকে। সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনা পত্রিকায় লিড হবে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হবে, তা হতে পারে না। বিশেষ করে ডাকসুর সাবেক নাট্যকারের বক্তব্য-কর্মসূচিগুলোর ডেবিট-ক্রেডিট মিলছে না, ব্যালেন্সশিট সমান থাকছে না, গণমাধ্যমের বন্ধুরা বিষয়টি উপস্থাপন করুন।

ধর্ষণবিরোধী এ বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস।

তিনি বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যান, তখনই ধর্ষণের মেগা সিরিয়াল দেখা যায়। আমি হতবাক-পরপর কীভাবে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটে? আমার তো ধারণা হয়, নুরুরা বাঁচতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগকে দায়ী করতে চায়।

ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরকে উদ্দেশ করে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘পাগল ও বিকারগ্রস্ত’ ভিপি নুরুল হক নুর, আপনাকে বলতে চাই- বোনদের সহানুভূতি নিয়েই কিন্তু আপনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। কাজেই সবার আগে ঢাবির নিপীড়নের শিকার এই বোনটির পাশে আপনার দাঁড়ানোর কথা। তা না করে আপনি বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন, আমি নাকি আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি। আমি স্পষ্ট করে বলছি, এটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বোনটির পক্ষে মামলা করতে পারলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতাম। আমরা ধর্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই, কোনো সংগঠনের নয়।

সমাবেশে আইনজীবী কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষণগুলোর বিচার না হলে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের হুশিয়ারিও দেন তিনি।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে গণধর্ষণ