Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজধানী

এসআই আলতাফ হত্যা: মূলহোতাসহ আরও ৮ আসামি গ্রেফতার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

এসআই আলতাফ হত্যা: মূলহোতাসহ আরও ৮ আসামি গ্রেফতার

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আরও আট আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার আটজনের মধ্যে র‌্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জের লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে চারজন এবং র‌্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন—আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।

এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে আপন কিশোর গ্যাংয়ের একজন দলনেতা ও মাদক সরবরাহকারী। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গত ৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একটি অটোরিকশা গ্যারেজে গাড়ি রাখা নিয়ে গ্যারেজ মালিক এক বৃদ্ধকে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ও তার সহযোগীরা মারধর করছিলেন। বিষয়টি দেখে আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আলতাফ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা হামলা চালানো থেকে বিরত হয়নি। জীবন বাঁচাতে তিনি তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে সেখানে যায় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে।

পরে হামলাকারীরা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময়ে র‌্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, আপনই এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা। হামলার সময় সে স্টিলের পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেনের মাথায় আঘাত করে। আর জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি ঝামেলা মীমাংসা করতে মানবিক বিবেচনায় সেখানে গিয়েছিলেন এসআই আলতাফ। কিন্তু হামলাকারীরা তার কোনো কথা শোনেনি। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন। ঘটনার সময় সব আসামিই মাদকাসক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম