Logo
Logo
×
   

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন

আমের মিষ্টতা শনাক্তে প্রযুক্তি উদ্ভাবন

Advertisement

Icon

বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:৫৮ এএম

আমের মিষ্টতা শনাক্তে প্রযুক্তি উদ্ভাবন

Advertisement

আম উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। আমের চাহিদা ও বাজারজাতকরণে মিষ্টতা নির্ধারণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর অনেক দেশে মিষ্টতার পার্থক্যের ভিত্তিতে আম বাজারজাত করা হলেও আমাদের দেশে হয় না। ‘ই-নোজ’ এবং ‘এমকিউ সেন্সর’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমের মিষ্টতা ও কঠিনতা নির্ণয়ের গবেষণায় সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে একদল গবেষক। যন্ত্রটি ব্যবহার করে কোনো প্রকার স্পর্শ ছাড়াই নির্ণয় করা যাবে আমের মিষ্টতা ও কঠিনতা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এক বছর মেয়াদি ‘এমকিউভিত্তিক ইলেকট্রনিক নোজ (ই-নোজ) ব্যবহার করে আমের গুণমানের পূর্বাভাস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ওই গবেষণা পরিচালিত হয়।

এ বিষয়ে ড. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে কৃষক ও ভোক্তা সবাই আম হাতে চেপে বা চোখের আন্দাজে জাত অনুযায়ী মিষ্টতা এবং কঠিনতা অনুমান করেন। একাধিকবার এমন চাপ প্রয়োগে আমের গুণাগুণ খুব দ্রুতই নষ্ট হয়। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ও কোনো রকম স্পর্শ ব্যতীত আমের মিষ্টতা ও কঠিনতা নির্ণয়ের জন্য গবেষণার কাজ শুরু হয়। ই-নোজ বা ইলেকট্রনিক নোজ মূলত আম থেকে বের হওয়া ঘ্রাণ বা গ্যাসের মধ্যে অবস্থিত মিষ্টতা নির্ধারক পদার্থের পরিমাণ সেন্সরের মাধ্যমে নির্ণয় করতে পারে। একটি আম ই-নোজের চেম্বারে রেখে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা কতটুকু মিষ্টি বা শক্ত তা নির্ধারণ করে দেবে। খুবই কম খরচে ই-নোজ ব্যবহার করে আমের মিষ্টতা নির্ণয় করা যাবে। গাছ থেকে আম সংগ্রহের পর ঠিক কতদিনের মধ্যে পেকে যেতে পারে তাও অনুমান করা যাবে। তাছাড়া একটি আম কত দ্রুত নরম হয়ে যাচ্ছে বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিনা তা আগে থেকেই বুঝা যাবে।

গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী কাজী সাকিবুর রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোতে মানুষের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখতে খাদ্যের পুষ্টি উপাদানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা পরীক্ষা করে বাজারে প্রদর্শন করা হয়। সে হিসাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনীয় মাত্রার উপাদান সমৃদ্ধ খাবার ক্রয় করতে পারেন। ই-নোজ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দেশেও এখন মিষ্টতা অনুযায়ী আমসহ অন্যান্য ফলের শ্রেণি বিভাগ করা যাবে। এতে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মিষ্টতার ভিত্তিতে ফল খেতে পারবেন।

Advertisement

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাকৃবি অধ্যাপক গবেষক

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম