Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজধানী

সভায় বক্তারা

ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০৪ এএম

ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়

‘ধর্ষণ ও নির্যাতন: আইনগত সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

Advertisement

ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতন বন্ধে আইনগত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনবিদ, মানবাধিকার কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগ বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। এ অপরাধ স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, পারিবারিক সদাচার এবং নৈতিক মূল্যবোধের জায়গায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ধর্ষণ ও নির্যাতন: আইনগত সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।  

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমাম আলী বলেন, ‘ধর্ষণ, নির্যাতন কিংবা যৌন হয়রানি—যে নামেই আমরা একে সংজ্ঞায়িত করি না কেন, এর মূল উৎস আমাদের সামাজিক অবক্ষয়। এটি রাতারাতি শুধু আইন দিয়ে বন্ধ করা যাবে না। সমাজ ও পরিবারের ভেতর থেকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। 

বিচার ব্যবস্থার নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘসূত্রতার চিত্র তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, আমরা এখনো পুরো সিস্টেম বা বিচারিক প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে পারিনি। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল হতে হবে। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব দূর করতে এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী সাক্ষ্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা জরুরি।   

মতবিনিময় সভায় বক্তারা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক তদন্তের অভাব এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তাই আইনি সুরক্ষাকে কার্যকর করতে হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ ও সংবেদনশীল হতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় ব্লাস্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত থেকে স্ব-স্ব মতামত তুলে ধরেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম