Logo
Logo
×
   

Advertisement

রাজধানী

মেট্রোরেল: জাপাননির্ভর কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিশেষজ্ঞরা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ এএম

মেট্রোরেল: জাপাননির্ভর কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিশেষজ্ঞরা

সংগৃহীত

Advertisement

রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সরকার একসঙ্গে তিনটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন করলেও এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই একক নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে একটিমাত্র দেশের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়াকে সংকুচিত করে ফেলতে পারে।

বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া তিনটি মেট্রো প্রকল্পের মধ্যে এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)—এই দুটির প্রধান অর্থায়নকারী জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। দুই প্রকল্প মিলিয়ে জাপানি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি—এমআরটি-১-এ ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং এমআরটি-৫ (উত্তর)-এ ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

শুধু অর্থায়ন নয়, নির্মাণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এই নির্ভরতা স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, মেট্রোরেলের দরপত্র প্রক্রিয়া ক্রমেই সীমিত টেন্ডারিংয়ের দিকে চলে যাচ্ছে, কারণ প্রকল্পের নকশা এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে এবং ঠিকাদারদের এমন নির্দিষ্ট নির্মাণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে, যা মূলত জাপানি পেটেন্ট বা বিশেষায়িত প্রযুক্তিনির্ভর। ফলে এই ধরনের কাজ করার সক্ষমতা মূলত জাপানি ঠিকাদারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। তিনি ঢাকায় বিভিন্ন অর্থায়ন চুক্তির অধীনে বাস্তবায়নাধীন মেট্রো প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

তুলনামূলকভাবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে তৃতীয় প্রকল্প এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ)-এ, যেখানে অর্থায়নে যুক্ত হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া। এই প্রকল্পের মোট ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থ ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ, বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আসছে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে। অর্থাৎ একই সময়ে অনুমোদিত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে একটিতে অর্থায়নকারী একাধিক, বাকি দুটিতে কার্যত একক দেশনির্ভর কাঠামো তৈরি হয়েছে।

এই একক নির্ভরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যয় বৃদ্ধির প্রশ্নও। এমআরটি-১ ও এমআরটি-৫ (উত্তর)—জাপানি অর্থায়নে পরিচালিত এই দুই প্রকল্পেই মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় সমান হারে—যথাক্রমে ১১৭.৬৪ শতাংশ ও ১১৭.৮৭ শতাংশ। দুই প্রকল্প মিলিয়ে বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

নির্দিষ্ট একটি দেশের প্রযুক্তি ও ঋণের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে দর-কষাকষির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা প্রযুক্তি হালনাগাদের ক্ষেত্রেও একই নির্ভরতা অব্যাহত থাকার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম