রাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টায় আটক ১
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টায় আটক আমিনুল ইসলাম শাওন (৩২)।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পার্কিং করে রাখা বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় আমিনুল ইসলাম শাওন (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা, বাসচালক-হেলপার ও পুলিশ সদস্যরা মিলে তাকে আটক করে লালবাগ থানায় সোপর্দ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরও ১৫-২০ জন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আজিমপুর মোড় সংলগ্ন স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদের বিপরীত পাশে বিশতলা ভবনের ২ নম্বর গেটের সামনে সড়কের ওপর বিভিন্ন কোম্পানির পার্কিং করে রাখা গণপরিবহণে আগুন দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে কয়েকজন অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে তারা পলিথিনের কাগজে আগুন ধরিয়ে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা ১৫-২০ জনের মধ্যে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা একজনকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আমিনুলের স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের বেপারীপাড়া আন্নাবাদ এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত জামাল উদ্দিন এবং মায়ের নাম শাহীন আক্তার। বর্তমানে সে লালবাগের জে এন সাহা রোডের ২৬৬/৫ নম্বর বাড়িতে, রহমত উল্লাহ হাই স্কুলের পাশে সেতু বেগমের বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকত।
রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালবাগ থানার ওসি মো. জামিল হোসেন।
ওসি জানান, আটক আমিনুল ইসলাম শাওনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শাওন নিজেকে যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে।
তিনি আরও বলেন, ০শাওনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেতু নামে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের এক নেত্রীর বাসায় সে থাকত। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সে ঢাকায় আসে। এরপর বাইক রাইডার হিসেবে অবস্থান করে। ঢাকায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাদের কাছ থেকে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার কথাও সে জানিয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সময় শাওন পলিথিনের প্যাকেটে আগুন ধরিয়ে হালকা আগুন তৈরি করে পার্কিংয়ে থাকা বাসে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেছিল। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তার সঙ্গে সরাসরি আরও পাঁচ-ছয়জন ছিল। এ ছাড়া আশপাশে তাদের সঙ্গে আরও ১০-১৫ জন অবস্থান করছিল। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পাওয়ার পর বাসে আগুন দেওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যায়।
ওসি জামিল হোসেন বলেন, স্থানীয় বাসচালক-হেলপার, এলাকার লোকজন ও পুলিশ সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শাওনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো বাস বা অন্য কোনো সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি বলেন, তাদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

