পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মানববন্ধন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৯ পিএম
পদোন্নতির দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ২৬ থেকে ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা পদোন্নতির দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
রোববার (২৩ নভেম্বর) মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় দীর্ঘদিনের বৈষম্য, বঞ্চনা এবং অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে তারা সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে দ্রুত পদোন্নতির দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ক্যাডার সার্ভিসে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। এর মধ্যে জনবলের দিক থেকে সবচেয়ে বড় বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার; কিন্তু এই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের একটি বিশাল অংশই দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত রয়েছেন। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা ক্যাডারে তিনটি টায়ারে পদোন্নতি হয় প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক। সম্প্রতি দীর্ঘ আন্দোলনের পর প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে ৩৫ ব্যাচ পর্যন্ত ১৮৭০ জন পদোন্নতি লাভ করেছেন; কিন্তু বাকি দুই টায়ারের পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। বিশেষ করে ২৬তম থেকে ৩১তম ব্যাচের সহকারী অধ্যাপকরা দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত। অথচ অন্যান্য ক্যাডারে ৩০তম বিসিএস পর্যন্ত পদোন্নতি হয়েছে। ৩১তম বিসিএস পদোন্নতি প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে বঞ্চিত শিক্ষা ক্যাডারের ৫টি ব্যাচকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিলে সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষণ সৃষ্টি হবে না বলে জানান তারা।
দীর্ঘ সময় ধরে সহকারী অধ্যাপক পদে অবস্থান করায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও মানসিক অবসাদ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি- এ ধরনের বৈষম্য অতীতের অন্যান্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
তারা বলেছেন, পদোন্নতি না হওয়ায় অনেকেই ১০ থেকে ১২ বছর ধরে সহকারী অধ্যাপক পদে অবস্থান করছেন। এক পদে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ায় শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, কর্মউদ্দীপনা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা ব্যাহত হচ্ছে। তারা মনে করছেন, অবিলম্বে পদোন্নতি প্রদান হলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অসন্তোষ দূর হবে।
বঞ্চিত এক কর্মকর্তা বলেন, অধিকাংশ কর্মকর্তা বেতনের শেষ ধাপে অবস্থান করছেন। ফলে পদোন্নতি প্রদান করলে সরকারের কোনো অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় বাড়বে না। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ১০ বছর পূর্ণ হলে যেহেতু ৯ম জাতীয় বেতন-স্কেল অনুযায়ী ৫ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার নিয়ম রয়েছে, তাই সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হলেও গ্রেড অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ পদোন্নতি একটি প্রশাসনিক স্বীকৃতি মাত্র, আর্থিক নয়।
