Logo
Logo
×
   

রাজধানী

মালিবাগ ফরচুন মার্কেটে চাঁদাবাজির নাটক

পকেটে ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

পকেটে ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

রাজধানীর মালিবাগে চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়ে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট দখল কেন্দ্র করে মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। 

যুগান্তরের হাতে আসা এ সংক্রান্ত সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে কয়েকজন ব্যক্তি ধরে টানাহেঁচড়া করছে। এর একপর্যায়ে ইসমাইলের পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেন তারা। 

ওই সময়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে কিছু পুলিশও অপেক্ষমাণ ছিল। তারা একটু পর ঘটনাস্থলে এসে ইসমাইলের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখায়। শুধু তাই নয়, নাটকীয় এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দিয়ে দেয় পুলিশ। কথিত চাঁদাবাজির মামলায় নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে ইসমাইলকে।

পুলিশের দাবি, ইসমাইলের পকেটে কে মাদক দিয়েছে, সেটি তদন্তের বিষয়। তার কাছ থেকে মাদক পাওয়ায় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসমাইলের পরিবারের অভিযোগ, তাকে ফাঁসিয়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মালিবাগ ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, ইসমাইল হোসেন তার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে ইমতিশাকে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরছিলেন। মার্কেটের নিচে আসার পর মাস্ক পরা কয়েকজন লোক তাকে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখো যায়, তারা ইসমাইলকে ধরে রাখার পাশাপাশি একজনকে তার পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে ফুটেজের মিল রয়েছে।

এদিকে, পকেটে ইয়াবা ঢুকয়ে দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টার কিছুক্ষণ পরই রমনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসমাইলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, তার প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।

এর আগে বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা হয়। একই মার্কেটের ফ্ল্যাট মালিক জাবেদ রায়হান মামলাটি করেন। 

এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ জুলাই মার্কেটের সামনে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ-সদস্য মির্জা আব্বাসের সুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন করতে চাইলে মার্কেট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

মামলায় ইসমাইল হোসেন ছাড়াও সমিতির আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বিষয়ে জানতে বাদী জাবেদ রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই মো. উজ্জ্বলের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে ইসমাইলের বড় ভাই মো. খোরশেদ আলম বাবুল বলেন, ফরচুন শপিংমলে দুটি পক্ষ রয়েছে। শ্যাম দুলাল ও নাসির উদ্দিন দুলাল দীর্ঘদিন ধরে জালদলিল তৈরি করে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কমপ্লেক্সের অন্যরা একজোট হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা সমিতির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে না পেরে ইসমাইলকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করছেন। 

তিনি আরও বলেন, মেয়ে ইমতিশাকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাসায় ফেরার সময় আমার ভাই ইসমাইলের সঙ্গে কয়েকজন ধস্তাধস্তি করেন। এসময় তারা তার পকেটে কিছু ঢুকিয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করলেও যারা ধস্তাধস্তি করেছিল, তাদের কাউকে আটক করা হয়নি। এতে ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। 

ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ইমতিশা বলেন, বাবার সঙ্গে ইবনে সিনা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। বাসায় ফেরার সময় আমি কিছুটা সামনে চলে যাই। হঠাৎ বাবার চিৎকার শুনে পেছনে ফিরে দেখি, কয়েকজন লোক বাবাকে ধরে রেখেছে। আমি বাবাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করি। এ সময় আমার হাতেও ব্যথা লাগে। তারা বাবাকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয় এবং একপর্যায়ে বাবার জামা খুলে যায়। তাদের একজন বাবার পকেটে কী যেন ঢুকিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। 

মার্কেট দখল নিয়ে বিরোধ : স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন দুলাল, তার পরিবারের সদস্য এবং তৎকালীন সমিতির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দোকান দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুলালসহ তার দোসররা পালিয়ে গেলে মার্কেট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। এরপর রমনা থানা বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মার্কেট দখলের অভিযোগ ওঠে। ইসমাইলসহ সমিতির অন্য সদস্যরা এতে বাধা দিলে বিরোধ আরও বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি মো. ইয়াসিন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, মামলার অভিযোগের বিষয়টি চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনা। ইসমাইলকে গ্রেফতারের সময় বডি সার্চ করে এসআই মো. উজ্জ্বল তার প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা পেয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগতভাবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে ইসমাইলের পকেটে কেউ মাদক ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ আমরাও দেখেছি। তবে সেখানে কেউ ইসমাইলের কাছে মাদক দিয়েছেÑএমন সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক সময় বিভিন্ন অভিযোগ আসে। কারও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইসমাইলকে ধরে নিয়ে ইয়াবা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই।

 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .