‘পুলিশ আমার মুখে হাসি এনে দিল’

  সৈয়দ আমানত আলী, আগারগাঁও প্রতিনিধি ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

উবার চালক শাহনাজ
স্কুটি পেয়ে আনন্দিত শাহনাজ। ছবি: যুগান্তর

অশ্রুর পরিবর্তে হাসি ফিরিয়ে দিল পুলিশ। পুলিশ যে চেষ্টা করলে অনেক কিছুই করতে পারে তার আরেকটি উদাহরণ হলো একটি স্কুটি উদ্ধারের মাধ্যমে। আর সেই কাজটি করেছেন তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

মঙ্গলবার উবারচালক শাহনাজ আক্তার পুতুলের স্কুটি চুরি হয়েছিল। সংগ্রামী সহজ-সরল এই নারীর একমাত্র উপার্জনের শেষ সম্বল তার তার স্কুটি প্রতারণা করে চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে গেল প্রতারক জনি উরফে জুবাইদুল (২৭)।

মিরপুর-১১ তে শাহনাজ ও তার দুই মেয়েকে নিয়ে এক সঙ্গে থাকেন। তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য বড় বোনের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ধার করে এই স্কুটিটি কেনেন। দুই সন্তানকে লেখাপড়া করান তার পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য তিনি অনলাইনভিত্তিক বাইক শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

হঠাৎ জনৈক এক ভদ্র লোকের সঙ্গে শ্যামলীতে পরিচয় হয়। নাম তার জনি, তাকে স্থায়ী কিছু কাস্টমার ধরে দেবে বলে জানান জনি।তারপর ফোন নম্বর নিয়ে ফোন করেন জনি। তাকে নিয়ে যান এয়ারপোর্ট সেখান থেকে অন্য আরেক জায়গায়।এভাবে ঘোরাতে থাকে শাহনাজকে নিয়ে।

এর পর দুপুরে শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের খামারবাড়ির রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে চা পান করতে করতে শাহনাজকে জনি বলে আমি তো অনেক হোন্ডা চালিয়েছি, স্কুটি কীভাবে চালায় দেখি বলে আর ফিরে আসেনি।

আর তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে ধরে না, একপর্যায়ে ফোন ধরে তাকে বলে আপনি ভুল নম্বরে ফোন দিয়েছেন।তারপর তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পরবর্তীতে তিনি মামলা (মামলা নং-১৪) করেন।

এর মধ্যে মিডিয়ায় এ সাহসী নারীর স্কুটি চুরি হওয়ার কথা প্রকাশ পায়।নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। রাতেই তার মোবাইল ট্রাকিং ও পরিবারের লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে স্কুটিসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম জোবাইদুল উরফে জনি। সে বরিশাল জেলার মুলাদি থানার চরলক্ষ্মীপুর হাওলাদার বাড়ির মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদের ছেলে।পরে তাকে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু তৈয়ব মো. আরিফ, শেরেবাংলা নগর থানার ওসি (পরিদর্শক) আবুল কালাম আজাদ, ওসি (অপারেশন) মো. আহাদ আলী।

এ ব্যাপার দুপুরে তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অতি দ্রুত প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করি। আর উদ্ধার হওয়া স্কুটিটি এই সাহসী নারীকে ফিরিয়ে দেই। সঙ্গে সে যে দুদিন বাইক রাইড করতে পারে নাই এ জন্য তার সন্তানদের জন্য সামন্য উপহার দেই।

এ বিষয়ে শাহনাজ আক্তার পুতুল সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ভারতের ক্রাইম সিরিয়ালের মতো পুলিশ আমার মুখে হাসি এনে দিল। পুলিশ যে চাইলে অসাধ্যকে সাধন করতে পারে তা আমার জানা ছিল না। এসব কথা বলার সময় তার মাথায় হেলমেটি ছিল।

তিনি বলেন, আমার হেলমেট মানে আমার স্কুটি আমার সঙ্গে আছে। স্কুটিটি পেয়ে তার মুখে হাসিতে ভরে উঠে। তখন স্কুটিটি তার ওড়না দিয়ে মুছতে ছিলেন।পাশেই দাঁড়িয়ে তার হাসিতে উপপুলিশ কমিশনারসহ সবাই আনন্দিত হয়ে উঠেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : শাহনাজের স্কুটি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×