স্ত্রীকে হত্যা পর লাশ গোসল করান স্বামী, দেন শ্বশুরবাড়িতে খবর
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সানজিদা আক্তারকে (২০) মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী শুকরান এসএম শান্তর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর শান্ত নিজেই কুমিল্লায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বাসায় এসে দেখতে পান, স্বামী নিজেই স্ত্রীর লাশ গোসল করাচ্ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পূর্ব শেওড়াপাড়ার অরবিট গলি ৯৫১/১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে সানজিদার সঙ্গে শান্তর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। তারা পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।
রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শান্তর মারধরে সানজিদা মারা যান। পরে শান্ত নিজেই কুমিল্লায় থাকা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফোন করে সানজিদার মৃত্যুর খবর জানান।
সোমবার সকালে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় এসে ওই বাসায় দেখতে পান, সানজিদার লাশ স্বামী শান্ত নিজেই গোসল করাচ্ছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কাফরুল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সময় অভিযুক্ত শান্তকে গ্রেফতার করা হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, স্বামীর শারীরিক নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বামী নিজেই পরিবারের সদস্যদের জানান। নিহতের পরিবারের লোকজন ঢাকায় এসে দেখতে পান, ফ্ল্যাটের ভেতরে স্বামীই স্ত্রীর লাশ গোসল করাচ্ছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
সানজিদা আক্তার কুমিল্লার দক্ষিণ ভঙ্গুর উপজেলার হিরাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে শুকরান এসএম শান্তর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা ঢাকায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ জানায়, স্বামী শান্ত বেকার ছিলেন। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সানজিদার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
