Logo
Logo
×
   

রাজধানী

মেয়ের বিয়ে দিতে পারলেন না ইসমাইল

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

মেয়ের বিয়ে দিতে পারলেন না ইসমাইল

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশের মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেন (৫০) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে নয়টার দিকে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

ইসমাইল জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আগে গাজীপুরের ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে ৯ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে কিছুদিন কাশিমপুরে ছিলেন। চার মাস আগে স্থায়ীভাবে জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। তবে তার স্ত্রী, মেয়ে, ও ছেলে পরিবারসহ গাজীপুরে থাকেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান গণমাধ্যকে জানান, ছোট বোনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার জন্যই বাবা গ্রাম থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিল জমি বিক্রির অবশিষ্ট প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। সঙ্গে ছিল অ্যান্ড্রয়েড ও বাটন মোবাইল। লাশ উদ্ধারের পর এসবের কিছুই পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ তার বাবার ফোনে কথা হয়। তার বাবা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে জামালপুর থেকে রওনা দেন। সকালে তার গাজীপুরের জিরানীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। সেই সময় অনুযায়ী তিনি বাবাকে আনতে চান। বাবার মোবাইলফোনে ফোন দিতে থাকেন তা বন্ধ পান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বনানী থানা থেকে তাদের গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকেই তারা বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। 

হাসান জানান, তার বাবা বোনের বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। সেই টাকা থেকে আগের দুই লাখ টাকার ঋণ শোধ করেন। গ্রামের বাড়িতে একটি ঘরও তোলেন কিছু টাকা দিয়ে। সবকিছু শেষে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা তার কাছে ছিল।

শুক্রবার রাতে বনানী থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি (ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন কয়েকটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সন্দেহভাজন গাড়িগুলোর যেকোনো একটি থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গাড়িগুলো আটক করা গেলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম