মধ্যরাতে উত্তাল পুরান ঢাকা
হাদির মৃত্যুতে কাঁদলেন জবি শিক্ষার্থীরা
Advertisement
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকা এলাকা।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্বজিৎ চত্বরে সমবেত হন। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি লড়াই করে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’।
বিশ্বজিৎ চত্বরে জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন জবি শিবিরের সভাপতি ও অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলে ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বিক্ষোভ শেষে মোনাজাতে রিয়াজুল ইসলাম হাদির জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘হাদি ভাই আমাদের জুলাই আন্দোলনের প্রতীক। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। হাদি ভাইয়ের মতো প্রতিবাদী কণ্ঠকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। ইন্টারিম সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আপনারা দ্রুত বিচার করুন। হাদি ভাইয়ের ওপর এই হামলা প্রমাণ করে জুলাইয়ের শক্তিরা বিভক্ত হলে পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে।’ মোনাজাতে অংশ নেন শত শত শিক্ষার্থী। মোনাজাতকারীরা দেশের জন্য ওসমান হাদির মতো শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।’
আপ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানা বলেন, হাদির ওপর হামলার মাধ্যমে এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করা হয়েছে। এই খুনি কারা, তা আমরা জানি। ভারতে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগকে এই হত্যার দায়ে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আকিব হাসান বলেন, ‘হাদি ভাই, আপনার রক্তের কসম, আমাদের লড়াই চলবে। আমরা প্রতিটি ফোঁটা রক্তের বদলা নেব। আমরা এ দেশে আবার ইনসাফ কায়েম করব।’
এছাড়াও বিক্ষোভে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
