ডিএনসিসি প্রশাসক-এমপির ওপর হামলার অভিযোগ, কারখানার মালিকসহ আটক ২২
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর উত্তরখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে উত্তেজনার মুখে পড়েন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
এ ঘটনায় নেপচুন অ্যাকসেসরিজ নামে একটি পোশাক কারখানার মালিক কর্নেল (অব.) জাকিরসহ ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে উত্তরখানের রাজাবাড়ী এলাকার অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সকালে ডিএনসিসির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাবাড়ী এসটিএসে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে পাশের নেপচুন অ্যাকসেসরিজ পোশাক কারখানার কিছু শ্রমিকের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় পোশাক কারখানার মালিক কর্নেল (অব.) জাকিরের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ তাকে আটক করে।
ঘটনার পর বিকালে ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের ‘সন্ত্রাসী’রা অতর্কিত হামলা চালায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকালে নেপচুন অ্যাকসেসরিজের মালিকপক্ষের লোকজন এসটিএসে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডিএনসিসির দাবি, পরে প্রশাসক ও সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় মালিকপক্ষের ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসী’রা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।
ঘটনার পর ডিএনসিসির প্রশাসক ও সংসদ সদস্য কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। সেখানে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উত্তরখান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হামলার ঘটনায় নেপচুন অ্যাকসেসরিজের মালিকসহ ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ডিএনসিসির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
