Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজধানী

দক্ষিণখানে নির্মাণ কাজে বাধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

Advertisement

Icon

উত্তরা পশ্চিম (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩ এএম

দক্ষিণখানে নির্মাণ কাজে বাধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

Advertisement

রাজধানীর দক্ষিণখানে নির্মাণ কাজে বাধা ও ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মো. মোখলেছুর রহমান (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিক শান্তনা রহমান বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোমবার দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণখান থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দক্ষিণখান থানার নিকটবর্তী ডিএনসিসির ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফায়দাবাদ গণকবরস্থান এলাকার বাজারের পাশে নিজের মালিকানাধীন জমিতে ঠিকাদারকে সঙ্গে নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করতে যান জমির মালিক শান্তনা রহমান। এ সময় ঘটনাস্থলে এসে নিজেকে জমির কথিত মালিক দাবি করে নির্মাণ কাজে বাধা দেন মোখলেছুর এবং জমির মালিক শান্তনা রহমানের কাছে তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। অন্যথায় শান্তনা রহমান ও তার স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় মোখলেছুর। বিষয়টি নিয়ে সর্বশেষ গত শনিবার এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকের দিন তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত বৈঠকে আসেননি মোখলেছুর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি কেনাবেচায় জড়িত। গত কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে এলাকার আশপাশের জমির মালিকদের সঙ্গে বিবাদে জড়াচ্ছেন মোখলেছুর। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময় থেকে এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে মোখলেছুর। এ কাজে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি চক্রও গড়ে তুলেছেন তিনি।

দক্ষিণখান ফায়দাবাদ গণকবরস্থান এলাকায় ২০ বছর আগে মোখলেছুরের মধ্যস্থতায় জমি কিনে হয়রানির শিকার কাউসার আলম নামের এক জমির মালিক যুগান্তরকে জানান, এই এলাকায় মোখলেছই আমাকে জমি কিনে দিয়েছিল। তার কথামতো ২০০৭ সালে জমি কেনার কয়েক মাস পর জমিতে ঝামেলা আছে জানিয়ে সে আমাকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখায়। মোখলেছুর এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে এগুলোই করে আসছে। এতে আশপাশের সবাই আমরা অতিষ্ঠ।

ভুক্তভোগী শান্তনা রহমানের মালিকানা জমিসহ আশপাশের একাধিক প্লট বিক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ‘আমার বাবা কমরউদ্দিন ওই জায়গার মূল মালিক ছিলেন। ও (মোখলেছ) আমাদের বংশের কেউ না, কোন আত্মীয় স্বজনও না। ওই সম্পত্তি আমরা ওয়ারিশসূত্রে মালিক হই। পরে বিক্রি করে চলে গেছি। ওই প্লটের পশ্চিমের প্লট নিয়েও মোখলেছ ২/৩ বছর আগে এরকম ঝামেলা করছিল। পরে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর ও পালিয়েছে। একই কথা জানিয়েছে এলাকার বৃদ্ধ কাসেম মিয়া।’

এদিকে ভুক্তভোগী শান্তনা রহমানের কেনা জমির বিভিন্ন কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ মৌজার ওই জমি কেনাবেচার সময় মো. মোখলেছুর রহমান নিজেই স্বাক্ষী ছিলেন। দলিলে তার পিতা মৃত আ. হাকিম, মা মৃত খাতুন নেছার নামসহ মোখলেছুরের স্বাক্ষরও রয়েছে।

সূত্র জানায়, মোখলেছুর বর্তমানে নিজেকে ক্ষমতাসীন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীর আত্মীয়-স্বজন পরিচয়ে আশপাশের বিভিন্ন জমির মালিকদের হয়রানি করে আসছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল যুগান্তরকে জানায়, মোখলেছুর বিএনপির কেউ না। কোনো বিএনপি নেতার আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে এলাকায় অপকর্ম করলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। সে একটা দুষ্ট প্রকৃতির লোক।

অপরদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. মোখলেছুর রহমানের মোবাইলে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এক ভিডিও বার্তায় নিজেকে ওই জমির ১৯৫১ সালের মালিক দাবি করে মোখলেছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি জমির বায়নাকৃত মালিক। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রকৃত মালিক যদি আমি হই তাহলে আমি জমি পাব আর না হলে আমার কোন দাবি নাই। তবে বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদককে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।’

এ ব্যাপারে দক্ষিণখান থানার ওসি মো. শরীফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। জমিজমার বিষয় হলে অবশ্যই কাগজপত্রের দৃষ্টিতে সবাইকে কথা বলতে হবে। আমরা এলাকার নিরাপত্তা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সচেষ্ট আছি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম