‘সরকারি চাকরি’ পেয়ে অফিসে গেলেন সবুজ, অতঃপর...
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি চাকরির নামে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওয়ারী বিভাগ।
গ্রেফতাররা হলেন- মূলহোতা নিশীত সাহা ওরফে রুবেল (৩২), মো. মিজানুর রহমান মিজান (৫০) ও মো. রিংকু হোসেন (৩২)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চক্রটির মূলহোতা নিশীত সাহা নিজেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের পিএস এবং আসামি মিজানুর রহমান নিজেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ের আড়ালে তারা মো. সবুজ সরকার (২৯) নামের এক ভুক্তভোগীকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ভুক্তভোগীর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে চক্রটি তাকে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৪র্থ তলায় নিয়ে যায় এবং সরকারি সিলযুক্ত ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র ও একটি আইডি কার্ড দেয়। চাকরি চূড়ান্ত হয়েছে নিশ্চিত করে বিভিন্ন সময়ে দুটি মোবাইল ব্যাংকিং ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এমনকি প্রতারণার সততা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত একটি সবুজ কভারের ভুয়া হাজিরা খাতায় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নিত। পরবর্তীকালে ভুক্তভোগী সবুজ সরকার ওই নিয়োগ আদেশ ও আইডি কার্ড নিয়ে ভূমি অফিসে গেলে জানতে পারেন যে কাগজপত্রগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পল্লবী থানায় ভুক্তভোগী মামলা করলে গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ পল্লবী থানার আধুনিক রোড এলাকা থেকে প্রথমে চক্রের সদস্য বাবলুকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যে সাভার ও বাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা নিশীত সাহা, মিজানুর রহমান ও রিংকু হোসেনকে গ্রেফতার করে।
জানা গেছে, চক্রটির মাধ্যমে নীলফামারীর শাহারিয়ার ইসলাম ফজল, বগুড়া সদরের মো. আমানু ইসলাম এবং টাঙ্গাইলের মো. আসরাফুল ইসলাম নামের আরও তিন চাকরিপ্রার্থী প্রতারিত হয়েছেন। চক্রটি তাদেরকেও ভূমি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার’ পদে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়েছে।
